বিশ্বে সবচেয়ে কম বয়সে বিজ্ঞানে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করলো বাংলাদেশের মাহির আলী রুশো। আমেরিকান ইউনির্ভার্সিটি অব বিজনেস এন্ড সোশ্যাল সায়েন্স তাকে এই সম্মানসূচক ডিগ্রি দিয়েছে। পৃথিবীতে তারচেয়ে কম বয়সী বিজ্ঞানে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি পাওয়া আর কেউ নেই।
ছোটবেলা থেকেই বিজ্ঞানের নানা খুঁটিনাটি বিষয়ে চিন্তা করতে থাকা এই বিস্ময় বালককের ঝুলিতে ইতিমধ্যে যোগ হয়েছে আরও অনেক পালক।
রুশোকে নিয়ে প্রায় এক বছর আগে চ্যানেল আই প্রতিবেদন করেছিল। ভাইরাল হওয়া সেই বালকের সম্প্রতি ভাবনা ও অর্জন আরও বেড়েছে।
রুশোর ঝুলিতে শুধু সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রিই নয়, সে ডাটা ব্যবস্থাপনার উপর শেষ করেছে মাইক্রো মাস্টার্স। গতানুগতিক ধারার এসএসসি, এইচএসসি ক্লাসে পা না দিয়েই এই ১৫ বছর বয়সে পড়ছে মাস্টার্সে।

মাহির আলী রুশো চ্যানেল আইকে জানায়, পত্রিকা বা গুগলের মাধ্যমে সে জেনেছে অল্প বয়সেও মার্স্টার্স করা যায়। সেখান থেকেই তার আগ্রহ। রুশো জানায়, প্রথাগত সনদ না থাকলেও যুক্তরাষ্ট্রে মার্স্টার্স করা যায়। যোগ্য হলেই সে তার ইচ্ছেমত বিষয়ে পড়তে পারে। এজন্য আগের কোন সনদ প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশেও এই সুবিধা থাকা উচিৎ বলে সে মনে করে।
রুশোর নতুন গবেষণার বিষয় ভূমিকম্পের আগাম বার্তা। ইঁদুরের মস্তিষ্ককে কাজে লাগিয়ে ভূমিকম্পের আগাম সতর্কতা পাওয়ার কথা ভাবছে সে। তার এই গবেষণাপত্র আমেরিকার আরআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ের অলিম্পিয়াডে বিজ্ঞান বিভাগে টপ ফাইভে স্থান পেয়েছে। এজন্য সে পেয়েছে বৃত্তিও।
আগামী ১১ থেকে ১৭ই জুন আমেরিকার আরআইটি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত অলিম্পিয়াডে সে উপস্থাপন করবে তার এই গবেষণাপত্র।
মাহির আলী রুশো জানায়, ইঁদুর বা সাপ ভূমিকম্পের আগাম বার্তা পেয়ে যায়। আবার ইঁদুরের মস্তিস্ককে কম্পিউটারাইজ করার কাজ চলছে। তাই ইঁদুরের মস্তিস্ককে ব্যবহার করে ভূমিকম্পের আগাম বার্তা পাওয়া সম্ভব বলে মনে করে সে।
এডুমিত্রা অলিম্পিয়াডে চূড়ান্ত পর্বে জয়ী হওয়ায় সে সুযোগ পেয়েছে নাসা কার্যালয় পরিদর্শনের। জুন মাসেই দুদিনের নাসা পরিদর্শনে যাবে রুশো।
অল্প বয়সে বিজ্ঞানের কঠিন সমস্যা সমাধান করে তাক লাগিয়ে দেওয়া রুশো এখন পৃথিবীর মঞ্চে পরিচিত। ভবিষ্যতেও সে তার গবেষণা অব্যাহত রেখে মানবতার সেবায় কাজ করতে চায়।







