‘সমৃদ্ধ আগামীর পথযাত্রায় বাংলাদেশ’ শিরোনামে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেট পেশ শুরু করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। নতুন অর্থ বছরে বাজেটের প্রস্তাবিত আকার ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৫৭৩ কোটি টাকা।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সদা হাসিমুখের অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত কালো ব্রিফকেসে বন্দী বাজেট নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রবেশ করেন বেলা পৌনে ১টায়। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর অনুমতি নিয়ে চলতি অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট এবং আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট পেশ শুরু করেন অর্থমন্ত্রী।
গত কয়েক বছরের ধারাবাহিকতায় এবারও পাওয়ার পয়েন্টের মাধ্যমে বাজেট বক্তৃতা উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী। বক্তৃতার শুরুতেই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, জাতীয় চার নেতা এবং মুক্তিযোদ্ধাদের স্মৃতির প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানান অর্থমন্ত্রী।
এর আগে চ্যানেল আইকে একান্ত সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী বলছিলেন: নির্বাচনী বছর, তাই বাজেট তৈরিতে বিষয়টি মাথায় রেখে কর বসানোর ক্ষেত্রে সতর্ক ছিলেন তিনি।
এবারের বাজেটে রাজস্ব আয়ের সম্ভাব্য আকার ২ লাখ ৯৬ হাজার ২শ’ ১ কোটি টাকা।
আগামী অর্থবছরের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি চূড়ান্ত হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা। বাজেটে মূল্যস্ফীতি ধরা হয়েছে ৫ দশািমক ৫ শতাংশ, প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা রাখা হয়েছে ৭ দশমিক ৮ শতাংশ।
সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচীর আওতায় উপকারভোগীর সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে ১০ লাখ। মাতৃত্বকালীন এবং দুগ্ধদানকারী গরীব কর্মজীবি মায়েদের ভাতা ৩শ টাকা করে বাড়ানো হয়েছে।
৪ লাখ ২৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ের মধ্যে বড় দুই খাত উন্নয়ন ব্যয় এবং অনুন্নয়ন ব্যয়। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি এডিপির আকার ধরা হয়েছে হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ৮শ’ ৬৯ কোটি টাকা।
এবার অনুন্নয়ন বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ২ লাখ ৮৭ হাজার ৩শ’ ৩১ কোটি টাকা। রাস্তা-ঘাট, স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ নানা ধরনের অবকাঠামো নির্মাণের বাইরে সরকার যে ব্যয় করে তাই অনুন্নয়ন ব্যয়। এর বড় অংশ চলে যায় সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা, পেনশন পরিশোধ এবং দেশের ভেতর ও বিদেশ থেকে নেয়া ঋণের সুদ পরিশোধে, ভর্তুকি ও প্রণোদনা ব্যয় মেটাতে। আবার সরকার বছরজুড়ে বিভিন্ন ধরনের পূর্ত কার্য করে, শেয়ার ও ইক্যুইটিতে বিনিয়োগ করে তার সংস্থানও হয় অনুন্নয়ন মূলধনী ব্যয় থেকে।
আওয়ামী লীগ সরকারের দ্বিতীয় মেয়াদের শেষ বাজেট এটি। ২০০৮ সালে নির্বাচিত হবার পর বর্তমান সরকারের দশম বাজেট। অর্থমন্ত্রী হিসেবে এটা আবদুল মুহিতের ১২তম বাজেট। বর্তমান সরকারের প্রথম মেয়াদে ২০০৯-১০ অর্থ বছরে ১ লাখ ১৩ হাজার ৮১৫ কোটি টাকার বাজেট দিয়ে শুরু করেছিলেন মুহিত।
এবারের বাজেটকে আরো অংশগ্রহণমূলক করার লক্ষ্যে অর্থ বিভাগের ওয়েবসাইট http://www.mof.gov.bd -এ বাজেটের সকল তথ্যাদি ও গুরুত্বপূর্ণ দলিল যে কোনো ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পড়তে ও ডাউনলোড করতে পারবে এবং দেশ বা বিদেশ থেকে ওই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে ফিডব্যাক ফরম পূরণ করে বাজেট সম্পর্কে মতামত ও সুপারিশ পাঠানো যাবে।
প্রাপ্ত কল মতামত ও সুপারিশ বিবেচনা করা হবে। জাতীয় সংসদে বাজেট অনুমোদনের সময়ে ও পরে তা কার্যকর করা হবে।
ব্যাপক ভিত্তিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকারি ওয়েবসাইট লিংক http://www.bangladesh.gov.bd, http://www.nrb-bd.org, http://www.plancomm.gov.bd, http://www.imed.gov.bd, http://www.bdpressinform.portal.gov.bd, http://www.pmo.gov.bd ঠিকানায় বাজেট সংক্রান্ত তথ্য পাওয়া যাবে।
বাজেট উপস্থাপনের পর ৮ জুন শুক্রবার বিকেল আড়াইটায় ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে বাজেটোত্তর সাংবাদিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।







