নারী পুরুষ নিয়ে বিতর্ক সবসময়ের। নারী-পুরুষের শ্রেষ্ঠত্বের বিতর্কে প্রায়শই একটি উদাহরণ টানতে দেখা যায় যে, দুনিয়ার বিখ্যাত
শেফরা পুরুষ। এটা বলে নারীর রোজকার রান্নার কাজটাকেও গুরুত্বহীন করে ফেলতে
চেষ্টার কমতি করে না কেউ। কিন্তু নারীরা আসলে বড় বড় রেস্তোরাঁয় কাজ করার
সুযোগ পান কতটা? সেটা একটা বড় প্রশ্ন।
যে নারী রোজ রোজ রান্নাঘরে পরিবারের জন্য নানান সুস্বাদু খাবার রান্না করেন তারাও সেরা শেফ হতে কম বাধা মোকাবেলা করেন না। সেসব গল্পই এবার তুলে আনলো ভারতীয় পত্রিকা হিন্দুস্তান টাইমস। সেখানে উঠে এসেছে এমন কিছু নারী রাঁধুনীর গল্প যারা স্রোতের বিপরীতে গিয়ে নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে কাজ করে চলেছেন অবিরাম। ঘরেই নয়, পেশা হিসেবেই গ্রহণ করেছেন রান্নাকে।
ভারতের চেন্নাইয়ের কমল সুন্দর রাজন এক ফাইভ স্টার হোটেলে শেফ হিসেবে কর্মরত। কাজের প্রথম ট্রেনিং সেশনে তাকে প্রশ্ন করা হয়, তুমি পেঁয়াজ কাটতে পারো। স্মৃতির ঝাঁপি থেকে কমল বলেন, এই একই প্রশ্ন কিন্তু অন্য কাউকেই করা হয়নি। প্রশ্নের জবাবে শুধু ইন্সট্রাকটরের দিকে তাকিয়েছিলেন কমল। বলেছিলেন, হ্যাঁ আমি একটি পেঁয়াজ কাটতে পারি।

গুয়াহাটির শেফ কাব্য গুপ্ত বলেন, যখন তিনি প্রথম তার কাজ শুরু করেন তখন অন্যান্য পুরুষ শেফরা বলেছিলো, আমি প্রচুর কথা বলি আর আমি কখনো তাদের মতো কাজ করতে পারবো না। এমনকি মূল খাবার তৈরিতে কখনো অংশ নিতেও দেওয়া হতো না আমাকে। যদি কোনো আইডিয়া দিতাম। সেটা যেন তারা শুনতই না।
কাব্যর স্বপ্ন ছিলো পেশাদার রাঁধুনী হওয়া। তাই এসব বাঁধা পেরিয়েই এগিয়েছেন তিনি। পুরুষে ভরা একটি রান্নাঘরে তিনিই একমাত্র নারী। উপরন্তু সেই পুরুষরা তাকে পছন্দও করছেন না। এসবের মধ্যে দিয়েই এগিয়েছেন কাব্য।
নারীদের হাতেই রান্নার ভার, তবে সেটা যেন ঘরের রান্নাঘরেই। এর বাইরে কেউ কিছু করতে চাইলে সেটা হয় রান্নার বই লেখা অথবা খুব বেশি হলে বাড়িতেই কোনো ক্যাটেরিং সার্ভিস বানিয়ে প্যাকেট লাঞ্চ সরবরাহ করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। বড় বড় জায়গায় পেশা হিসেবে রান্নার কাজটা এখনো পুরুষদেরই নিয়ন্ত্রণে। এমন মন্তব্য ভারতের এক সমাজবিজ্ঞানী স্মৃতি গোড়বোলের।

তবে আগে এই অবস্থা ছিলো না। ১৯৭২ সালের দিকে কাজটিকে শুধু কঠোর পরিশ্রম হিসেবেই দেখা হতো। এখন সেটা একটি সম্মানজনক পেশার পর্যায়ে এসেছে।
দেবিকা মাঞ্জুরীকর নামের আরেকজন রাঁধুনী কাজ করেন মুম্বাইয়ের ক্যাফে অব কলাম্বাতে। তিনি বলেন, রান্নাঘরে অন্যান্য সদস্যরা পুরুষ রাঁধুনীকে বলে শেফ আর আমাকে ডাকে ম্যাম বলে। অনেকক্ষেত্রেই দেখা যায় আমাদের মতামত খুব নীরবতার সঙ্গে গ্রহণ করা হচ্ছে, কখনো কখনো কোনো জবাবই নেই। এভাবেই নানান বাধা পেরিয়ে নারীরা কাজ করছেন রান্নাঘরে।
বাড়ির রান্নাঘরটা পুরোটাই নিজেদের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও সম্মানের প্রশ্ন আসলেই সেটা এখনো চলে যাচ্ছে পুরুষদের দখলে। অনেকে তো ভারী ভারী রান্নার পাত্র নড়াচড়া করার সময় টিপ্পনী কেটে বলেছে, এত ভারী পাত্র কি তুমি সামলাতে পারবে। তবে এতকিছু পেরিয়েও ভারতীয় নারী রাঁধুনীরা আশায় বুক বাঁধছেন, একদিন সময় বদলাবে।







