নিউইয়র্কের ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমে বাংলাদেশ ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট হ্যাক
করে দশ কোটি ডলার লোপাট হওয়ার পরও দীর্ঘসময় বিষয়টি সম্পর্কে অজ্ঞাত ছিলো
দেশী গণমাধ্যম। দেশের আর্থিক খাতের এতো বড় একটি বিপর্যয়ের বিষয়টিতে
গণমাধ্যমকে অন্ধকারে রেখেই ফিলিপিন্সের সেন্ট্রাল ব্যাংকের সঙ্গে বৈঠক করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা। ফিলিপিন্সের বিভিন্ন পত্রিকা ‘দেশটির ব্যাংকিং ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মানি লন্ডারিং’ এর তথ্য প্রকাশ করলেই তা প্রথম গোচরে আসে বাংলাদেশের মানুষের।
বাংলাদেশের ইতিহাসেও বৃহত্তম সাইবার অপরাধের ঘটনাটি দীর্ঘসময় অগোচরে থাকাকে ‘বিরাট রহস্য’ বলে উল্লেখ করেছে বিবিসি। তবে অর্থ চুরি হওয়ার পর পরই বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা এ সম্পর্কে অবহিত হয়েছিলেন বলেও জানায় বিবিসি বাংলা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের দুই কর্মকর্তা ১৬ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি ফিলিপিন্সের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও দেশটির অ্যান্টি মানি লন্ডারিং কাউন্সিল (এএমএলসি) সঙ্গে বিশেষ বৈঠক করেন।
হ্যাক হওয়া টাকার মধ্যে শ্রীলঙ্কা থেকে ২০ মিলিয়ন ডলার ওই দেশের এন্টি মানি লন্ডারিং ইউনিটের মাধ্যমে নিয়ে আসা হয়েছে বলে চ্যানেল আই অনলাইনকে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক শুভঙ্কর সাহা। তিনি জানান, বাকি ৮১ মিলিয়ন ডলার ফেরত আনতে ওই দেশের এন্টি মানি লন্ডারিং ইউনিটের সাথে যোগাযোগ করে বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন আছে।
ফিলিপিন্সের ডেইলি ইনকোয়ারারসহ অন্যান্য পত্রিকা জানিয়েছে, এই অর্থ কেলেঙ্কারিতে ওই দেশের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকিং সিস্টেম জড়িত বলে জানিয়েছে। তারা জানায়, ব্যাংকটিতে গত মাসের ৫ তারিখে ৮১ মিলিয়ন ডলার ট্রান্সফার করা হয়।
ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংক অব নিউ ইয়র্ক থেকে প্রথমে অর্থ যায় যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি ব্যাংকে– ব্যাংক অব নিউইয়র্ক, সিটি ব্যাংক এবং ওয়েলস ফার্গো ব্যাংক। সেখান থেকে তারা ফিলিপিন্সের রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংকের মাকাটি শহরের শাখায় অর্থ পাঠায়। শাখাটির প্রধান কর্মকর্তা বিষয়টি উর্ধ্বতন ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের নজরে আনেন এবং এই লেনদেনের প্রত্যেকটি ধাপ সম্পর্কে ব্যাংকটির উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ আগাগোড়াই জানতেন বলে ফিলিপিন্সের গণমাধ্যম জানিয়েছে।
কিন্তু ওই ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা লোরেনযো ট্যান এই অভিযোগ অস্বীকার করছেন। ব্যাংকের তরফ থেকে দেয়া বিবৃতিতে এই অর্থ পাচারের ঘটনার সঙ্গে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাসও দেয়া হয়।
ফিলিপিন্সের ন্যাশনাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন এবং জুয়া ব্যবসার নিয়ন্ত্রক ‘এমিউজমেন্ট এন্ড গেমিং কর্পোরেশন’ ঘটনাটি এখন তদন্ত করে দেখছে।
ডেইলি ইনকোয়ারার পত্রিকা চুরি যাওয়া অর্থের হাতবদলের ক্রমধারা সম্পর্কে জানায়: রিজাল কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে এই অর্থ তাদের ক্লায়েন্টদের মাধ্যমে চলে যায় স্থানীয় এক ফরেন এক্সচেঞ্জ ব্যবসায়ীর কাছে। ৮১ মিলিয়ন মার্কিন ডলার স্থানীয় মুদ্রায় বিনিময়ের পর এই পরিমাণ দাঁড়ায় ৩৭০ কোটি পেসোতে। এরপর এই অর্থ চলে যায় তিনটি বড় ক্যাসিনোতে। এগুলো হচ্ছে সোলারি রিসোর্ট এন্ড ক্যাসিনো, সিটি অব ড্রিমস এবং মাইডাস।
পুরো অর্থ খরচ করে সেখানে জুয়া খেলার জন্য চিপস কেনা হয়েছে। এরপর সেই অর্থ পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে হংকং এর বিভিন্ন একাউন্টে।







