শরীরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ মস্তিষ্ক বা ব্রেইন।যা আমাদের শ্বাস-প্রশ্বাস, খাওয়া, ঘুম, চলাফেরা সবকিছুকেই নিয়ন্ত্রণ করে।এটি শরীরের যাবতীয় কার্যক্রমের সেন্ট্রাল প্রসেসর হিসেবে কাজ করে। আমাদের দেখা, শোনা, গন্ধ, অনুভূতি সবকিছুরই ব্যাখ্যা করতে পারে ব্রেইন।
বেশিরভাগ সময় কিছু বাজে অভ্যাসের কারণে আমরা ব্রেইন নষ্ট করে ফেলি।যা অবশ্যই পরিত্যাগ করা উচিত। এরকম দশটি বিষয় হলো-
১.সকালে নাস্তা না করা
অনেকসময় আমরা নানা অজুহাতে সকালের নাস্তা করি না। এটা আমাদের পুষ্টি, শক্তি কমানোর পাশাপাশি আরও অনেক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এমনকি এই অভ্যাস ধীরে ধীরে আমাদের ব্রেইনকে ড্যামেজ করে দেয়।
২.প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাওয়া
ব্রেইন ড্যামেজের এটিও একটি বড় কারণ।প্রয়োজনের বেশি খেলে ব্রেইন তার কাজ করতে দ্বিধায় পড়ে যায় এবং ইনসুলিন হরমোন উৎপাদনের মাত্রায় প্রভাব পড়ে।তাই কম খাওয়া এবং বেশি খাওয়া দুটোই ব্রেইনের জন্য ক্ষতিকর।
৩.পানিশূন্যতা
শরীরে পানির অভাব হলে ব্রেইন এর কোষগুলো সঠিকভাবে কাজ করতে পারে না।তাই শরীরের পানির চাহিদা ঠিকভাবে পূরণ করা উচিত।

৪.অতিরিক্ত রাত জাগা
শারীরিক ও মানসিক সুস্থতার জন্য ঘুম বিশেষ প্রয়োজন। এক্ষেত্রে দৈনিক আট ঘণ্টা ঘুম একজন পূর্ণ বয়স্ক মানুষের জন্য যথেষ্ট। অন্যদিকে নিদ্রাহীনতা ব্রেইনের কোষগুলোকে নষ্ট করে দেয় এবং কর্মশক্তিকে কমিয়ে দেয়।
৫.মানসিক চাপ
অতিরিক্ত মানসিক চাপ ব্রেনের জন্য ভীষণ ক্ষতিকর।তাই চাপ কমান এবং সুস্থ থাকুন।
৬.মাথা ঢেকে ঘুমানো
অনেকের মাথা ঢেকে ঘুমানোর অভ্যাস থাকে।এতে কার্বন-ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বেড়ে যায় এবং অক্সিজেনের মাত্রা কমে যায়।আর অক্সিজেনের স্বল্পতা ব্রেনের কোষগুলোকে নষ্ট করে।
৭.অতিরিক্ত চিনি খাওয়া
অতিরিক্ত চিনি খেলে ব্রেইন ড্যামেজ হতে থাকে।অন্যদিকে এটি শরীরের প্রোটিনের মাত্রাকে শোষণ করতে থাকে।ফলে পুষ্টিহীনতা দেখা দেয়।
৮.ধূমপান
এটি যে শুধু ফুসফুসের ক্ষতি করে তাই নয়,ব্রেইনকেও ড্যামেজ করে।এমনকি অতিরিক্ত ধূমপান ব্রেইনকে সংকুচিত করে ফেলে।

৯.প্রয়োজনের কম কথা বলা
আমাদের অনুভূতিগুলো আমরা কথা দিয়ে প্রকাশ করে থাকি। প্রয়োজনের কম কথা বললে ব্রেইনের চিন্তাশক্তি কমে যায়।তাই আপনি যা বলতে চাচ্ছেন তা বলে ফেলুন।
১০.অসুস্থ অবস্থায় জটিল চিন্তা করা
আমরা যখন অসুস্থ থাকি তখন জটিল চিন্তা করা থেকে বিরত থাকতে হবে।কারণ এসময় ব্রেইন বিশ্রাম নিতে চায়।তখন জটিল চিন্তা করলে তা ব্রেইনের জন্য ক্ষতিকর।
তাই সুস্থ দীর্ঘায়ু পেতে চাইলে আমাদের এসব বিষয়কে পরিহার করতে হবে।








