গণরোষ আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাঁড়াশি অভিযানের মুখে অবশেষে এক মণ দুধ দিয়ে গোসল করে মাদক ব্যবসা ছাড়ার ঘোষণা দিলেন ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জের বিতর্কিত আরমান শেখ। তবে পুলিশ বলছে, গ্রেফতার এড়াতে ও জনতার রোষ থেকে বাঁচতেই এই কৌশলের আশ্রয় নিয়ে থাকতে পারেন তিনি।
গত বুধবার (২২ জুলাই) বিকালে রঘুনাথপুর কলেজ বাজার এলাকায় ঘটে এক অভিনব ঘটনা। নিজ বাড়িতে আরমানের মাথায় সযত্নে এক মণ দুধ ঢেলে দেন তার মা আকতারা বেগম। দুধের ধারায় নিজেকে ধুয়ে সাফ করার পর, ক্যামেরার সামনে হাত জোর করে আর কখনো মাদক বিক্রি না করার অঙ্গীকার করেন আরমান (৪২)।
পীরগঞ্জ পৌরসভার রঘুনাথপুর এলাকার মৃত আহমদ উল্লাহর ছেলে তিনি। বহু বছর ধরে এলাকায় মাদকের নেটওয়ার্ক চালিয়ে আসছিলেন তিনি। পীরগঞ্জ থানাতেই তার বিরুদ্ধে ঝুলছে ২৮টি মাদকের মামলা।
আরমান শেখ বলেন, “আমি যে ভুল করেছি, আর কখনো মাদক বিক্রি করব না। শুধু নিজেই ছাড়ব না, আমার এলাকায় কাউকে আর মাদক বিক্রি করতেও দেব না।”
হঠাৎ আরমানের এই ‘মন পরিবর্তনের’ পেছনে ভিন্ন কারণ দেখছেন স্থানীয়রা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। সম্প্রতি পীরগঞ্জের প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে তুঙ্গে উঠেছে জনরোষ।
এর আগে ঠাকুরগাঁও-৩ আসনের সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান বৈরচুনা বাজারে এক সমাবেশে হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা মাদক কারবার ছাড়বে না, প্রয়োজনে তাদের বাড়িঘরে আগুন জ্বালিয়ে দেওয়া হবে।
এমপির এমন আলটিমেটামের পরেই ক্ষুব্ধ জনতা সৈয়দপুর ইউনিয়নের কোষা ভবানীপুর গ্রামের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ‘সবুজ’-এর বাড়িতে হামলা চালায় এবং তাকে গণধোলাই দেয়। সেই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে জেলা জুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়।
একদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়া অবস্থান, অন্যদিকে উত্তেজিত জনতার শাস্তির ভয়—এই দুইয়ের যাঁতাকলে পড়েই ঠাকুরগাঁওয়ের এই মাদক কারবারি এক মণ দুধে ধুয়ে সাফ হওয়ার এই নাটকীয় পথ বেছে নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
পীরগঞ্জ থানার ওসি ইকবাল হোসেন প্রামানিক জানান, “আরমানের বিরুদ্ধে পীরগঞ্জ থানাতেই ২৮টি মাদকের মামলা রয়েছে। বর্তমানে সে সবকটিতেই জামিনে আছে। সম্প্রতি মাদকবিরোধী কঠোর সামাজিক আন্দোলন ও পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানের কারণে কারবারিরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। গ্রেফতার এড়াতে ও জনতার রোষ থেকে বাঁচতে হয়তো সে এই কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে।”
অবশ্য দুধে ধুয়ে সাফ হওয়ার এই ঘোষণা নিছকই ‘অভিনয়’ নাকি সত্যিই তওবা—তা সময়ই বলে দেবে বলে জানান স্থানীয়রা।

