বিদেশে ভাল বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপন দিয়ে সহজ সাধারণ মানুষকে বেশ কিছুদিন ধরেই প্রতারণা করে আসছিল একটি প্রতারক চক্র।
এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে শুক্রবার রাতে দুইজনকে রাজধানী থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিট।
গ্রেপ্তাররা হলেন মো. তানভীর আহম্মেদ ওরফে জুয়েল ওরফে মো. পিয়াস খান ওরফে জসিম উদ্দিন (৩৩)এবং মো. নাজমুল হাসান সুমন ওরফে মো. মাজহারুল (৩২)।
ওই সময় তাদের কাছ থেকে চারটি মোবাইল সেট, আটটি সিম, নগদ ২ হাজার পাঁচ’শ মার্কিন ডলার, একটি রাবার স্ট্যাম্প, একিট রেজিস্টার, আসামি তানভীরের তিনটি পাসপোর্ট, আসামি নাজমুলের একটি পাসপোর্ট এবং ব্র্যাক ব্যাংক, ন্যাশনাল ব্যাংক, ডাচ বাংলা ব্যাংকের একটি করে চেকবই জব্দ করা হয়।
পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) অর্গানাইজড ক্রাইম ইউনিটের বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম চ্যানেল আই অনলাইনকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
তিনি বলেন, প্রতারক দলটি একটি বহুল প্রচারিত জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞাপন দিয়ে সহজ সরল মানুষকে টার্গেট করত।
জাতীয় পত্রিকার বিজ্ঞাপনে হংকংয়ে ভাল বেতনে চাকরির জন্য কিছু সংখ্যক ভিসা প্রসেস করা হবে এমন বিজ্ঞাপন দেখে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে ভিকটিম ও তার বন্ধু।
প্রতারক চক্রের অফিসে গেলে ভিকটিমদের জানানো হয় হংকংয়ে গিয়ে দুইজনকে সাত লাখ টাকা দিতে হবে বলে একটি মৌখিক চুক্তি হয়।
এরপর বিভিন্ন সময়ে ভিকটিমদের সঙ্গে একটা আত্মীক সম্পর্ক করতে সব সময়ই প্রতারকরা যোগাযোগ রাখত।
মোল্যা নজরুল বলেন, গত বছরের ২৪ সেপ্টেম্বর হংকং এ যাবার ফ্লাইট বলে ভিকটিম সহ দুই প্রতারক শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌছায়।শর্ত মোতাবেক হংকং পৌঁছানোর কথা বললেও ভিকটিমরা সহজ বিশ্বাসে প্রতারকদের বিমানবন্দরেই ৮ হাজার ইউএস ডলার(বাংলাদেশি টাকায় ৬ লাখ ৮৫ হাজার) দেয়।
পরে ভিকটিমদের বিমানবন্দরের ২ নং টার্মিনালের ৫নং গেইট দিয়ে ভেতরে ঢুকতে বলে ১নং গেইট দিয়ে চলে যায় দুই প্রতারক।
এদিকে ভিকটিমরা কনকোর্স হলে অপেক্ষা করতে থাকে। ফ্লাইটের সময়ও পার হতে থাকে, প্রতারকদের ফোনে জানানো হলে আসতেছি বলে সময় নষ্ট করে। খানিকক্ষণ পরে মোবাইল বন্ধ করে দেয় তারা।পরে ভিকটিমরা বুঝতে পারে তারা প্রতারিত হয়েছে।
সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে আমরা শুক্রবার রাতে তানভীরকে দক্ষিণখানের তালতলা নদ্দাপাড়ার মসজিদ রোড থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।পরে মো. নাজমুল হাসানকে খিলক্ষেতের তালেরটেক থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মোল্যা নজরুল বলেন, বিষয়টি নিয়ে সিআইডি তদন্ত করছে, গ্রেপ্তার হওয়া আসামিরা স্বীকার করেছে তারা ওই ভিকটিমদের কাছ থেকে ৬ লাখ ৮৫ হাজার টাকা নিয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরও জানিয়েছে শুধুমাত্র এই ভিকটিম নয় প্রতারকরা্ আরো কিছু সহজ মানুষদের ঠকিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে।
সিআইডির সিনিয়র পুলিশ সুপার (মিডিয়া) শারমীন জাহান চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, শনিবার দুপুর পর্যন্ত আরো চারজন প্রতারিক হওয়া ভিকটিম আমাদের কাছে এসেছে।তাই এ মুহুর্তে সর্বমোট কতো পরিমাণ টাকা এই দু্ই প্রতারক হাতিয়ে নিয়েছে বলা সম্ভব হচ্ছে না।










