গ্যালারিতে থাকবে হাততালির জোয়ার। কেন্দ্রে মাঠের ফুটবলাররা। হাততালি থাকবে আরেকজনের জন্য। ফুটবলারদের খেলার কৌশলটা বাতলে দেবেন যিনি। ফুটবল জগতে যে ভদ্রলোকদের পরিচিতি কোচ হিসেবে।
রাশিয়া বিশ্বকাপে মাঠ মাতাতে তারকার কমতি থাকবে না। তবে কোনো কোনো ডাগআউটেও নজর থাকবে সমর্থকদের, সংবাদ মাধ্যমগুলোর কড়া সমালোচনা বা প্রশংসা থাকবে যাদের জন্য বরাদ্দ। কী কৌশল নিচ্ছেন কোচরা, কীভাবে খেলাবেন শিষ্যদের- এসব বিষয় জানার জন্য আগ্রহের কমতি থাকবে না ফুটবলপ্রেমীদের।
ডাগআউটে কারা নজর কাড়তে পারেন এমন পাঁচ কোচকে নিয়ে এই আয়োজন-
টিটে(ব্রাজিল)
২০১৪ বিশ্বকাপে ফিলিপে লুইস স্কলারির বিপর্যয়ের পর সাবেক কোচ দুঙ্গার উপর দায়িত্ব সপে দিয়েছিল ব্রাজিলের ফুটবল কনফেডারেশন। দুঙ্গা ভরসার মূল্য রাখতে পারেননি। বরং তার আমলে বিশ্বকাপ বাছাইয়ের খাদে চলে গিয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বজয়ী দলটি। এরপরই দৃশ্যপটে টিটে।

টিটের হাত ধরে ব্রাজিল দলের রূপান্তর রীতিমত বিস্ময়কর! যে দল তলানিতে পড়ে ধুঁকছিল, সেই দলটিই বিশ্বকাপ বাছাই শেষ করেছে লাতিন অঞ্চলের শীর্ষে থেকে। সবার আগে টিকিট পেয়েছে রাশিয়ার। টিটের অধীনে বাছাইপর্বে ব্রাজিল হেরেছিল মাত্র একটি ম্যাচ। সবচেয়ে বড় পরিবর্তনটা হল, টিটে শিষ্যদের শিখিয়েছেন বিশেষ কারও উপর নির্ভরশীল না থেকে একটি দল হয়ে খেলতে। সেই টিটে তো আগ্রহের কেন্দ্রে থাকবেনই। সঙ্গে দলটি আবার নেইমারের ব্রাজিল।
দুঙ্গার আমলে অবসরে যাওয়া ‘জোগো বনিতা’কে ঠিকই ফিরিয়ে এনেছেন টিটে। তাতে এখনকার ব্রাজিল দলের খেলা শুধু আনন্দই দেয় না, যোগায় মনের খোরাকও। সেলেসাওদের বদলে দেয়া ‘নিপাট ভদ্রলোক’ টিটের দিকে এবার প্রত্যাশার চাপের সঙ্গে কড়া নজর থাকবে তা বলাই বাহুল্য।
হোর্হে সাম্পাওলি (আর্জেন্টিনা)
বিশ্বকাপের আগে থেকেই সবার নজরে আছেন সাম্পাওলি। যে দলটিতে খেলেন লিওনেল মেসি, আলোচনায় আসার জন্য সেই দলের কোচের আর কোনো কারণ লাগে না। তবে কৌশল সাজানো নিয়ে কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার সমালোচনার কেন্দ্রে থেকেও বারবার আলোচনায় এসেছেন সেভিয়ার সাবেক এ কোচ। আলবিসিলেস্তেদের বিশ্বকাপে এনেছেন ঠিকই, তবে যতটা সাম্পাওলির কোচিং গুণে, তার চেয়ে বেশি মেসির কল্যাণেই এবারের বিশ্বমঞ্চে গতবারের রানার্সআপ দলটি।

৫৮ বছর বয়সী সাম্পাওলি ভালো করেই জানেন আর্জেন্টিনাকে বিশ্বকাপ জেতাতে হলে সঠিকভাবে খেলাতে হবে মেসিকে। তাই মেসিকে তার মতো করেই খেলার স্বাধীনতা দিয়েছেন সাম্পাওলি। তবে বিষয়টা ‘জলবৎ তরলং’, মেসি না জ্বললে সাম্পাওলি পাদপ্রদীপে আসবেন কিন্তু অন্যভাবে, সেটা নেতিবাচক ভাবে! সেটা নিশ্চয় চাইবেন না এ আর্জেন্টাইন।
হুলেন লোপেত্তেগি (স্পেন)
২০১৬ ইউরোতে ইতালির কাছে হেরে দ্বিতীয় রাউন্ডেই বাদ পড়ার পর স্প্যানিশদের নতুন শুরুর জন্য ডাক পড়ে লোপেত্তেগির। ভিসেন্তে ডেল বস্কের উত্তরসূরি হওয়ার মত যোগ্যতা তার ছিল কিনা এমন প্রশ্নে পক্ষে খুব কম শুভাকাঙ্ক্ষীকেই পেয়েছিলেন লোপেত্তেগি।

দুই বছর পার হওয়ার পর লা রোজাদের কোচ হওয়ার মতো যোগ্যতা আছে কিনা এমন প্রশ্ন যদি ওঠেই, তবে লোপেত্তেগির বিপক্ষে যাবেন খুব কম ফুটবলবোদ্ধাই। এবারের স্পেন যেন ঠিক ২০১০ সালের বিশ্বকাপজয়ী দলটির মতই ক্ষীপ্র। বিশ্বকাপের অন্যতম ফেভারিট দলতো অবশ্যই। একঝাঁক তারকাকে কী কৌশলে নাচান, সেটা দেখতে লোপেত্তেগির দিকে নজর আটকে যাবেই।
দিদিয়ের দেশম (ফ্রান্স)
সবচেয়ে দামি দল নিয়ে এবারের বিশ্বকাপে এসেছেন। দিদিয়ের দেশমের দিকে নজর না যাওয়াটাই তো অস্বাভাবিক! শেষ দুই বিশ্বকাপে ধুঁকেছে ফরাসিরা। এবার দৃশ্যটা পুরোপুরি ভিন্ন। দলে রীতিমত প্রতিভা আর তারকার ছড়াছড়ি। পল পগবা, উসমানে ডেম্বেলে, অ্যান্টনে গ্রিজম্যান প্রত্যেকেই যেন বলছেন- আমায় দেখ, আমায় নজরে রাখো!

দেশমের সামনেও থাকছে দারুণ এক কীর্তি গড়ার সুযোগ। ফ্রাঞ্চ বেকেনবাওয়ারের পর দ্বিতীয় ব্যক্তি হিসেবে অধিনায়ক ও কোচ হয়ে বিশ্বকাপ জেতার সুযোগ। ১৯৯৮ সালে তার হাতেই উঠেছিল ফ্রান্সের একমাত্র বিশ্বকাপ শিরোপা!
রবার্তো মার্টিনেজ (বেলজিয়াম)
৪৪ বছর বয়সী মার্টিনেজ বেলজিয়ামের দায়িত্ব নেন ২০১৬ সালে। কোচ হয়েই বেলজিয়ামকে বাছাইপর্বে অপরাজিত রেখে বিশ্বকাপের মূলপর্বে তুলেছেন। বেলজিয়ামের সোনালী সময়ের দলটিকে কতদূর নিয়ে যেতে পারেন এ স্প্যানিশ কোচ সেটা জানতে অপেক্ষা ফুটবলবোদ্ধা থেকে প্রেমীদের।









