ফিসফাসটা আগে থেকেই ছিল। আগেরবার যখন শাস্ত্রীকে টপকে কুম্বলের হাতে ভারতের কোচের দায়িত্বটা গেল, গণমাধ্যম ফলাও করে জানাল গাঙ্গুলি-শাস্ত্রীর সম্পর্কের পেছনের দিকটা। যেখানে মিলছে না দুই সাবেকের, তাই চাকরিটাও ফসকে গেছে শাস্ত্রীর থেকে। প্রসঙ্গটা আবারো আলোয়, কিন্তু এবার জিতেছেন শাস্ত্রীই। কোহলিদের কোচের চাকরিটা পাবার পর অবশ্য গাঙ্গুলির দিকে শান্তির পতাকা ওড়াচ্ছেন তিনি। ওড়াবেনই না কেন, এই আলোচনা যে বিব্রত করছে বাঙালি বাবুকেও।
অনেক জল্পনা-কল্পনা আর নাটকের শেষে মঙ্গলবার কোহলিদের প্রধান কোচের পদটা দেয়া হয়েছে রবি শাস্ত্রীকে। নতুন দায়িত্বটা দুবছরের। লম্বা সময় পাবেন দল পরিচালনার। কিন্তু সেটাতে হাত দেয়ার আগেই শাস্ত্রীকে সামলাতে হচ্ছে পুরনো বিতর্কও। গাঙ্গুলি-টেন্ডুলকার-লক্ষ্মণকে নিয়ে গড়া বিসিসিআইয়ের ক্রিকেট উপদেষ্টা কমিটির অন্যতম সদস্য সৌরভ গাঙ্গুলির সঙ্গে পুরনো দ্বন্দ্বের বিতর্ক যে মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। তবে কৌশলী হয়ে উঠেছেন শাস্ত্রীও। ইঙ্গিত দিয়েছেন সব দ্বন্দ্ব অবসানেরও।
ইন্ডিয়া টুডেকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে কৌশলী শাস্ত্রীর উত্তর, ‘আমরা দুজনেই অধিনায়ক ছিলাম, আমাদের মধ্যে মতবিরোধ থাকতেই পারে। সবাই তো আর এক পথে হাঁটবে না। কিন্তু মৌলিক শ্রদ্ধাবোধটা অবশ্যই থাকবে।’
গাঙ্গুলির সঙ্গে শাস্ত্রীর দ্বন্দ্বের শুরুটা গত বছরে। কোচ নিয়োগ সাক্ষাৎকার নেয়ার সময় শাস্ত্রীর অনুপস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন প্রিন্স অব ক্যালকাটা। পরে উপদেষ্টা কমিটি অনিল কুম্বলেকে কোচের পদে নিয়োগ দেয়ায় গাঙ্গুলিকে প্রকাশ্যেই চাকরি না পাওয়ার জন্য দোষারোপ করেন শাস্ত্রী।
অনিল কুম্বলের বিদায়ের পর জুলাইয়ের ৩ তারিখ আবারও কোচের পদের জন্য আবেদন করেন শাস্ত্রী। এবারও সাক্ষাৎকারে সশরীরে উপস্থিত হননি। স্কাইপেতে কাজ চালিয়েছেন। তবে দেশটির গণমাধ্যম বলছে, ভারতীয় অধিনায়ক বিরাট কোহলিসহ দলের অনেক সিনিয়র খেলোয়াড় এবং উপদেষ্টা কমিটির বাকি সদস্যরা কোচ হিসেবে শাস্ত্রীকে চাওয়ায় পরীক্ষায় উতরে গেছেন তিনি।
তারপরও গণমাধ্যম শাস্ত্রী-গাঙ্গুলি বিতর্ক নিয়ে রসালো গল্প ফাঁদছে। শাস্ত্রীর শান্তির পতাকার পর গাঙ্গুলিও বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন। কোচের নাম আনুষ্ঠানিক ভাবে ঘোষণার পর বিব্রত বোধ করা গাঙ্গুলি ভাষ্য, ‘শুনতে খারাপ লাগে, সৌরভ বনাম রবি নামে একটা বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আমাকে এটা নিয়ে ভাবতে হবে, সিওএর সঙ্গে কথা বলতে হবে।’








