বিত্তবান নারীর প্রসঙ্গ আসলেই গতানুগতিক বিবেচনায় ধরে নেয়া হয় উত্তরাধীকার সূত্রে অথবা কাউকে ফাঁসিয়ে অর্থ-সম্পদের মালিক হয়েছেন ওই নারী। নিজের যোগ্যতায় উপার্জন করে কোন নারী সম্পদশালী হতে পারেন তা অনেকের ভাবনায় আসে না। বিশ্বের বিত্তবান নারীর তালিকায় এমন অনেক নারীর নাম আছে যারা জন্মসূত্রে অনেক সম্পদ পেয়েছেন । কিন্তু ওই অর্থের গড্ডলিকায় তারা গা ভাসিয়ে দেন নি।
পৃথিবীতে এমন অনেক আদর্শবান নারী আছেন যারা মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ‘রিচেস্ট ওমেন’ অর্থ্যাৎ বিত্তবান নারীর খেতাবটি অর্জন করেছেন। রাত-দিন পরিশ্রম করে সম্পদের পাহাড় গড়ে তুলেছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা জন্মসূত্রেই বিলিয়নার ছিলেন। কিন্তু তারা বাবা-দাদার সম্পত্তি উড়িয়ে জীবন উপভোগ করে বেড়াবেন না। বরং নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্যে থেকে কঠোর পরিশ্রম করবেন।
এখানে উঠে এসেছে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের তেমন কিছু বিত্তবান নারীর কথা।
হলি বেরেনসন: বিলিয়নারি বাবা রিচার্ড বেরেনসনের মেয়ে হলি বেরেনসন। বাবা রিচার্ড এর ‘ভার্জিন গ্রুপ’ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে ৪.২ বিলিয়ন ডলার পেয়েছেন হলি এবং তার ভাই স্যাম বেরেনসন। কেবল বিত্তবান নন হলি কিন্তু দারুন স্মার্ট একজন নারী। মেড স্কুলে পড়া-লেখা শেষ করে চেলসার নিউরোলোজি ডিপার্টমেন্ট ও ওয়েস্ট মিনিস্টার হাসপাতালে চাকরি করেছেন। বিলিয়নার হলি তার বাবার ব্যবসাও চালিয়ে নিচ্ছেন। হলি সারা পৃথিবী ঘুরে অনেক সেবামূলক কাজ করেন। এই আইডল নারী কিছু দিন আগে যমজ সন্তানের মা হয়েছেন।
লিডিয়া হার্স্ট: এক কথায় পারফেক্ট নারীর ফুল প্যাকেজ এই প্রভাবশালী নারী। যেমন বিত্তবান তেমন সুন্দরী এই লিডিয়া তার মানবপ্রেমী মনের জন্য অনেক বিখ্যাত। অপারেশন স্মাইল এর ব্র্যান্ড এম্বাসেডর এই ধনী নারীর জীবনের লক্ষই হলো হত-দরিদ্র, দুখী শিশুদের মুখে হাসি ফোটানো। দাদার প্রতিষ্ঠিত পাবলিকেশন চালানোর পাশাপাশি লিডিয়া একজন সফল ব্লগার হিসেবেও পরিচিতি কুড়িয়ে নিয়েছেন। ১০০ মিলিয়ন ডলারের মালিক লিডিয়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক।
ইভানকা ট্রাম: পৃথিবীর আরেক ঈর্ষনীয় বিত্তবান নারী হলেন ইভানকা ট্রাম। জীবন নিয়ে শুধু পুরুষরাই বড় বড় জুয়া খেলেনা, নারীরাও খেলতে পারে তা প্রমাণ করে দিয়েছেন বিখ্যাত ব্যবসায়ী ডোনাল্ড ট্রামের মেয়ে ইভানকা। ওয়ারটন স্কুল অব বিজনেস থেকে পড়ালেখা শেষ করে জীবনে ব্যবসার প্রতি উৎসর্গ করেন তিনি। মার্কিন নাগরিক ইভানকা ১৫০ মিলিয়ন ডলার মূল্যের সম্পদের মালিক।
এলিজাবেথ হোল্মস: প্রাচুরর্যের দিক থেকে বৃটেনের রানী এলিজাবেথের মতো না হলেও তার থেকে কোনো অংশে কম নয় এই এলিজাবেথ। তার পরিশ্রমে প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিটির মূল্য এখন ৮ বিলিয়ন ডলার। নিজের পরিশ্রমে তিনি পৃথিবীর কনিষ্ঠতম নারী বিলিয়নারির খেতাব অর্জন করেছেন। ব্যবসার কাজে মন দেয়ার জন্য কলেজে পড়া শেষ করতে না পারা এলিজাবেথের এখন নিজের আয় ৪.৫ বিলিয়ন ডলার।
