শ্রীপুরের (গাজীপুর) কর্ণপুর থেকে: বিচারহীনতার কারণেই হযরত আলী তার মেয়েকে নিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান কাজী রিয়াজুল হক।
তিনি বলেছেন, হযরত আলী মর্যাদার সঙ্গে বাঁচার জন্য বার বার সংগ্রাম করে ব্যর্থ হয়েছেন। জনপ্রতিনিধি, সমাজ তার প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। এখানে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। ফলে মানবাধিকার লঙ্ঘনকারীদের সঙ্গে পুলিশও এ দায়বদ্ধতা থেকে বেরিয়ে আসতে পারে না।
সোমবার দুপুরে শ্রীপুর উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, স্থানীয় জনগণ, জনপ্রতিনিধি ও নির্যাতিত পরিবারের সাথে কথা বলার পর গণমাধ্যমকে রিয়াজুল হক জানান, প্রাথমিকভাবে তার কাছে প্রতীয়মান হয়েছে যে, প্রতিপক্ষের হাতে নির্যাতিত হয়ে বিচারহীনতার কারণেই হযরত আলী তার মেয়েকে নিয়ে এ পথ বেছে নেন।
শনিবার সকালে শ্রীপুর রেলস্টেশন থেকে কিছুটা দূরে রেললাইন থেকে বাবা-মেয়ের লাশ উদ্ধার করা হয়
পরিবারের অভিযোগ, ফারুক নামের স্থানীয় এক বখাটে হযরত আলীর মেয়ে প্রথম শ্রেণীর ছাত্রী শিশু আয়েশাকে একাধিকবার শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে।স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল হোসেনের কাছে ঘটনার বিচার চাইতে গিয়ে পাননি।তিনি তা ধামাচাপা দেন।পরে থানায় অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাননি।
সেই ক্ষোভে শনিবার মেয়েকে নিয়ে ট্রেনের নিচে ঝাঁপিয়ে পড়েন। এতে ঘটনা স্থলেই নিহত হন বাবা-মেয়ে। হযরত আলী ময়মনসিংহের গফরগাঁও উপজেলার কালাই গ্রামের মৃত রিয়াজ উদ্দিন সরকারের ছেলে। তিনি দিনমজুর হিসেবে কাজ করতেন।

এ ঘটনায় পুলিশের গাফিলতি রয়েছে জানিয়ে কাজী রিয়াজুল হক বলেন, কী ধরনের অন্যায় শিশুটির প্রতি করা হয়েছে, সেগুলো জিডিতে উল্লেখ করা হয়েছিল। সে ব্যাপারে পুলিশ তদন্ত করেছে দাবি করলেও তারা কোনো লিখিত প্রতিবেদন দেয়নি।
“আমি মনে করি অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে নিয়ে বিবাদীদের ধরার জন্য আরও অনেক বেশি সক্রিয় হওয়ার দরকার ছিল। কিন্তু পুলিশ এ বিষয়টাকে গুরুত্ব দেয়নি। ফলে সমাজ, আইনের প্রতি তার বিশ্বাসের অভাবের কারণেই তাকে আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে হয়েছে।”
তিনি মনে করেন, এক ধরনের স্বার্থান্বেষী মানুষ দীর্ঘদিন যাবত তার দখলে থাকা সরকারি সম্পত্তি দখল করার জন্য হযরত আলীর ওপর অত্যাচার জুলুম করেছে। তার মেয়েকে লাঞ্ছিত করেছে, তাকে মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে দেয়নি। কিন্তু জনপ্রতিনিধিরা তাদের (আলী) প্রটেকশন দেয়নি।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে কমিশনের চেয়ারম্যান আরও বলেন, ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের হালিমাকে নিরাপত্তা, আইনী সহায়তাসহ তাকে পুনর্বাসিত করার সব ধরনের ব্যবস্থা করা হবে। তাকে আর ভিক্ষা করে খেতে হবে না এমন আশ্বাসও দেন তিনি।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক শরিফ উদ্দিন, সহকারী পরিচালক রবিউল ইসলাম, সাজ্জাদুর রহমান, ইউএনডিপির উপদেষ্টা শর্মিলা রাসূল, গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট রাহেনুল ইসলাম, শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা বেগম প্রমুখ।







