ব্রাজিলের ফুটবল ক্লাব শ্যাপেকোয়েনসের ফুটবলারসহ ৭৭ জনকে নিয়ে মঙ্গলবার বিধ্বস্ত হওয়া উড়োজাহাজ থেকে ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। কলম্বিয়ার মেডেলিনে মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনা সংঘটিত হওয়ার গভীর বিষাদে ডুবে গেছে বিশ্ব।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনা থেকে যারা বেঁচে গিয়েছেন তাদের অবস্থা এখন স্থিতিশীল বলে জানা গেছে। তবে মানসিকভাবে পুরোপুরি সুস্থ হতে তাদের কতদিন লাগবে বা আদৌ পারবেন কিনা তাই এখন বড় প্রশ্ন।
অতিপ্রিয় মানুষদের হারানো, ধ্বংসস্তূপ থেকে বেঁচে ফেরা এই ‘ভাগ্যবানদের’ পরিচয় জেনে নেওয়া যাক।

অ্যালান রাসেল (২৭), শ্যাপেকোয়েনস খেলোয়াড়
ধ্বংসস্তূপ থেকে একেবারে শুরুতেই রাসেলকে উদ্ধার করা হয় বলে জানায় স্থানীয় পত্রিকা ল্যা ইনফোরম্যাসিয়ন। তার পাঁজরের একটি হাড় ভাঙ্গা, মাথায় গভীর ক্ষত ছিলো। তাকে জোসে মারিয়া করদোভা হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
রাসেলের উদ্ধার, স্থিতিশীল শারীরিক পরিস্থিতির জন্য সৃষ্টিকর্তাকে ধন্যবাদ জানিয়ে ইন্সট্রাগ্রামে একটি পোস্ট দেন তার স্ত্রী মোয়া। হাসপাতালে পৌছার সময়ও রাসেলের জ্ঞান ছিলো। বিয়ের রিং পাওয়া গেছে কিনা এবং তার পরিবার সম্পর্কে তখন জানতে চান তিনি।
পরে স্থানীয় সময় সকাল ৭টায় রাসেলকে সোমার ক্লিনিকের আইসিইউ’তে স্থানান্তর করা হয়।

জ্যাকসন ফলম্যান (২৪), শ্যাপেকোয়েনস খেলোয়াড়
দলের রিজার্ভ গোলকিপার ফলম্যানকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করে ফানডাসিয়ন সান ভিসেন্ট হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সামাজিক মাধ্যমের একটি ছবিতে ফোলম্যানকে রাসেলের পাশে বসে থাকতে দেখা যায়। মঙ্গলবার সান ভিসেন্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায় তার ডান পাটি কেটে ফেলতে হয়েছে। তাকে আইসিইউতে রাখা হয়েছে।

হেলিও হারমিটো জ্যাম্পিয়ার নেটো (৩১),শ্যাপেকোয়েনস খেলোয়াড়
সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার নেটো ২০১৫ সাল থেকে দলটিতে খেলছেন। মাথায় আঘাতের জন্য তার চিকিৎসা দেয়া হয়েছে বলে জানায় শ্যাপেকোর ম্যায়োর লুসিয়ানো বুলিগন।

রাফায়েল হেনজেল ভালমোরবিদা, ক্রীড়া সাংবাদিক
সাংবাদিকতায় কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা রাফায়েলের। বর্তমানে শ্যাপেকোর ওয়েস্টে ক্যাপিটাল স্টেশনে কর্মরত তিনি। প্লেনের ধ্বংসাবশেষ থেকে উদ্ধার হওয়া চতুর্থ ব্যক্তি তিনি।
স্থানীয় পত্রিকা জানায়, তাকে সান জুয়ান ডি ডিয়োস ডে লা সেজা হসপিটালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং তিনি বুকে আঘাত পেয়েছেন, তার বাম পা ভেঙ্গে গেছে। তবে তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল।

জিমেনা সুয়ারেজ, ক্রু সদস্য
সোমার ডেল রিয়োনেগ্রো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন জিমেনার ডান পায়ের টিবিয়া ও ফিবুলা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, ঘাড় ভেঙ্গে গেছে। এছাড়াও মাথায় আঘাত পেয়েছেন তিনি। তার অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

এরউইন তুমিরি, ফ্লাইট টেকনিশিয়ান
তুমিরির বলে মনে করা একটি ফেসবুক প্রোফাইলে দেখা যায় তিনি বলিভিয়ার কোকাবাম্বার বাসিন্দা। তার মারাত্মক কোন আঘাত নেই বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।








