কক্সবাজার থেকে: হংকংকে মনে আছে? ২০১৪ সালের মার্চে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে তাদের বিপক্ষে খেলা ম্যাচটির কথা? মনে না থাকলে স্মৃতির ভেলায় একটু পেছন থেকে ঘুরে আসা যাক। ফতুল্লায় সেদিন স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিল টাইগার ক্রিকেট। ছোট ফরম্যাটের সেই লড়াইয়ে হংকংয়ের বিপক্ষে ২ উইকেটে হেরে বসেছিল মুশফিকুর রহিমের দল। আবারো সামনে হংকং। এবার ইমার্জিং কাপে। পুরোনো ক্ষত কি নাড়া দিচ্ছে মুমিনুলদের? ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে উঠে এলো তিন বছর আগের সেই হারের প্রসঙ্গও। তাতে অনূর্ধ্ব-২৩ দলের অধিনায়ক বাজে সেই স্মৃতি ভুলে যেতেই বললেন।
ইমার্জিং এশিয়া কাপ মাঠে গড়াচ্ছে সোমবার। উদ্বোধনী দিনে চার ভেন্যুতে মাঠে নামবে আট দল। ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচে স্বাগতিক বাংলাদেশের প্রথম প্রতিপক্ষ হংকং। কক্সবাজারের শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের এক নম্বর মাঠে সকাল ৯টায় শুরু হবে মুমিনুলদের ম্যাচ।
হংকংয়ের বিপক্ষে হারের ম্যাচে খেলা নাসির হোসেন আছেন ইমার্জিং দলে। তিনি সহ-অধিনায়ক। অধিনায়ক মুমিনুল দলের প্রতিনিধি হয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসায় নাসিরের মন্তব্য জানা গেল না। তবে মুমিনুল মনে করিয়ে দিলেন দিন বদলের কথা, ‘বাজে স্মৃতি আপনারা বাদ দিন। সামনে যেটা আছে সেটা নিয়ে থাকুন। তখনকার ক্রিকেট আর এখনকার বাংলাদেশের ক্রিকেটে অনেক পার্থক্য। এটা আপনারা জানেন, আমরা ক্রিকেটাররাও জানি। ওটা নিয়ে পড়ে থাকার কিছু নেই। কাল যেটা হবে সেটা নিয়ে ভাবা উচিত।’
টেস্ট ক্রিকেটের আদর্শ ব্যাটসম্যান মুমিনুল হক খেলতে পারেননি বাংলাদেশের শততম ম্যাচে। কলম্বোয় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে স্কোয়াডে জায়গা হয়নি। মাইলফলকের ম্যাচে বাংলাদেশ পায় ঐতিহাসিক জয়। ওয়ানডে সিরিজও শুরু হয়েছে জয় দিয়ে। টাইগারদের এই সাফল্যকে অনুপ্রেরণা হিসেবে নিয়ে ইমার্জিং কাপে ভালো কিছু করতে চান মুমিনুল, ‘আমার জন্য ভালো বাংলাদেশ জিতেছে। এই ভালো লাগা সবার মধ্যে আছে। অন্য টিমগুলো একটু ভয়ে থাকবে। আমাদের জন্য এটা ইতিবাচক দিক।’
জাতীয় দল ভালো করায় ইমার্জিং কাপের দলও ভালো করার জন্য মুখিয়ে থাকবে বলে মনে করছেন এই বাঁহাতি ব্যাটসম্যান, ‘বাংলাদেশ যেহেতু ভালো খেলছে, এখানেও ভালো করা উচিত সবার। জাতীয় দল ভালো করলে স্বাভাবিকভাবে তার প্রভাব অন্য দলগুলোতেও থাকে।’
উদীয়মান ক্রিকেটারদের নিয়ে আসর গড়ালেও এশিয়ার চার টেস্ট প্লেয়িং দেশ খেলাতে পারছে জাতীয় দলের চারজন ক্রিকেটার। বাংলাদেশ দলে জাতীয় দলের অভিজ্ঞতা সমৃদ্ধ ক্রিকেটার অবশ্য সাতজন। মুমিনুল-নাসিরের সঙ্গে আছেন মোহাম্মদ মিথুন, আবু হায়দার রনি, আবুল হাসান রাজু, নাজমুল হোসেন শান্ত ও সবশেষ যোগ হওয়া শফিউল ইসলাম। তারা পরীক্ষিতই।
নবীন বেশ কয়েকজন ক্রিকেটারের মাঝেও দারুণ সম্ভাবনা দেখছেন অধিনায়ক, ‘আমরা ভালো টিম নিয়েই খেলছি। তরুণ ক্রিকেটাররাও বেশ ভালো। তারা সবাই প্রমাণ করেই এখানে এসেছে। প্রস্তুতি ম্যাচে ভালো করেছে। আমরা ম্যাচ বাই ম্যাচ খেলবো, ভালো খেলাই লক্ষ্য থাকেবে।’
উদীয়মান ক্রিকেটারদের আসর হলেও এখানে ভালো করে জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ নিতে চাইবেন ক্রিকেটাররা। তবে ব্যক্তিগত লক্ষ্যের বিষয় বরাবরের মতো আড়াল করেই রাখলেন মুমিনুল, ‘নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে অত বেশি চিন্তা করছি না। চিন্তা করলে দলের জন্য ভালো করাটা কঠিন হয়ে যায়। সবার আগে হলো দল। সবাই চেষ্টা করবে দলের জন্য খেলার। দলের জন্য খেললে নিজের কাজটা হয়ে যায়।’
২০১৫ সালে ‘এ’ দলের হয়ে ভারত সফরে অধিনায়কত্ব করেছিলেন মুমিনুল। আবার পেয়েছেন দায়িত্ব। বললেন, ‘ওভাবে কঠিন মনে হচ্ছে না। উপভোগ করছি। কোচ-ম্যানেজার, সিনিয়র প্লেয়ারদের মধ্যে নাসির-মিঠুনরা খুব সহায়তা করছে। নিজেকে আলাদা কিছু মনে হচ্ছে না।’
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের লাবনী পয়েন্ট ঘেঁষে গড়ে উঠেছে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়াম। এখান থেকে মুমিনুলের বাড়ি ৩ কিলোমিটার দূরত্বের বৈদ্যঘোনায়। খেলতে কক্সবাজার এসে বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করেছেন। বাসায় গিয়ে খেয়ে এসেছেন মায়ের হাতের রান্না। খুব ভালো সময় কাটছে বলে জানালেন এই তরুণ।
সাগড়পাড়ের ছেলে মুমিনুলের খেলা দেখতে সোমবার যে স্থানীয় দর্শকরা মাঠে ভীড় করবেন তা আঁচ পাওয়া গেল রোববারের অনুশীলনেই। বেশ কিছু ভক্ত ভীড় করেছিলেন মাঠে। মুমিনুল এই সুযোগাটা নেবেন বলেই জানালেন, ‘আমি যখন খেলবো আমার অনেক ভক্ত মাঠে থাকবে। তারা আমাকে উৎসাহ দেবে। এই ফায়দা আমি নিতে চাই। এটি আমাকে ভালো খেলতে সাহায্য করবে।’







