আগামী বছর টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপ। নির্বাচকরা বলছেন এবারের বিপিএল বিশ্বকাপ দল গঠনে রাখবে ভূমিকা। যারা ভালো করবেন, আসবেন বিবেচনায়। জাতীয় দলের বাইরে চলে যাওয়া উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান এনামুল হক বিজয় চাইছেন, বিপিএলে ভালো খেলে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বকাপের জন্য নিজেকে প্রস্তুত করতে।
‘আমার ব্যক্তিগতভাবে অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। দলের জয়ে কীভাবে ভূমিকা রাখবো, বিপিএল দিয়েই কিন্তু জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়েছিলাম, আবারও সেই চেষ্টা করবো যাতে এই বিপিএলে পারফর্ম করে জাতীয় দলের হয়ে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য তৈরি হতে পারি।’
বিপিএলে খুব ভালো খেলেছেন অথচ জাতীয় দলে সুযোগ আসেনি, এমন হয়েছে খুব কমই। বিজয় নিজেও বিপিএলের আবিষ্কার! অনূর্ধ্ব-১৯ দলের এই ক্রিকেটার সেসময় টি-টুয়েন্টি আসরে খেলেই চোখে পড়েছিলেন নির্বাচকদের। ২০১২ সালে প্রথম আসরে খুব ভালো করতে না পারলেও টি-টুয়েন্টি ও ওয়ানডে দলে সুযোগ পান। ২০১৩ বিপিএলে ১৪ ম্যাচে ৩৫৬ রান করে ঢাকা গ্ল্যাডিয়েটর্সকে শিরোপা জেতাতে এ ওপেনার রাখেন বড় অবদান।
২৬ বছর বয়সী বিজয় এবার খেলবেন আসরের সেরা দল ঢাকা প্লাটুনে। দেশি-বিদেশি তারকা ক্রিকেটারে বেশ ভারসাম্যপূর্ণ ঢাকা। বিজয়ের ভাষায় দলটি ‘অসাধারণ, দারুণ’।
‘আসলে আমাদের ঢাকা প্লাটুনের অসাধারণ, দারুণ একটা টিম হয়েছে। দেশসেরা ওপেনার তামিম ইকবাল আছেন, টেস্ট ক্যাপ্টেন মুমিনুল হক আছেন। মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার মতো এতো বড় একজন লিডার আছেন। সালাউদ্দিন স্যারের মতো কোচ আছেন। শহিদ আফ্রিদি-থিসারা পেরেরা-ওয়াহাব রিয়াজ, আমার মনে হয় আমাদের কাছে ভালো একটা দল আছে। ঘরোয়ায় ভালো করা রকিবুল হাসান আছে, আরিফুল হক আছে। আমার কাছে মনে হয় দারুণ একটা টিম, যে টিমে খুব স্বাচ্ছন্দ্যে খেলা যাবে, নিজেদের মতো করে খেলা যাবে। আমার কাছে মনে হয় ঢাকা ঢাকার মতোই টিম হয়েছে।’
১১ ডিসেম্বর শুরু হবে বিপিএলের সপ্তম আসর। আনুষ্ঠানিক অনুশীলন শুরু হবে ৪ ডিসেম্বর থেকে। তবে ঢাকা প্লাটুনের ক্রিকেটার মাশরাফী, তামিম, মুমিনুল অনুশীলন শুরু করে দিয়েছেন আগেভাগেই। রোববার মিরপুরের একাডেমি মাঠে তাদের সঙ্গে যোগ দেন বিজয়-আরিফুলরা।
এবার বিপিএল হচ্ছে বিসিবির ব্যবস্থাপনা ও পরিচালনায়। রাখা হয়নি কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজি। সপ্তম আসরকে বিশেষীকরণ করে নাম দেয়া হয়েছে বঙ্গবন্ধু বিপিএল। সাতটি দলকে পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছেন একজন করে বোর্ড পরিচালক।
প্রচলিত রীতির বাইরে গিয়ে বিপিএল করায় জৌলুস কমে যাবে কিনা, এ প্রশ্নের জবাবে বিজয় শোনালেন ইতিবাচক উপলব্ধির কথা, ‘আসলে আমার কাছে মনে হয় উন্মাদনা একইরকম থাকবে। বিপিএল মানেই আলাদা এক উত্তেজনা দেশের প্রতিটা ক্রিকেটভক্তের জন্য। তারা খেলা দেখতে আসে, খেলা উপভোগ করতে আসে। আমার কাছে মনে হয় এটার কোনো পরিবর্তন হবে না। আমরা যারা খেলোয়াড় আছি তারা খুব রোমাঞ্চিত। আমাদের সাথে সাথে যারা দর্শক আছে, যারা ক্রিকেট পছন্দ করে, সবারই উৎসাহ থাকবে।’