মারথা ওরতেজা পেরেজ: বিখ্যাত কোম্পানি ইন্ডিটেক্স এর প্রতিষ্ঠাতা অ্যামানিকো ওরতেজার আদরের মেয়ে মারথা। সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্ম নিলেও আজকে নিজেকে এই অবস্থানে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য অনেক পরিশ্রম করেছেন মারথা। বাবার কাছে ৬৩ মিলিয়ন ডলার থাকলেও জীবনের সিঁড়ির নিচের ধাপ থেকেই পরিশ্রম করে উপরে উঠেন তিনি।
মারথা বলেন, এখন আমার কাছে আমার বাবার থেকেও বেশি টাকা আছে। কারণ আমি শুধু টাকা দিয়ে নয়, নৈতিক মূল্যবোধ দিয়ে বেড়ে উঠেছি।
জোসেলিন ওয়াইল্ডেস্টেইন: ক্যাটওমেন হিসেবে পরিচিত জোসেলিন একসময় কারো কাছ থেকে কষ্ট পেলেও তার দিকে ফিরেও তাকায়নি। এখন তার লাইফস্টাইল এতাটাই বিলাসী যে তার বাৎসরিক খাবারের বিল ৫ লক্ষ ৫৫ হাজার ডলার! বিবাহ বিচ্ছেদের পর ১৩ বছর পর্যন্ত তাকে প্রতিবছর ২.৫ বিলিয়ন ডলার সহ অতিরিক্ত ১’শ মিলিয়ন ডলার দেন তার সাবেক স্বামী। কিন্তু সেই অর্থ থেকে একটি পয়সাও জোসেলিন ব্যবহার করেন নি। বরং নিজে উপার্জন করেছেন অঢেল সম্পদ।
ডোনাটেলা ভিসারজি: ১৯৯৭ সালে ভাইয়ের কাছ থেকে বিশ্বের অন্যতম বিখ্যাত ফ্যাশন হাউজের মালিক হন ডোনাটেলা। তিনি তার ভাই ও মেয়েকে কোম্পানির ৭০ শতাংশ শেয়ার দিয়েও নিজের ৩০ শতাংশ শেয়ার নিয়ে নিজ পরিশ্রমে আয় করেছেন ২শ মিলিয়ন ডলার।
লিলিয়ান বেটেনকোর্ট: ফ্রান্সের সব থেকে বিত্তবান ব্যক্তি ও বিশ্বের সব থেকে ধনী নারী লিলিয়ান এই বিশ্বের সব থেকে বড় কসমেটিক্স কোম্পানি ‘এল’ ওরিয়েল’ এর প্রধান। বাবার কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে ওই কোম্পানির মালিক হলেও কঠোর পরিশ্রম করে কোম্পানিকে নিয়ে গেছেন সফলতার শীর্ষে। রাদ-দিন এতোটাই পরিশ্রম করেছেন যে এখন তার ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ ২শ মিলিয়ন ডলার।
কিস্ট্রি ওয়াল্টন: ক্রিস্টির নামের আগেই প্রথমেই বসে ‘২২.৫ বিলিয়ন ডলার এর মালিক’ উপাধিটি। কারণ সে জন ওয়াল্টনের বিধবা। বিখ্যাত ওয়ালমার্ট পরিবারের এই সদস্য এখন বিশ্বের ২য় ধনী নারী হিসেবে সুপরিচিত। কোম্পানিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন ক্রিস্টি।
আইরিস ফোন্টfবোনা: কারো কাছ থেকে উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদকে বহুগুণ বাড়িয়ে তোলার চ্যালেঞ্জ পেলে ধনীর দুলাল বা দুলারিদের ঘাম ঝরতে থাকে। কিন্তু উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সম্পদের খুব ভালো দেখাশুনা করে তার পরিমাণ আরো বহুগুণ বাড়িয়ে তুলেছেন ফোন্টাবোনা। চিলির সব থেকে ধনী ব্যক্তি ফোন্টাবোনা পৃথিবীর সবচেয়ে বড় তামা খনির মালিক। চিলির সবচেয়ে বড় জাহাজ কোম্পানি এবং ২য় বৃহত্তম ব্যাংকেরও মালিক এই নারী। সফলতার শীর্ষ থেকে আরো শীর্ষে ওঠার ক্ষেত্রে নিজেকে থামিয়ে রাখতে পারেন না আইরিস।






