ব্রিটিশ সাংবাদিক ডেভিড বার্গম্যানের আদালত অবমাননা এবং সাজা নিয়ে সঠিক তথ্য না জেনেই বিবৃতি দেয়ায় বেশ কয়েকজন বিশিষ্ট নাগরিককে আদালত পর্যন্ত যেতে হলো। এ নিয়ে বিবৃতি দিয়ে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রধান ডা. জাফরউল্লাহ চৌধুরী আদালত অবমাননার দায়ে গত ১০ জুন আদালতের ডকে ১ ঘণ্টা দাঁড়িয়ে সাজাও ভোগ করেন।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ ডা. জাফরউল্লাহকে আদালতের ডকে এক ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থাকার যে আদেশ দেন তাতে বলা হয়েছে, বিবৃতিদানকারীর অনেকেই সঠিক তথ্য না জেনে বিবৃতি দিয়েছিলেন।
আদেশে বলা হয়, বিবৃতিদানকারীদের একজন আলি আহামেদ জিয়াউদ্দিন। তিনি তার কর্মকাণ্ডকে সাফাই দেন এই বলে যে, নিয়মিতই তিনি বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় আর্টিকেল লিখে থাকেন এবং তার আর্টিকেলের সমালোচনা করে পত্রিকায় পাল্টা কলামও বের হয়। কিন্তু তিনি ভেবে দেখেননি যে এরকম একটি বিষয় আদালতের বিচারযোগ্য কোনো বিষয় হবে যেখানে সবারই স্বাধীনভাবে তাদের ব্যক্তিগত মত প্রকাশের অধিকার রয়েছে।
প্রফেসর আনু মুহাম্মদ এবং শিরিন হকের বিষয়ে লেখা আছে, তারা নিজেরাই স্বীকার করেছেন যে তারা বার্গম্যানকে দেয়া আদালতের রায় পড়েও দেখেন নি।
প্রফেসর আনু মুহাম্মদ আদালতকে বলেছেন, বার্গম্যানের প্রতি তার এমন ধারণা ছিলো যে তার বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে এমন কোনো বক্তব্য প্রকাশ করা সম্ভব নয়, যার কারণে তিনি শাস্তি পেতে পারেন। তাই তিনি রায় না পড়েই তার পক্ষে বিবৃতি দিয়েছিলেন।
উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধকালে শহীদদের সংখ্যা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নিজস্ব ব্লগে কড়া মন্তব্য করেন বার্গম্যান। এ নিয়ে তার বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ দায়ের করেন সুপ্রিম কোর্টের এক আইনজীবী।
পরে বার্গম্যানকে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
একে বাক-স্বাধীনতা ও স্বাধীন জ্ঞানচর্চার প্রতি বাংলাদেশের অঙ্গীকারের লঙ্ঘন বলে বিবৃতি দিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন দেশের ৫০ নাগরিক। বিবৃতি দেয়ার পর মানবাধিকারকর্মী খুশী কবির নিজের নাম প্রত্যাহার করে নেন।
১৪ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-২ ওই ৪৯ বিবৃতিদাতার কাছে ব্যাখ্যা চান। তাদের মধ্যে ২৬ বিবৃতিদাতা নিঃশর্ত ক্ষমা চাইলে তাদের অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেন ট্রাইব্যুনাল। ১০ জুন ২২ জনকে ক্ষমা করলেও ডা. জাফরুল্লাহকে শাস্তি দেন আদালত।







