৫ জানুয়ারি! বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির জন্য একটি দু:সহ দিন। ২০১৪ সালের এই দিনে দলটি জাতীয় নির্বাচনে অংশ না নিয়ে যে ঐতিহাসিক ভুল করেছিল ২০১৮ সালের ৫ জানুয়ারি এসেও তার খেসারত দিচ্ছে।
চার বছর আগে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের চিত্র যেমন ছিল; আজ যেন তার কোনো ব্যতিক্রম নেই। নেতাকর্মী শূন্য দলীয় কার্যালয়ের চারপাশ ঘিরে শুধু আইনশৃংঙ্খলা বাহিনীর লোকজন আর গণমাধ্যমকর্মীদের তৎপরতা ছাড়া আর কিছুই দেখা যায়নি।সেখানে বিএনপির কোনো রাজনৈতিক তৎপরতা দেখা যায়নি।
যদিও ৫ জানুয়ারিকে ‘গণতন্ত্র হত্যা দিবস’ হিসেবে অবহিত করে সারাদেশে কালো পতাকা মিছিল এবং সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছিল বিএনপি।
কিন্তু গতকালই নিশ্চিত হয়ে যায় যে সমাবেশের অনুমতি পায়নি বিএনপি। পরে প্রেসক্লাবে এক আলোচনা সভায় দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, এ বিষয়ে দলীয় সিদ্ধান্তের কথা শিগগিরই জানিয়ে দেওয়া হবে।
এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ ও উত্তরকে সমাবেশের অনুমতি দিলেও বিএনপিকে দেয়নি। এর বিরুদ্ধে আমাদের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন করতে হবে।
ফখরুল বলেন, ১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগ প্রথম গণতন্ত্র হত্যা করে। ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি এসে দ্বিতীয়বার হত্যা করলো। এ কারণে বিএনপি ৫ জানুয়ারি গণতন্ত্র হত্যা দিবস পালন করবে।
এরই মধ্যে শুক্রবার সকালে জরুরি সংবাদ সম্মেলন আহ্বান করেন দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিন রুহুল কবির রিজভী।

সকালে নয়াপল্টন এসে বিএনপি অফিসের আশপাশে থমথমে চিত্র দেখা গেছে। অফিসের সামনে মোতায়েন করা হয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ। মজুদ রাখা হয়েছে হয়েছে সাঁজোয়া যান, প্রিজন ভ্যান আর ঠান্ডা পানির গাড়ি।
কমান্ডো স্টাইলে পুলিশের এই অবস্থানই বুঝিয়ে দিচ্ছে বিএনপি নেতাকর্মীরা ভিড় করতে পারবে না। এমনটাই জানালেন পল্টন থানার একজন পুলিশ কর্মকতা।
তিনি বলেন, ‘কোনো ধরনের অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখা মাত্র গ্রেপ্তার করা হবে। অফিসের ভেতরে থাকতে পারবে। তারা কিন্তু বাইরে কিছু করা যাবে না।’
রিজভী বলেছেন, গণতন্ত্র হত্যা দিবসের কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করতে নানাভাবে হুমকির পাশাপাশি সারাদেশে কালো পতাকা মিছিল বাধা দিচ্ছে পুলিশ। কিন্তু সকল বাধা অগ্রাহ্য করে কালো পতাকা মিছিল করে যাবে বিএনপি।








