‘বাবা যখন দীর্ঘদিন পর কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরে আসতেন, তখন আমি আব্বা বলে দৌঁড়ে গেলে আমার ছোট ভাই শেখ কামাল বলতো হাসুআপা তোমার আব্বাকে আমি আব্বা বলে ডাকি?’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার টুঙ্গিপাড়ায় এভাবেই স্মরণ করেন তার বাবা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।
বঙ্গবন্ধুর ৯৭তম জন্মদিন ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে টুঙ্গিপাড়ায় আয়োজন করা হয় শিশু সমাবেশের। সেখানে শিশুদের কাছে নিজের পিতাকে নিয়ে তার জীবনের কিছু ঘটনা তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী।
শেখ হাসনিা বলেন, ‘এখনকার বাচ্চারা ছুটি হলে বাবা-মায়ের হাত ধরে বাসায় ফেরে। কিন্তু আমাদের এমন সৌভাগ্য ছিলো না আমাদের বেশিরভাগ সময় স্কুল ছুটি হলে কারাগারে যেতে হতো বাবার সঙ্গে দেখা করতে।’
‘কারণ বেশিরভাগ সময় বাবাকে কারাগারে বন্দি থাকতে হতো। কিন্তু এ নিয়ে আমাদের কোনো আক্ষেপ ছিলো না বরং সন্তান হিসেবে তাকে বাবা হিসেবে পেয়ে গর্বিত। আমরা খুব কাজ থেকে দেখতে পেরেছি একটি মানুষ ও একটি জাতির বিজয়ের জন্য নিজের জীবনকেও উৎসর্গ করা যায়।’
তিনি বলেন, ‘জাতির জনক নেই, কিন্তু সেই শিক্ষা অবলম্বন করে দেশ এখন এগিয়ে যাচ্ছে। তার স্বপ্নের ‘সোনার বাংলা’ উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশের প্রত্যেকটি মানুষ এখন আর না খেয়ে থাকে না, কেউ চিকিৎসার অভাবে মারা যায় না। কোনো শিশু শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয় না। যে জাতির জন্য আমার বাবা আত্মত্যাগ করেছে আমরা তার সন্তান হয়ে সেই আত্মত্যাগ করে যাচ্ছি।’
সমাবেশে শিশুদের উদ্দেশ্য প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিশ্ব এখন প্রতিযোগীতামূলক। ভবিষতে আরো বেশি প্রতিযোগীতা বাড়বে তাই বলব তোমারা সবাই মন দিয়ে পড়াশোনা করবে, বাবা-মায়ের কথা শুনবে। শিক্ষকদের কাছ থেকে ভালো মানুষ হয়ে ওঠার চেষ্টা করবে। কারণ তোমারা তো আগামী দিনের কর্ণধার।
‘বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশকে শিক্ষিত জাতি গড়ে তোলার লক্ষে বর্তমান সরকার শিক্ষাখাতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে। আমার সন্তানকে সবসময় বলি, তোমাদের কোনো সম্পদ দিতে পারবো না, শুধু পারবো শিক্ষার সম্পদ তোমাদের হাতে তুলে দিতে।’
‘তাই সব শিশুদের বলবো, তোমরাও শিক্ষার সম্পদ নিয়ে এগিয়ে যাও। কারণ জীবনের বড় সম্পদ শিক্ষা সম্পদ। এ সম্পদ কখনো শেষ হয় না, হাইজ্যাক হয় না বরং ভবিষতে সুনাগরিক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে সাহায্য করে।’
এর আগে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সমাধিবেদীতে পুষ্পস্তপক অর্পণ করে তার প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেসময় একটি চৌকষ দল গার্ড অব অনার প্রদর্শন করেন।







