কৃষ্ণসাগরে বিধ্বস্ত রাশিয়ার সামরিক বিমানের ৯২ জন আরোহীর কেউই বেঁচে নেই। ৯ সাংবাদিকসহ আরোহীদের সকলেই নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়। উদ্ধার অভিযানে বেশকিছু মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।
নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে একদিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করেছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে একটি কমিশন গঠন করে ঘটনা তদন্তের নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
রাশিয়ার মস্কো থেকে যাত্রা করে সামরিক বাহিনীর টিইউ-ওয়ান ফাইভ ফোর। কৃষ্ণসাগরের কাছের শহর সোচির অ্যাডলার বিমানবন্দর থেকে বিমানটি জ্বালানি নেয়। সেখান থেকে সিরিয়ার লাটাকিয়ার উদ্দেশে উড়ার ২০ মিনিটের মধ্যেই রাডার থেকে উধাও হয়ে যায়।
পরে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় নিশ্চিত করে বিমানটি কৃষ্ণসাগরে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে।
উপকূল থেকে ছয় কিলোমিটার দূরে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ দেখতে পেয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বিবৃতিতে জানিয়েছে, সাগরের ৫০ থেকে ৭০ মিটার গভীরে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ দেখা গেছে। উদ্ধার হয়েছে বেশ কিছু মরদেহ।
বিধ্বস্ত বিমান এবং এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের মধ্যে শেষ কথোপকথনের অডিও প্রকাশ করেছে রাশিয়ান গণমাধ্যম। প্রকাশিত অডিওতে পাইলটের কণ্ঠ ছিল স্বাভাবিক, কোনও বিপদের শঙ্কা ছিলো না তার কণ্ঠে। আবহাওয়াও অনুকূলে ছিলো বলে জানিয়েছে গণমাধ্যম।
রুশ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে নিহত যাত্রীদের তালিকা প্রকাশ হয়েছে। তাদের মধ্যে আছেন সামরিক বাহিনীর বিখ্যাত সঙ্গীত দল আলেক্সান্দ্রোভ এনসেম্বেলের অধিনায়ক ভ্যালেরি খালিলভসহ ৬৪ জন সদস্য। তাদের সহযাত্রী হিসেবে নয়জন সাংবাদিক ও রাশিয়ার মাদার তেরেসা খ্যাত মানবাধিকার কর্মী এলিজাবেথা গ্লিনকাও ছিলেন। দলটি সিরিয়ায় নিয়োজিত রুশ বাহিনীর সঙ্গে বড়দিন ও নতুন বছরের উৎসবে যোগ দিতে লাটাকিয়া যাচ্ছিলো।
২০০১ সালে একই মডেলের বিমান দুর্ঘটনায় ৯৬ জন ও ২০১০ সালে ৭৮ জন নিহত হয়।








