সিলেট থেকে: অন্যান্য দিনের চেয়ে সিলেটবাসীর জন্য শনিবার দিনটা একটু ভিন্ন। ব্যস্তু মানুষগুলো ছুটছেন নিজ নিজ কাজে। এরই মাঝে দেখা গেল ক্রিকেটভক্তরা ছুটছেন মাঠ পানে। শহরের প্রাণকেন্দ্র জিন্দাবাজার থেকে ৩ কিলোমিটার দূরে লাক্কাতুরার দিকে ছুটছেন শত শত তরুণ। লাক্কাতুরা চা বাগান এলাকাতে সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম। এখানেই চার-ছক্কার উৎসব বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) গড়ানোর ঘণ্টা কয়েকের অপেক্ষা।
১২টায় দর্শকদের প্রবেশের জন্য খোলা হয় স্টেডিয়ামের গেট। সকাল ১০টা থেকে প্রত্যেকটা গেটে দর্শকদের জটলা। ১৫০০ একর জমির উপর প্রতিষ্ঠিত স্টেডিয়ামজুড়ে বইছে উৎসবের আমেজ।
১৭ বছর আগে মাটির টিলা, চা বাগানে ঘেরা পাড়ার মাঠটি এখন রূপ নিয়েছে অপরূপ এক স্টেডিয়ামে। গ্র্যান্ড-স্ট্যান্ডের সৌন্দর্য, সবুজে ঘেরা গ্যালারি। চোখ যতদূর যায় সবুজ আর সুবজ। নীরবতা ভেঙে স্টেডিয়ামের ডিসপেনসারি গেট, পীরমহল্লা গেট, বাদামবাগিচা গেট ও লাক্কাতুরা দর্শকদের হৈ-হুল্লা। নিরাপত্তাকর্মীদেরও সতর্কতা।
গেটের বাইরে বাংলাদেশ ও বিপিএল টিমগুলোর হরেক পতাকা বিক্রি করতে বসে গেছেন অনেকে। স্টেডিয়ামের একপাশে উদ্বোধনের বেলুন ফোলাচ্ছেন বিপিএল আয়োজনের সঙ্গে থাকা কর্মীরা। মাঠে পৃষ্ঠপোষক প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ডিংয়ের কাজে ব্যস্ত কয়েকজন। খেলা ব্রডকাস্টিংয়ের জন্য ব্যস্ত প্রোডাকশন কর্মীরা।
দুপুর ২টায় বিপিএলের উদ্বোধনী ম্যাচে লড়বে নাসির হোসেনের সিলেট সিক্সার্স ও সাকিব আল হাসানের ঢাকা ডায়নামাইটস। বিপিএল উদ্বোধনে থাকবেন সিলেটবাসীর গর্ব অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপনসহ বেশ কয়েকজন বোর্ড পরিচালক বিমানযোগে রওনা হয়েছে সিলেটের উদ্দেশে।
বিপিএল ঘিরে সিলেটে উৎসবের আমেজ বিরাজ করলেও যারা প্রথমদিনের খেলা দেখার টিকিট সংগ্রহ করতে পারেননি তাদের মধ্যে আছে হতাশা, দ্বীর্ঘশ্বাস। টিকিট না পাওয়ার আক্ষেপের কথা শোনা গেছে অনেক মানুষের মুখে।
সিলেটে আন্তর্জাতিক ম্যাচ না হওয়ায় সাকিব-তামিম-মাশরাফী-মুশফিকদের কাছ থেকে দেখার সুযোগ থাকে না। বিপিএলের মাধ্যমে যেটি মেটাতে চেয়েছিলেন তারা। ১৮ হাজার দর্শক ধারণক্ষমতার এই স্টেডিয়ামে খেলা দেখার জন্য টিকিট সংগ্রহ করতে পেরেছেন অল্পসংখ্যক সাধারণ দর্শক।








