কোটা নিয়ে ছাত্রলীগকে বাড়াবাড়ি না করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সাম্প্রতিক সময়ের একটি আলোচিত খবর এটি।
এর মানে কি? নিশ্চয়ই প্রধানমন্ত্রী অনুভব করেছেন ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হামলার ঘটনা। অনুভব করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে হাতুরি পেটানোর ঘটনাও। আর এ অনুভব থেকেই হয়তো উপলব্ধির সূচনা। উপলব্ধিটা হচ্ছে- ছাত্রলীগ যা করছে সেটা বাড়াবাড়ির পর্যায়ে চলে গেছে।
এভাবে হুশিয়ারি উচ্চারণের ফলে আদৌ কি ছাত্রলীগের ভেতরে ঢুকে যাওয়া বিশৃঙ্খল পরিবেশ তৈরি করার অতি উৎসাহীদের দমানো সম্ভব? কারণ প্রকৃত ছাত্রলীগের কোনো নেতা বা কর্মী এ ধরনের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে না। কারণ এদেশের বহু আন্দোলন আর সংগ্রামের পেছনে ছাত্রলীগের রয়েছে বিশাল ভূমিকা।
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাতে গড়া এ প্রতিষ্ঠানের সুনাম নষ্ট করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে অনেক অশুভ শক্তি। যাদের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ইন্ধনে ছাত্রলীগে ঢুকে পড়ছে অনেক ছাত্র নামধারী অছাত্ররা। যারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনার সাথে যুক্ত। রাজশাহীর ওই হাতুরি পেটানোর ঘটনার সাথেও সম্পৃক্ত।
এখন কথা হচ্ছে কারা সেই অনুপ্রবেশকারী বা অতি উৎসাহী? কারাই বা তাদেরকে দলে জায়গা করে দিচ্ছে? তাদেরকেও চিহ্নিত করা প্রয়োজন।
কোটা সংস্কারের আন্দোলন নিয়ে এক ধরনের ধোঁয়াশা পরিবেশ বিরাজমান। এ আন্দোলনের অবশ্যই যৌক্তিকতা আছে, কোনো সন্দেহ নেই তাতে। কারণ একজন মেধাবী ছাত্রকে বঞ্চিত করে একজন অমেধাবীকে কোটায় সুযোগ দিয়ে দেশ কতটা লাভবান হবে সেই বিষয়টাও বিবেচনায় রাখা দরকার।
সব মিলিয়ে আন্দোলনটা ছিল কোটা সংস্কার। কিন্তু সেটা নিয়ে গত ৮ এপ্রিল দেশ অচল করার মতো আন্দোলনের যে পরিস্থিতি তৈরি করার অভিসন্ধি ছিল, সেটাও স্বাভাবিক ছিল না। সেখানে আর যাই হোক শুধু আন্দোলনের ব্যাপারই ছিল না, ছিল অন্য কোনো অসৎ উদ্দেশ্যও।
তো যাই হোক, সেই কোটা নিয়ে ছাত্রলীগকে হুশিয়ারির বিষয়টি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতৃবন্দকেও ভাবতে হবে। কারণ সারা দেশে ছাত্রলীগের ভেতরে যেন একটা অস্থিরতা কাজ করছে। ক্ষমতার দম্ভে যেন তারা অন্ধ হয়ে না যায়, স্বেচ্ছাচারিতার চূড়ায় উঠে হামবড়া ভাব প্রদর্শন না করে সেদিকে নজর রাখতে হবে। তবে এ ব্যাপারে আশার কথাটি হচ্ছে-প্রধানমন্ত্রী ঢাকায় বসে সবার খবরই রাখছেন, এমন খবরও পত্রিকা মারফত শোনা যায়। তার বড় প্রমাণ বলা যায়- কোটা আন্দোলন নিয়ে ছাত্রলীগ যেন বাড়াবাড়ি না করে, সেই হুশিয়ারি দেওয়া।
ছাত্রলীগের ভেতরে বর্তমানে অস্থিরতার আরেকটি বড় কারণ হতে পারে কমিটি গঠন না করা। প্রধানমন্ত্রী নিজে দায়িত্ব নিয়েছেন কমিটি করার। তা হলে কি আমরা ধরে নেব তিনি সুযোগ্য মানুষ খুঁজে পাচ্ছেন না? যদি তাই হয় তা হলে তো ছাত্রলীগের বর্তমানের অবস্থায় হাল শক্তভাবে ধরার, অর্থাৎ ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা কার নির্দেশনায় চলবে সে ব্যাপারে ভাবা দরকার। তা না হলে বিচক্ষণ নাবিকের অভাবে জাহাজ মাঝ সমুদ্রে শুধু ঢেউয়ে দুলবে।
বাড়াবাড়ি বন্ধের জন্য যত দ্রুত সম্ভব ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা দরকার। বাড়াবাড়ি নইলে এমন অবস্থায় গিয়ে ঠেকবে তখন সেটা মারামারি আর কাড়াকাড়ির চূড়ান্ত রূপ নেবে। ছাত্রলীগকে আর ঠেকানোর কোনো পথ থাকবে না। সব মিলিয়ে ক্ষতি হবে আওয়ামী লীগেরই। বদনাম যা হবার সেটা হবে সরকারের।
সেই বড় ধরনের বাড়াবাড়ি’র পর্যায়ে যাবার আগেই ছাত্রলীগের হাল শক্ত হাতে ধরার জন্য কমিটি করতে হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আর দেরি নয়, উচ্ছন্নে যাবার আগেই ছাত্রলীগের লাগাম টেনে ধরুন। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করুন।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে।)







