বয়স ৩৮ পার হয়ে গেছে। কিন্তু থামাথামির নাম ছিল না। তবে মানবদেহ বলে কথা। একটা সময়ে এসে ক্যারিয়ারের যতি টানতে হতোই। সেটাই করলেন স্যামুয়েল ইতো। বার্সেলোনা ও ইন্টার মিলানের হয়ে টানা দুই ট্রেবলজয়ী আফ্রিকান নায়ক অবশেষে বললেন, এবার পালা ভিন্ন চ্যালেঞ্জ নেয়ার!
বিদায় বলতে ইনস্টাগ্রামকে বেছে নিয়েছেন তিনটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জয়ী ফরোয়ার্ড। ক্যামেরুনের জাতীয় দলসহ সকল প্রকার ফুটবলকে বিদায় বলে সেখানে লিখেছেন, ‘অবশেষে শেষ। এবার নতুন চ্যালেঞ্জ নেয়ার পালা। সবাইকে ধন্যবাদ, অনেক ভালোবাসা।’
রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি গায়ে ১৯৯৭ সালে মাত্র ১৬ বছর বয়সে ইউরোপিয়ান ফুটবলে পদার্পণ ইতোর। বয়সটা কম ছিল বলেই হয়তো খাপ খাওয়াতে পারেননি লস ব্লাঙ্কোসদের ফুটবল দর্শনের সঙ্গে! ২০০০ সালে রিয়াল মালোর্কাতে চলে যাওয়ার আগে মাত্র তিন ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছিলেন মাদ্রিদের জার্সিতে।
চার মৌসুম পর মালোর্কা থেকে তাকে দলে টানে শিরোপা খরায় ভুগতে থাকা বার্সা। এসেই রোনালদিনহোর সঙ্গে গড়ে তোলেন তখনকার ফুটবল বিশ্বে সবচেয়ে আক্রমণাত্মক জুটি। এক মৌসুম বাদে তাতে যোগ হন লিওনেল মেসি। ফ্রাঙ্ক রাইকার্ডের সেই বার্সা ছিল অপ্রতিরোধ্য!
২০০৬ সালে লা লিগা শিরোপা ঘরে তোলে বার্সা। ক্লাব ইতিহাসে দ্বিতীয়বারের মতো জেতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগও। আর্সেনালের বিপক্ষে প্যারিসের সেই ফাইনালে ২-১ গোলে জেতা ম্যাচে জয়সূচক গোলটি এসেছিল ইতোর পা থেকেই।
২০০৮ সালে বার্সার দায়িত্ব নেন পেপ গার্দিওলা। এসেই গড়েন ইতিহাস। একমাত্র দল হিসেবে ট্রেবলসহ মৌসুমের ছয় শিরোপার সবগুলোই ঘরে তোলে কাতালান ক্লাবটি। ২০০৯ সালে ওয়েম্বলির ফাইনালে ম্যানইউর বিপক্ষে প্রথম গোলটি আসে ইতোর থেকে।
মৌসুম শেষেই ইব্রাহিমোভিচের সঙ্গে অদলবদল করে ইতোকে পাঠিয়ে দেয়া হয় ইন্টার মিলানে। মিলানে এসেই এক অনন্য ইতিহাস গড়েন ক্যামেরুনিয়ান ফরোয়ার্ড। আগের মৌসুমে বার্সার হয়ে ট্রেবল জয়ের পর এবার ইন্টারের হয়েও ট্রেবল জেতেন ইতো। ইতিহাসের একমাত্র ফুটবলার যিনি টানা দুই মৌসুমে গড়েন এই অনন্য কীর্তি!
ইন্টারের পর রাশিয়ান আনঝি মাখাচকালা, পরে চেলসি-এভারটন হয়ে আন্তালিয়াস্পোতে ২০১৮ সালে কাতার এফসিতে নাম লেখান। সেই ক্লাবের হয়েই বিদায় বললেন চারবারের আফ্রিকান সেরা ফুটবলার।







