বিদ্রোহী কবি নজরুল ইসলামে জন্মতিথিতে শান্তি নিকেতনে উদ্বোধন হয়েছে বাংলাদেশ ভবন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উদ্বোধন করেছেন বাংলাদেশ ভবন
১৮৬৩ সালে আশ্রম হিসেবে শান্তিনিকেতনের যাত্রা শুরু। রায়পুরের জমিদার ভুবনমোহন সিনহার কাছ থেকে বিশ বিঘা জমি কিনে মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এটি প্রতিষ্ঠা করেন। পশ্চিম বাংলার বীরভূম জেলার বোলপুরের কাছে এই আশ্রম অবস্থিত। জাগতিক করণীয় কর্ম থেকে মুক্ত হয়ে প্রার্থনায় সময় কাটানোর জন্য গৃহী ব্যক্তিদের নির্জন আশ্রয় দান করা ছিল এই আশ্রমের উদ্দেশ্য।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের শেষে এটি বিশ্বভারতীতে রূপান্তরিত হয়। শান্তিনিকেতন আশ্রমে প্রতিষ্ঠিত শান্তিনিকেতন স্কুল এবং বিশ্বভারতী মিলে গড়ে উঠেছে শিক্ষা সম্পর্কে রবীন্দ্রনাথের চিন্তাভাবনার সমগ্রতা। ১৮৬৩ সালে শান্তিনিকেতন আশ্রম, ১৯০১ সালে স্কুল এবং ১৯২১ সালে বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠিত হলেও এগুলি আলাদা ও বিচ্ছিন্ন প্রতিষ্ঠান ছিল না। এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শুধু বিশ্বখ্যাত চিত্রকর লেখক গায়ক গায়িকা বের হননি নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেনের প্রাথমিক শিক্ষা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীও এই প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করেছেন।
বাংলাদেশের অর্থায়নে নির্মিত চার হাজার ১০০ বর্গ মিটারের এই ‘বাংলাদেশ ভবন’-এ রয়েছে দুটি সেমিনার হল, একটি লাইব্রেরি, একটি জাদুঘর, একটি স্টাডি সেন্টার, একটি ক্যাফেটারিয়া এবং ৪৫৩ আসন বিশিষ্ট একটি অত্যাধুনিক অডিটোরিয়াম।
বাংলাদেশ ভবনের পুরো দায়িত্ব বিশ্বভারতী কর্তৃপক্ষকে দেয়া হলেও জাদুঘর এবং লাইব্রেরি বাংলােদেশের তত্ত্বাবধানে রাখা হবে বলে জানিয়েছিলেন আসাদুজ্জামান নূর।
জাদুঘরটিতে ছবির সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে গেলেও ‘বাংলাদেশ ভবন’-এর লাইব্রেরিতে এখন পর্যন্ত সাড়ে তিন হাজার বই স্থান পেয়েছে। তবে এই লাইব্রেরিতে কমপক্ষে ১০ হাজার বই রাখার ব্যবস্থা করা হবে। ‘বাংলাদেশ ভবন’-এর জাদুঘরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলাম ছাড়াও জাতীয় নেতাদের ছবি স্থান পেয়েছে।
এই ভবন উদ্বোধনের আগের রাত পর্যন্তও কাজে ব্যস্ত ছিলেন বাংলাদেশ থেকে আসা শিল্পী আর কর্মীরা। জাদুঘরটি চালু হয়েছে প্রায় ৪ হাজার বর্গফুট এলাকা নিয়ে। পরে এটিকে আরও বড় করার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সার্ধশত জন্মবার্ষিকীর স্মারক হিসেবে শান্তিনিকেতনে বাংলাদেশ ভবন নির্মাণের ইচ্ছা ব্যক্ত করেন। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২০১১ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সাক্ষরিত ‘ফ্রেমওয়ার্ক এগ্রিমেন্ট অন কো-অপারেশন ফর ডেভেলপমেন্ট’এ তার এই আগ্রহ লিখিতরূপে স্থান পায়। একমাত্র প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত আগ্রহ ও উদ্যোগে বাংলাদেশ ভবন প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
শান্তিনিকেতনের মত একটি আন্তর্জাতিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশ ভবন জাদুঘরটি বাংলাদেশকে আরো উচ্চতায় নিয়ে যাবে বলে আমরা আশা করি। বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের জন্মদিনে বিশ্বকবির শেষ ঠিকানায় বাংলাদেশ ভবন একটি নতুন যুগের সূচনা করবে আমাদের বৌদ্ধিক আন্দোলনে।








