স্পেনের বার্সেলোনার পর্যটন এলাকা লাস র্যামব্লাসে সন্ত্রাসী হামলার পর এর পাশের শহর ক্যামব্রিলসেও ভ্যান চালিয়ে হামলার চেষ্টা করা হয়েছে। তবে সেখানকার পুলিশ এই হামলা প্রতিরোধ করেছে। এসময় পুলিশের গুলিতে ৫ হামলাকারী নিহত হয়। এই হামলাকারীরা সুইসাইড ভেস্ট পরে ছিল বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার বিকেলে বার্সেলোনার হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৫০ জন আহত হয়েছেন। ইতোমধ্যে হামলার দায় স্বীকার করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএস)।
লাস র্যামব্লাসের ঘটনার পর প্ল্যাকা কাতালুনিয়া এলাকার নিরাপত্তা এখনও জোরদার করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই স্থানীয় মেট্রো ও রেলস্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
ভিড়ের মধ্যে ভ্যান চালিয়ে কয়েকজনকে আঘাতের পর চালক হেঁটে পালিয়ে যায়। এছাড়া ওই এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে প্রবেশ করে লোকজনকে জিম্মি করে রেখেছিল দুই বন্দুকধারী। তখন আতঙ্কিত মানুষেরা কাছের দোকান ও ক্যাফেগুলোতে আশ্রয় নেয়।
স্পেনের প্রধানমন্ত্রী মারিয়ানো রাজয় এই হামলাকে ‘জিহাদি হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
গত বুধবার সন্ধ্যার সময় আলকানার শহরের একটি বাড়িতে বিস্ফোরণে একজন নিহত হওয়ার ঘটনার সঙ্গে বার্সেলোনা ও ক্যামব্রিলসের ঘটনার সূত্র খুঁজছে পুলিশ। ওই ঘটনায় একজন নিহত হয়।
পুলিশ প্রধান জোসেফ লুইস ট্রাপেরো বলেন, ‘মনে হচ্ছে আলকানা শহরের ওই বাসাতে বিস্ফোরক বস্তুগুলো প্রস্তুত করছিলো।’
স্প্যানিশ গণমাধ্যমের সংবাদে জানা যায়, আক্রমণ করার জন্য দ্রুত গতিতে ট্রাক চালিয়ে গেলে সেটি উল্টে যায় এবং ভেতর থেকে হামলাকারীরা বেরিয়ে পড়ে। এসময় পুলিশ গুলি চালালে পাঁচজন নিহত হয়। পুলিশসহ আহত হন অন্তত সাতজন।
বার্সেলোনার দক্ষিণ-পশ্চিমের সমুদ্র উপকূলবর্তী জনপ্রিয় রিসোর্ট ক্যামব্রিলসের সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বোমা বিশেষজ্ঞরা হামলাকারীদের শরীর থেকে বিস্ফোরক ব্যাগ নিস্ক্রিয় করেছেন।
এর মধ্যে বার্সেলোনা হামলার পালিয়ে যাওয়া সেই গাড়ি চালকের খোঁজে নেমেছে পুলিশ। যিনি হামলার পর বেশ আহত হয়েছিলেন।
স্থানীয় এবং পর্যটকরা জানিয়েছেন, ভাড়া করা ওই ট্রাক আগে থেকেই টার্গেট করে ডানে-বামে গিয়ে মানুষকে চাপা দিয়েছে। দুইজনকে আটক করা হয়েছে। কিন্তু তাদের মধ্যে কে ভ্যান চালক সেটি স্পষ্ট করা হয়নি।
হামলায় জড়িত সন্দেহে একজনের ছবি প্রকাশ করেছে পুলিশ। তার নাম দ্রিস আউবাকির, যার কাগজপত্র দিয়ে ওই ভ্যানটি ভাড়া করা হয়েছিল। তবে তিনি আসলেই এই হামলার সঙ্গে জড়িত ছিলেন কি না, এ বিষয়ে এখনও নিশ্চিত নয় পুলিশ।
২০১৬ সালের জুলাই থেকে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে এ ধরণের হামলার বেশ কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। ফ্রান্সের নিস, জার্মানির বার্লিন, যুক্তরাজ্যের লন্ডন ও সুইডেনের স্টকহোমে ভিড়ের মধ্যে গাড়ি চালিয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এসব হামলায় নিহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।







