নিজেদের মাঠে দাপট দেখিয়েই জাতীয় লিগের প্রথম রাউন্ড শেষ করল খুলনা বিভাগ। শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে রংপুর বিভাগের বিপক্ষে ম্যাচটি ড্র হলেও ব্যাটে-বলে খুলনার পারফরম্যান্স ছিল উজ্জ্বল। প্রথম স্তরের দল দুটি পেয়েছে দুই পয়েন্ট করে।
রংপুরের করা ৪৭১ রানের জবাবে ৯ উইকেটে ৪৯৫ রান তোলার পর ইনিংস ঘোষণা করে খুলনা। ২৪ রানের লিডের পর মাশরাফী বিন মোর্ত্তজার আগুন ঝরানো বোলিংয়ে দ্বিতীয় ইনিংসে কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল রংপুরের ব্যাটসম্যানরা। খেলায় বৃষ্টি বাধা হয়ে আসলে লাঞ্চের পরপরই ম্যাচটি ড্র ঘোষণা করেন আম্পায়াররা।
বৃষ্টি নামার আগে রংপুরের দ্বিতীয় ইনিংস গড়ায় ৮ ওভার। ৩৭ রান তুলতেই চার ব্যাটসম্যানকে হারায় তারা। চার ওভার বল করে ১২ রানে তিন উইকেট নেন সাড়ে তিন বছর পর দীর্ঘ পরিসরের ক্রিকেটে ফেরা মাশরাফী। নিজের দ্বিতীয় ওভারের তৃতীয় বলে নাসির হোসেনকে (৫) ফেরান এই ডানহাতি পেসার। ওই ওভারের পঞ্চম বলে মাহমুদুল হাসান (০) মাশরাফীর দ্বিতীয় শিকার হন। তৃতীয় উইকেটের দেখা পান পরের ওভারের শেষ বলে। এবার তার শিকার আরিফুল হক (০)। বল হাতে জ্বলে ওঠা মাশরাফীকে থামিয়ে দেয় বেরসিক বৃষ্টি। প্রথম উইকেটটি নেন পেসার আল আমিন হোসেন।
তার আগে ডাবল সেঞ্চুরি উপহার দিয়ে খুলনাকে লিড এনে দেন এনামুল হক বিজয়। ২১৬ রান করে থামেন এ ওপেনার। ৩৫৬ বলে ১৮টি চার ও দুটি ছক্কা দিয়ে ইনিংস সাজান বিজয়। উইকেটে থাকেন ৫১২ মিনিট।
প্রথম শ্রেণির ক্রিকেটে প্রথম ডাবল সেঞ্চুরির দেখা পান ৩৩০ বল খেলে। ১৭ চার ও ২ ছক্কায় দ্বিশতক স্পর্শ করেন। তার আগের সেরা ইনিংসটি ছিল ১৯৩ রানের।
রংপুরের করা ৪৭১ রানের জবাবে দ্বিতীয় দিন ব্যাটিংয়ে নেমে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন বিজয়। ১০৫ রানে অপরাজিত থেকে তৃতীয় দিন শুরু করা ডানহাতি ব্যাটসম্যানের ডাবল সেঞ্চুরি হয়ে যেতে পারত সেদিনই। কিন্তু আলোক স্বল্পতায় দিনের মাত্র ৩৯ ওভার খেলা হলে অপেক্ষা বাড়ে। ১৭৩ রানে অপরাজিত থেকে শেষ দিনের সকালে অপেক্ষার অবসান ঘটান জাতীয় দলের বাইরে থাকা এই উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান।
সোমবার সকালে মাইলফলক ছুঁতে খুব বেশি সময় নেননি বিজয়। ব্যাটিংয়ে নেমেই বাউন্ডারি হাঁকিয়ে শুরু। ডাবলের দিকে হেঁটে মাইলফলক থেকে যখন ১ রান দূরে, সোহরাওয়ার্দীর শুভর করা বল বাউন্ডারি ছাড়া করে ‘প্রথম’ দ্বিশতকের উল্লাসে মাতেন ২৪ বছর বয়সী ক্রিকেটার।
খুলনার লিড এনে দিতে অপর ওপেনার রবিউল ইসলামের সেঞ্চুরিও (১০০) ভূমিকা রাখে। আগের দিন ১ রানে অপরাজিত থাকা তুষার ইমরান ৫৪ করে আউট হন।
রংপুরের অফস্পিনার নাসির হোসেন নিয়েছেন ৫ উইকেট। সোহরাওয়ার্দী শুভ দুটি, মাহমুদুল হাসান নাঈম ইসলাম নেন একটি করে উইকেট।
এদিকে কক্সবাজার শেখ কামাল আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চতুর্থ দিন বৃষ্টি ও ভেজা আউটফিল্ডের কারণে একটি বলও হয়নি। ফলে ড্র হয়েছে বরিশাল ও ঢাকা বিভাগের ম্যাচটি। প্রথম দিন ভেসে যায় বৃষ্টিতে। দ্বিতীয় দিন মাঠে খেলা গড়ায় পুরো ৯০ ওভার। টস জিতে আগে ব্যাট করে সাইফ হাসান (১০৬*) ও রনি তালুকদারের (১২১) সেঞ্চুরিতে ২ উইকেট হারিয়ে ৩০৯ রান তোলে। তৃতীয় ও চতুর্থ দিন বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ায় নিষ্প্রাণ ‘ড্র’ মানতে হয় দুই দলকে।








