ছোটপর্দার দর্শকদের কাছে এই মুহূর্তে প্রিয় মুখে পরিণত হয়েছেন কেয়া পায়েল। তার ক্যারিয়ার বেশ লম্বা নয়। কিন্তু কম সময়ে বেশকিছু জনপ্রিয় নাটকে তাকে পাওয়া গেছে। পাশাপাশি অপূর্ব, মোশাররফ করিম, তৌসিফ, ফারহান, জোভানদের সঙ্গে কেয়া পায়েলকে নিয়মিত পাওয়া যায়।
নানামাত্রিক চরিত্র দিয়ে এই তরুণী ইতোমধ্যেই আলোচনায় এসেছেন। তবে কেয়া পায়েল জানালেন, তার স্বপ্নের চরিত্রের কথা। চ্যানেল আই অনলাইনের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, বিখ্যাত কোনো নারীর বায়োপিকে কাজ করতে চাই।
কেয়া পায়েল বলেন, আমাদের চারপাশের কিছু নারী আছেন যারা কর্ম দিয়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছেন। মানুষ তাদের কখনই ভুলবে না। নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি না হলেও এমন কারও বায়োপিকে কাজ করতে চাই। এটা আমার দীর্ঘদিনের ইচ্ছে।
এবার ঈদেও ১৮/২০টির মতো নাটকে দেখা গেছে কেয়া পায়েলকে। তিনি জানালেন, সবগুলো নাটক বিভিন্ন টিভিতে প্রচার হয়েছে। তবে সবগুলো ইউটিউবে আসেনি। তার অভিনীত ১২টির মতো নাটক ইউটিউব প্রকাশ পেয়েছে। সেগুলো থেকে দর্শকদের ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছেন বলে জানালেন কেয়া পায়েল।
তিনি বলেন, মাবরুর রশিদ বান্নাহ ভাইয়ার অনেক শিল্পীদের নিয়ে ‘মায়ের ডাক’, মিজানুর রহমান আরিয়ান ভাইয়ার ‘শুভ প্লাস নীলা’, মুহাম্মদ মিফতাহ আনান ভাইয়ের পরিচালনায় নিলয় ভাইয়ের সঙ্গে প্রথম কাজ ‘একটি বিয়ে সারাজীবনের কান্না’ কাজগুলো থেকে খুব ভালো সাড়া পাচ্ছি। এছাড়া হিমি ভাইয়ের পরিচালনায় তৌসিফের সঙ্গে কাবিননামা, মাহমুদ মাহিন ভাইয়ের পরিচালনায় ফারহানের সঙ্গে ডন বি কোয়াইট এসব কাজ থেকে ভীষণ ভালো প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন দর্শক।
কেয়া পায়েলের ক্ষুধা অভিনয়ের। সবসময় তিনি ভিন্ন ভিন্ন চরিত্র খোঁজেন। ঈদের নাটকগুলো থেকে সেই ক্ষুধা কিছুটা পূরণ হয়েছে বলেও তিনি জানান। কেয়া পায়েলের ভাষ্য, অনেকগুলো নতুন চরিত্র করেছি। গল্পের প্রেক্ষাপটও নতুন পেয়েছি। ভালো পরিচালক ও ভালো সহশিল্পী পেয়েছি। বিশেষ করে অপূর্ব ভাইয়ের সঙ্গে অনেকগুলো কাজ করতে পেরেছি। তাদের মতো সিনিয়র সহশিল্পী পেয়ে নিজের অভিনয়ের লেভেল আরও উন্নত করার চেষ্টা করেছি।
”আমার নিজস্ব কিছু ফ্যান ফলোয়ার তৈরি হয়েছে। তাদের পছন্দ প্রাধান্য দিয়ে কাজের চেষ্টা করেছি। এজন্য আমার নিজেকে ভাঙতে হয়েছে। ‘স্বপ্নের নায়িকা’ নামে চ্যানেল আইয়ের একটি কাজ করেছি। এই চরিত্রটি আমার জন্য নতুন অভিজ্ঞতা। সম্পূর্ণ নতুনভাবে নিজেকে হাজির করতে হয়েছে। এছাড়া ওয়েটারসহ বেশ কিছু চরিত্র নতুন করতে পেরেছি। কোনো চরিত্র রিপিট করিনি।”
কেয়া পায়েল জানান, তার ফ্যাসিনেশন কারও জীবনের গল্প থেকে নেয়া বাস্তব চরিত্র। যেখান থেকে শেখার আছে। তিনি বলেন, যেটাকে বায়োপিক বলে। যার জীবন থেকে শেখার অনেককিছু আছে এমন এক নারীর চরিত্রে কাজের ইচ্ছে বা স্বপ্ন অনেকদিনের। তবে ব্যক্তিগত বা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা নারীকে মেনশন করতে চাই না। নাটকে এটা কম পাওয়া যায়। এখন ওয়েব ফিল্ম বা সিরিজ হচ্ছে। যদি সিনেমা কিংবা নতুন ওয়েব মাধ্যমে এমন কাজের সুযোগ আসে আমি অবশ্যই করবো।
লকডাউনের কারণে এখন শুটিং করছেন না কেয়া পায়েল। ঘরে নিজের মতো করে সময় কাটাচ্ছেন। তিনি বললেন, নেটফ্লিক্সে বেশি সময় কাটছে। অন্য মাধ্যমে নিজের এবং সহশিল্পীদের নাটকগুলো দেখে দিন কাটছে। এছাড়া বই পড়ছি। কিছু বই পড়া বাকি আছে, সেগুলো শেষ করছি। ইদানিং সোশ্যাল মিডিয়াতে স্ক্রল করছি। তবে আমার ফ্যান পেজ ছাড়া ব্যক্তিগত আইডি নেই। আগামী ১৬ তারিখের পর করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে শুটিংয়ে ফিরবো।








