খুলনার শেখ আবু নাসের স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ-পাকিস্তান দুই ম্যাচ সিরিজের প্রথম টেস্ট ড্র হয়েছে। এই নিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৮ম টেস্টে এসে প্রম বারের মতো ড্রয়ের দেখা পেল বাংলাদেশ। ম্যাচ সেরা নির্বাচত হন তামিম ইকবাল।
এর আগে, ৩৩২ রানের জবাবে ব্যাট করতে নেমে পাকিস্তান ৬২৮ রানের পাহাড় দাঁড় করায় টাইগার বাহিনীর সামনে। পাকিস্তানের পক্ষে মোহাম্মদ হাফিজ করেন ডাবল সেঞ্চুরি। ২৯৬ রানের লিড পায় সফরকারিরা।
তখনই সবাই ধারণা করেছিল ইতিহাসের ধারাবাহিকতায় ইনিংস ব্যাবধানে হারতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। কেননা ইতিপূর্বে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭ মোকাবেলার যতবারই ৫০০ রানের কোটা ডিঙ্গিয়েছে ইমরান-ওয়াসিমের উত্তরসূরীরা। ততবারই বাংলাদেশ হেরেছে ইনিংস ব্যবধানে।
তবে এ যে বদলে যাওয়া এক বাংলাদেশ। ওয়ানডে ও টি-২০তে সে বার্তা আগেই দিয়ে রেখেছে টিম টাইগার্স। বাকি ছিল টেস্ট সামর্থের প্রমাণ রাখা।
তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েসর নিলেন সে গুরুভার। জুনায়েদ খান-ওহাব রিয়াজদের পাড়ার মাঠের বোলার বানিয়ে তারা দুজনে ওপেনিং জুটিতেই তুলে নেন ৩১২ রান।
তামিম ইকবাল দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসাবে করেন ক্যারিয়ারের প্রথম ডাবল-সেঞ্চুরি। ইমরুল কায়েসও করেন ১৫০ রান।
ইমরুলকে ফেরান জুলফিকার বাবর। বাবর আজমের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন মেহেরপুরের এ ব্যাটসম্যান।
ইমরুলের পর ক্রিজে আসেন মুমিনুল হক। তবে আগের ইনিংসে ৮০ রান করা মুমিনুল এদিন বেশিক্ষণ ক্রিজে থাকতে পারেননি। ২১ রান করতেই জুনায়েদ খানের বলে বোল্ড হয়ে ফিরে যান তিনি।
মুমিনুলের বিদায়ে তামিমকে সঙ্গ দিতে আসেন মাহামুদুল্লাহ। দুজনে স্কোর বোর্ডে যোগ করেন ৫৪ রান। এরপরই মোহাম্মদ হাফিজের বলে সরফরাজের হাতে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ২০৬ রান করা তামিম।
তামিমের বিদায়ে মাহামুদুল্লার সঙ্গী হন সাকিব আকল হাসান। এরপর মাত্র ১ রানের ব্যাবধানে মাহামুদুল্লাহ ও মুশফিক বিদায় নিলে দলীয় স্কোর দাঁড়ায় পাঁচ উইকেট হারিয়ে ৪৬৪ রান।
তাদের বিদায়ে সাকিবের সঙ্গী হন সৌম্য সরকার। তারা দুজনে দলীয় স্কোর বোর্ডে যোগ করেন ৬০ রান। সৌম্য ফেরেন আসাদ শফিকের বলে মোহাম্মদ হাফিজের হাতে ক্যাচ দিয়ে। ফেরার আগে তার সংগ্রহ ছিল ৩৩ রান।
শেষ পর্যন্ত আর কোন উইকেট না হারালে দুই দলের সমোঝতায় ড্রয়ের সান্তনা নিয়ে মাঠ ছাড়ে দুই দল। সাকিব আল হাসান শেষ পর্যন্ত ৭৬ রানে অপরাজিত থাকেন।






