একাদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপি আসবে কিনা এটা তাদের ব্যাপার; দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র রয়েছে তারা না এলেও সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
চারদিনের ইতালি ও ভ্যাটিকান সিটি সফর শেষে দেশে ফিরে সোমবার বিকালে গণভবনে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
আবারও যদি বিএনপি সংঘাতের পথ বেছে নেয় তাহলে সরকার কি করবে এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলে: তাণ্ডব চালিয়ে অতীতেও বিএনপি নির্বাচন বানচাল করতে পারেনি। ভবিষ্যতেও পারবে না। এদেশের মানুষ তাদের প্রতিহত করবে।
জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার কারাদণ্ডের প্রসঙ্গে তিনি বলেন: তারা সব কিছুতেই সরকারকে দোষারপ করে। রায় তো সরকার দেয়নি। তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মামলা করেছে দুদক। রায় দিয়েছে কোর্ট। এখানে সরকার আসে কোথ থেকে!
আপনারাই চিন্তা করেন বিশ্ব ব্যাংক থেকে ফখরুদ্দিন আহমদকে এনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর করলেন। আবার, ৯জন জেনারেলকে ডিঙিয়ে মইন উ আহমেদকে সেনা প্রধান করেছিলেন; এর অর্থ কি তিনি তাদের সবচেয়ে কাছের লোক ছিলেন? আর রাষ্ট্রপতি ইয়াজউদ্দিন তো তাদেরই লোক। মামলা তো তাদের লোকজনই করে গেছে। এখানে সরকারকে দোষ দেওয়ার কারণ কি!
গঠনতন্ত্র থেকে বিএনপির ৭ ধারা বাতিল করে দলটি আত্মস্বীকৃত দুর্নীতিবাজের দলে পরিণত হয়েছে মন্তব্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন: তারেক রহমানের দুর্নীতি সর্বজনবিদিত। আর তারা তাকেই দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করলো! যে কিনা দেশেও নেই; আর রাজনীতি করবেনা বলে মুচলেকা দিয়ে দেশ ছেড়ে গিয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী প্রশ্ন করেন,‘ বিএনপির নেতৃত্বের কি এতোই দৈন্যদশা যে অন্য কাউকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করতে পারত না? বিএনপিতে কি একটা নেতাও দেশে নেই, যাকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান করতে পারত।’
সম্প্রতি এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসে সমালোচনায় থাকা শিক্ষামন্ত্রী পাশে দাঁড়িয়েছে প্রধানমন্ত্রী। বলেন: মন্ত্রী আর সচিব গিয়ে তো প্রশ্নফাঁস করেনি, তাদের কেন সরে যেতে হবে, যারা করেছে তাদের ধরিয়ে দিন, ব্যবস্থা নেব। প্রশ্নফাঁস হচ্ছে ২০ মিনিট বা এক ঘন্টা আগে, এতো ট্যালেন্ট কোন ছাত্র আছে যে এই সময়ের মধ্যে পড়া মুখস্ত করে লিখবে। প্রশ্নফাঁস নতুন কিছু না, যুগযুগ ধরে হচ্ছে। কখনও প্রচার হয় কখনও হয় না। আগামীতে এমসিকিউ বন্ধ করে দেওয়ার কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৩২ ধারা নিয়ে শঙ্কার কিছু নেই বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন: অপকর্ম না করলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন নিয়ে শঙ্কার কিছু নেই। আইনটি পাশ হওয়ার আগে আরও অনেক প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে যাবে। প্রয়োজন বোধে আমরা আবারও আলোচনা করবো।







