দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের বিধানকে, আওয়ামী লীগ-জাতীয় পার্টি এক সুরে স্বাগত জানালেও বিএনপি বলেছে, এটা মেকি কৌশল।
দলীয় মনোনয়নে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়েছেন আওয়ামী লীগ। দলের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য ও শিল্পমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় ব্যানারে হয়ে থাকে। সেখানে বাংলাদেশে এই প্রথা চালুর হলে তাতে কোন সমস্যা দেখছি না আমি।
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সরকার দলীয় প্রভাব বাড়বে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমি তো মনে করি এতে করে প্রভাব আরও কমবে। জনগণ খুব সহজেই বুঝতে পারবে কে কোন দলের প্রার্থী। এতে করে মানুষ মধ্যে বিভ্রান্তি কম তৈরী হবে।
সকল দলের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ গ্রহণের সুযোগ থাকছে উল্লেখ করে তোফায়েল বলেন, বাংলাদেশে ৪০টার মতো নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল রয়েছে। তারা দলীয় ব্যানারে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করার সুযোগ পাচ্ছে। তাছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীরাও নির্বাচন করতে পারবে।
তবে বিএনপি এই সিদ্ধান্তকে দেখছে সরকারের ক্ষমতা ধরে রাখার মেকি কৌশল হিসেবে।
দলটির মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ৫ জানুয়ারি নির্বাচনের মতো একই পদ্ধতিতে স্থানীয় সরকার নির্বাচন করতে চাচ্ছে। একইভাবে তারা নিজের প্রতিনিধিদের নির্বাচিত করে বিদেশীদের বুঝাতে চাচ্ছে সরকার ও দলের পক্ষে জনগণের সমর্থন রয়েছে। এটি একটি মেকি কৌশল। এই মেকি কৌশলের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রের সংকট থেকে উত্তরণ করা হবে না।
‘স্থানীয় সরকারের বিষয়টি জনগুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় আমরা দাবি করেছিলাম, যেন সংশ্লিষ্ট সকল মহলের মতামত যাচাই করা হয়। কিন্তু সরকার আমাদের দাবিকে পাশ কাটিয়ে একগুয়েমি মনোভাব প্রর্দশন করে তড়িঘড়ি করে আজ এই সংক্রান্ত পাঁচটি আইনের সংশোধন প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদিত হয়েছে। আমরা এতে বিস্মিত হয়েছি। এটা সরকারের অসৎ পরিকল্পনা ছাড়া অন্য কিছু নয়।’
‘সকল দলের অংশগ্রহণের নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে দ্রুত একটি জাতীয় নির্বাচনকে পাশ কাটিয়ে দলীয় প্রতীকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের আয়োজনের পেছনে সরকারের এক মহা দুরভিসন্ধি কাজ করছে বলে আমরা মনে করি। তাই আমরা দাবি জানাই, এই সংক্রান্ত নির্বাচনী আইন ও অধ্যাদেশ আকারে জারি থেকে সরকার যেন বিরত থাকেন।’
অবশ্য বিএনপির এই দাবির কোনো যৌক্তিকতা খুঁজে পাচ্ছে না জাতীয় পার্টির সাংসদ স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মশিউর রহমান রাঙা। চ্যানেল আই অনলাইনকে তিনি বলেন, আমি তো এ সিদ্ধান্তে কোনো সমস্যা দেখছি না। স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রভাব মুক্ত থাকার কথা থাকলেও আদেতেও তা হয় না। প্রার্থীরা দলীয় প্রার্থী হিসেবেই প্রচারণা চালান। তাছাড়া ভারতসহ বিশ্বের অধিকাংশ গনতান্ত্রিক দেশেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় ব্যানারে হয়। আমাদের এখানে হলে আমি কোনো সমস্যা দেখছি না।
এর আগে আজ সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে জাতীয় নির্বাচনের মতো এখন থেকে দলীয়ভাবেই হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে আইনের সংশোধনীতে অনুমোদন দেওয়া হয়।
আইন পাস হলে রাজনৈতিক দল মনোনীত প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক নিয়ে এসব নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন। এমন বিধান রেখে স্থানীয় সরকারের পাঁচটি আইনের সংশোধনীতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেয় মন্ত্রিসভা।
দলীয় নিবন্ধন বাতিল হওয়ায় জামায়ত ইসলামীর প্রার্থীরা দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করার সুযোগ পাচ্ছেনা।







