বাংলাদেশে এখন থাকা বড় মেয়ে ও জাপানে থাকা ছোট মেয়েকে জাপানি মা নাকানো এরিকো তার কাছে রাখতে পারবেন এবং বাংলাদেশে থাকা মেজ মেয়েকে বাবা ইমরান শরীফ তার কাছে রাখতে পারবেন বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বাংলাদেশে থাকা বড় মেয়ে ও মেজ মেয়ের বিষয়ে নিম্ন আদালতের দেয়া রায়ের বিরুদ্ধে বাবার করা এক রিভিশন আবেদন আংশিক মঞ্জুর করে মঙ্গলবার এই রায় দেন বিচারপতি মামনুন রহমানের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ।
রায় অনুযায়ী বাবা-মা ও সন্তানেরা একে অপরের সাথে দেখা সাক্ষাৎ করতে পারবে বলে জানান মায়ের পক্ষের আইনজীবী। এদিকে উভয় পক্ষই এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করবেন বলে জানিয়েছেন তাদের আইনজীবী।
আদালতে ইমরান শরীফের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার আখতার ইমাম, ব্যারিস্টার রাশনা ইমাম, ব্যারিস্টার রেশাদ ইমাম ও অ্যাডভোকেট নাসিমা আক্তার লাভলী। অন্যদিকে নাকানো এরিকোর পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার আজমালুল হোসেন কেসি ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।
জাপানের নাগরিক এরিকো ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইমরানের ২০০৮ সালের ১১ জুলাই বিয়ে হয়। তাদের তিনটি মেয়েসন্তান আছে। ২০২১ সালের ১৮ জানুয়ারি এরিকোর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন ইমরান। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি দুই মেয়েকে (বড় ও মেজ) নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন তিনি। ছোট মেয়ে জাপানে আছে।
ইমরানের কাছ থেকে দুই মেয়েকে ফিরে পেতে ঢাকায় এসে ২০২১ সালের আগস্টে হাইকোর্টে রিট করেন এরিকো। অন্যদিকে ছোট মেয়েকে ফিরে পেতে পৃথক একটি রিট করেন ইমরান। পৃথক রিটের ওপর শুনানি নিয়ে দুই শিশু তাদের বাবা ইমরানের হেফাজতে থাকবে বলে একই বছরের ২১ নভেম্বর হাইকোর্ট আদেশ দেন। এই আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করেন এরিকো, যা চেম্বার আদালত হয়ে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে।
পরবর্তীতে এরিকোর করা আবেদন (লিভ টু আপিল) নিষ্পত্তি করে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে আদেশ দেন আপিল বিভাগ। আদেশে বলা হয়, ঢাকার পারিবারিক আদালতে থাকা মামলাটি (২০২১ সালে শিশুদের বাবার করা) নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত জাপান থেকে আসা দুই শিশু তাদের মায়ের হেফাজতে থাকবে। শিশুদের বাবা তাদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পাবেন।
আদেশে আরও বলা হয়, মামলার পারিপার্শ্বিক বিষয় ও শিশুদের স্বার্থ বিবেচনায় তাদের এ আদালতের এখতিয়ারের বাইরে (দেশের বাইরে) নেওয়া যাবে না। আপিল বিভাগের আদেশের অনুলিপি পাওয়ার তিন মাসের মধ্যে সংশ্লিষ্ট পারিবারিক আদালতকে মামলাটি নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে শিশুদের বাবার আপিল খারিজ করে শিশু জেসমিন মালিকা ও লাইলা লিনা মায়ের সঙ্গে থাকবে বলে রায় দেন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত সহকারি জজ ও পারিবারিক আদালতের বিচারক দুরদানা রহমান। এই রায়ের বিরুদ্ধে বাবা আপিল করলে সে আপিল খারিজ করে দুই শিশু সন্তান তাদের মায়ের জিম্মায় থাকবে বলে রায় দেন ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ হাবিবুর রহমান ভুইয়া। সেই রায়ের বিরুদ্ধে পরবর্তী হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করে শিশুদের বাবা।







