বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর বিলুপ্ত হওয়া ১৬ ধারায় মামলা না করতে পুলিশ প্রধানকে নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
আইনটির ওই ধারার করা মামলার আসামিদের আগাম জামিন আবেদনের শুনানিতে সোমবার বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এই নির্দেশ দেন।
এই আদালতে সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. ইউসুফ মাহমুদ মোরসেদ বলেন, ‘১৯৯১ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৬ ধারাটা বাতিল হয়ে যায়। কিন্তু ভুলবশত দেশের বিভিন্ন থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনের এই ধারায় মামলা করা হচ্ছে। যেহেতু এই আইনের কোনো অস্তিত্বই নেই তাই এ আইনে মামলা নেওয়াটা বেআইনি। তাই আদালত বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ১৬ ধারায় মামলা না করতে পুলিশ প্রধানকে নির্দেশ দিয়েছেন।’
বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর ১৬(১) ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি ক্ষতিকর কোনো কার্য করিতে পারিবে না।’
আর বিলুপ্ত হওয়া ১৬(২) ধারায় বলা হয়েছে, ‘কোনো ব্যক্তি ক্ষতিকর কোনো কার্য করিলে ৫ (পাঁচ) বৎসর পর্যন্ত কারাদণ্ডে বা অর্থদণ্ডে বা উভয়বিধ দণ্ডে দণ্ডিত হইবেন।’
২০১৬ সালের ডিসেম্বরে আশুলিয়ায় পোশাক শ্রমিকদের একটি অংশ ১৫ হাজার টাকার ন্যূনতম বেতন নির্ধারণের দাবিতে আন্দোলনে প্রেক্ষাপটে বিজিএমইএ ৫৫টি কারখানা বন্ধের ঘোষণা করে। পরে ১৯ ডিসেম্বর শ্রমিক নেতারা ‘ষড়যন্ত্র’ বা অপরাধ সংঘটনের চক্রান্ত করেছেন – এই অভিযোগ এনে আশুলিয়ার পুলিশ ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের বিলুপ্ত হওয়া ১৬(২) ধারা প্রয়োগ করে ১৫ শ্রমিক নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করে।
ওই ঘটনায় সমাজতান্ত্রিক শ্রমিক ফ্রন্টের তৎকালীন দপ্তর সম্পাদক খালেকুজ্জামান লিপন তাদের অঙ্গ সংগঠনের গার্মেন্টস শ্রমিক ফ্রন্ট সাভার-আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল থানার সাধারণ সম্পাদক আহমেদ জীবনকে গ্রেপ্তারের বৈধতা চালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করেন।
ওই রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ১৭ জানুয়ারি বিচারপতি সৈয়দ রিফাত আহমেদ ও বিচারপতি মো. সেলিমের হাইকোর্ট বেঞ্চ পুলিশের গ্রেপ্তারের আদেশকে কেন আইনি এখতিয়ার বহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুলও জারি করেন।
এ বিষয়ে আজ (২৩ জুলাই) ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইউসুফ মাহমুদ মোরসেদ বলেন, ১৯৯০ সালে এরশাদের পতনের পর বিচারপতি সাহাবুদ্দীন আহমদ একটি অধ্যাদেশ দিয়ে চুয়াত্তরে হওয়া এই আইনের ১৬, ১৭ ও ১৮ ধারা বাতিল করেন। পরে বিএনপি তা ১৯৯১ সালের সংসদে পাস করে।
এরপর ২০০৭ সালে জরুরি অবস্থার মধ্যে ‘ক্ষতিকর ও ধ্বংসাত্মক’ (প্রধানত সরকার ও রাষ্ট্রবিরোধী) কাজ থেকে বিরত রাখতে ১৬ ধারাটি পুনরুজ্জীবিত করা হয়। এরপর ২০০৮ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সরকার গঠনের পর এই অধ্যাদেশসহ ১২২টি অধ্যাদেশ সংসদের প্রথম অধিবেশনে পেশ করা হয়, কিন্তু তা পাস হয়নি। ফলে বিশেষ ক্ষমতা আইনের ১৬, ১৭ ও ১৮ ধারা বাতিল অবস্থায়ই রয়ে যায়।







