চার দশকের বিচারিক জীবনে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থেকে বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার দিতে সচেষ্ট থেকেছেন বলে বিদায়বেলায় উল্লেখ করলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি জিনাত আরা।
সর্বোচ্চ আদালতের বিচারপতি হিসেবে বৃহস্পতিবার ছিলো জিনাত আরার শেষ কর্মদিবস। এদিন দুপুরে আপিল বিভাগের আদালত কক্ষে তাকে বিদায় সম্ভাষণ জানানো হয়।
সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে সমিতি সভাপতি অ্যাডভোকেট এ এম আমিন উদ্দিন এবং অ্যাটর্নি জেনারেল কার্যালয়ের পক্ষ থেকে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম বিদায় সম্ভাষণ জানান।
এসময় প্রধান বিচারপতি সহ আপিল বিভাগের সকল বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।
বিদায় সম্ভাষণ উপলক্ষে নিজের অনুভুতি ব্যক্ত করে বিচারপতি জিনাত বলেন: আমি আমার চার দশকের বিচারিক জীবনে সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে থেকে বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার দিতে সচেষ্ট থেকেছি। দীর্ঘ এই পথচলায় আইনজীবী আদালত সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা পেয়েছি। আজ তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। আমার বাবা একজন বিচারক ছিলেন। একসময় তিনি সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্টার হন। আমার বাবার খুব স্বপ্ন ছিল যে, আমি একদিন যেন হাইকোর্টের বিচারপতি হই। তবে ব্যক্তি জীবনে একটা দু:খের বিষয় হচ্ছে যে, আমার বাবা আমার বিচারপতি হওয়াটা দেখে যেতে পারেননি। আমি হাইকোর্টের বিচারপতি হবার তিন মাস আগে বাবা মারা যান।’
বিচারপতি জিনাত আরা বলেন: কয়েক মাস আগে থেকেই মনে হচ্ছিল যে, অবসরে গেলে হয়ত একটা মুক্তি মিলবে। তবে এটা সত্য যে, আজ বিচারিক জীবনের শেষ কর্মদিবসে এসে নিজের মাঝে একটা বিষণ্ণতা কাজ করছে। আপনারা ভালো থাকবেন। আমার জন্য দোয়া করবেন।
১৯৫৩ সালের ১৫ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন জিনাত আরা। তার বাবার নাম এইচ এম আর সিদ্দিকী (মৃত)। মায়ের নাম বেগম আয়শা সিদ্দিকী (মৃত)। জিনাত আরা বিএসসি ও এলএলবি পাসের পর ১৯৭৮ সালের ৩ নভেম্বর বিচার বিভাগে মুনসেফ হিসেবে যোগদান করেন। ১৯৯৫ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর তিনি জেলা ও দায়রা জজ হিসেবে পদোন্নতি পান। এরপর ২০০৩ সালের ২৭ এপ্রিল তিনি অতিরিক্ত বিচারপতি হিসেবে হাইকোর্টে নিয়োগ পান। আর ২০০৫ সালের ২৭ এপ্রিল তিনি হাইকোর্টের স্থায়ী বিচারপতি হন। এরপর ২০১৮ সালের ৯ অক্টোবর জিনাত আরা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
বিচারপতি জিনাত আরা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের দ্বিতীয় নারী বিচারপতি। এর আগে প্রথম আপিল বিভাগের বিচারপতি থেকে অবসরে যান বিচারপতি নাজমুন আরা সুলতানা।








