অরাজনৈতিক হওয়াটা এখন যেন এই স্বার্থজীবি সময়ের ফ্যাশন। মানুষ দলনিরপেক্ষ হতে পারে, সেটা দরকারও। বিশেষত, অাজকের দলবাজদের সর্বগ্রাসী অাগ্রাসনে দলবাজির দেশে। কিন্তু, দেশ নিয়ে তারুণ্য ভাববে না, রাজনীতির নীতিবিমুখতা, কদর্যতা তাদের জাগাবে না, ভাবনাটা বড্ড অনায্য, ন্যায়হীন।
এক একটি সময়ের সবচাইতে বড় শক্তি হলো তারুণ্য। রাজনীতি বিচ্ছিন্ন থাকাটা শান্তিকামিতার সুবিধাবাদের অক্ষরে লেখা নতুন নাম, মনে করেন অনেকে। এই শান্তিকামিতা আসলে মেরুদণ্ডহীনতার নন-রোমান্টিক রূপময়তা। তারুণ্য অার প্রজন্মের এমন দায়হীনতা শুধু যাপিত অরাজকতাকে দীর্ঘায়ুতা দেয়। ন্যায়, সাম্য ভিন্নমতের প্রতি সহিষ্ণুতার মত যে ভীতগুলোর উপর স্বাধীন হয়েছে যে দেশটা, সেইখানে অাজ অন্যায় পেয়েছে সার্বজনীনতা।
ন্যায়, ইনসাফ, ন্যায্যতা অাজকের বাস্তবতায় ভীষণ ভীষণভাবে অনুপস্থিত এ উপত্যকায়।
ফেসবুক অার স্যোশাল মিডিয়া অাজকের তারুণ্যকে বাড়ি নিয়ে গেছে। নিয়ে গেছে অনলাইনে স্বার্থ অার সম্পর্কের কাটাকাটি খেলায়। এ প্লাস অার জিপিএ ফাইভ শিক্ষাব্যবস্থা বাড়াচ্ছে শুধু হতাশা অার অালোর নিচে অন্ধকারের বৃত্তের প্রস্থ।
জেগে ঘুমানো অাত্মকেন্দ্রীক তারুণ্যের দেশে শাসকেরা নিরাপদে চালায় অরাজকতা। সরকার পাল্টায়, অাদৌ পাল্টায় না সুবিধার উচ্ছিষ্ট ভোগী সরকারী দলের চিত্র। অাদালত,সংবিধান সবকিছু এখানে ক্ষমতা উল্টায় তার সুবিধার নামে, রাজনীতির অস্বচ্ছ খামে।
তবু বিশ্বাস করি, এ অচলায়তন ভাঙ্গবেই। তারুণ্য অার প্রজন্ম জাগবেই। এত অনিশ্চয়তা, রাজনৈতিক দুবৃত্তায়নের দেশে জিডিপির অগ্রগতি, রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়ছেই। বিশ্বাস করি, এ অর্জন কোন রাজনৈতিক দলের নয়, নয় কোন সরকারেরও। এ অর্জন বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকের, মেহনতী হাতের এ কৃতিত্ব অামাদের মত প্রবাসী শ্রমিকের।
স্বাধীনতার পর থেকে অাজকের সময়টাতেই দেশে সবচেয়ে বেশি কর্মক্ষম হাত, তারুণ্য। এখনকার সময়টা বাংলাদেশের সমৃদ্ধি অার অগ্রগতির বিপ্লবের মাহেন্দ্রক্ষণ। সরকারগুলো ক্ষমতা কার কাছে ছেড়ে যাবে, নির্বাচনগুলো কিভাবে সুষ্ঠ হবে, এমন কিছু ইস্যুতে জাতীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক সদিচ্ছা অার ঐক্যমত পাল্টে দিতে পারে পরিস্থিতি দ্রুতলয়ে। রাজনৈতিক সে কাঙ্খিত স্থিতিশীলতার জন্য দরকার একটি সামাজিক জাগরণ। সে জাগরণের অনিবার্য অনুঘটক তারুণ্য। সে তারুণ্য রাজনীতিবিমুখ থাকলে কারো সাধ্য নেই অচলাবস্থার নিরসনের। যেদিন অন্ধ দলবাজি, সুবিধাবাজি অার ফটকাবাজির রাজনীতির বিরুদ্ধে সমস্বরে কথা বলবে তারুণ্য তখনই অাসবে নতুন সকাল।
দেশে বিবাদমান দলগুলোর দালালদের অভাব নেই। অাজ সময়ের প্রয়োজনে দরকার শুধুমাত্র বাংলাদেশের পক্ষের দালালদের। যে তারুণ্য ন্যায়ের জন্য প্রতিবাদের দ্রোহের অক্ষরে কথা বলবে রাজনীতিবিমুখতার অন্তঃসার শুন্য চলতি হাওয়ার উল্টোস্রোতে।
এ লেখাটি যখন লিখছি, লন্ডনে বৃহস্পতিবার ভোর তখন চারটা। অনুজপ্রতিম সাংবাদিক অাহমেদ মনসুরের সাথে খানিক অাগের সপ্নবাজীর অালাপের রেশ জানি সকাল অানতে পারবে না। সে সকাল খালি অানতে পারে মধ্য অার নিম্ন মধ্যবিত্ত তরুণ হাতগুলোর ভাতমাখা, স্বপ্নমাখা অাঙ্গুলে ঐক্যের অালিঙ্গন, স্বপ্নের সন্মিলন।
(এ বিভাগে প্রকাশিত মতামত লেখকের নিজস্ব। চ্যানেল আই অনলাইন এবং চ্যানেল আই-এর সম্পাদকীয় নীতির সঙ্গে প্রকাশিত মতামত সামঞ্জস্যপূর্ণ নাও হতে পারে)








