বাংলাদেশ-পাকিস্তান ম্যাচই নিশ্চিত করে দেবে এশিয়া কাপে শুক্রবারের ফাইনালে ভারতের প্রতিপক্ষ কে হবে। দুদল এটাও ভালো করে জানে, বুধবার একমাত্র জয়ই শিরোপা ছোঁয়ার কাছাকাছি নেবে তাদের। আর হার মানেই পথের শেষ।
পারফরম্যান্স এবং ধারাবাহিকতার বিচারে চলতি এশিয়া কাপে প্রায় একইবিন্দুতে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশ-পাকিস্তান। তবে ক্ষেত্র বিশেষে একদল যেমন অন্যের চেয়ে এগিয়ে আছে, আছে পিছিয়েও। সেই বিচারে বাংলাদেশ ম্যাচে তিনটি দিক নিয়ে চিন্তায় পাকিস্তান।
বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণ
আরব আমিরাতের পিচ খুবই স্পিনবান্ধব। এই আমিরাতে এশিয়া কাপের ক্যাম্পেইনে শুধু প্রতিপক্ষের স্পিনঘূর্ণির সামনেই ১৪বার কুপোকাত হয়েছে পাকিস্তান। গ্রুপপর্ব ও সুপার ফোরের ম্যাচে ভারতের দুই স্পিনার কুলদীপ যাদব ও যুজবেন্দ্র চাহালের বিপক্ষে রীতিমত খাবি খেতে হয়েছে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যানদের।
বাংলাদেশের স্পিন আক্রমণের ব্যাপারে তাই চিন্তা করতেই হচ্ছে পাকিস্তানকে। সাকিব আল হাসান টুর্নামেন্টে এরইমধ্যে ৭ উইকেট নিয়েছেন। শুধু সাকিবই নন, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাজমুল হাসান অপু এবং মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দিক থেকেও চোখ সরালে বিপদ পাকিস্তানের।
ওপেনিং জুটি
ব্যাট হাতে ইনিংসের প্রথমভাগে দারুণ শুরুই শীর্ষস্থানীয় দলগুলোর সাফল্যের অন্যতম চাবিকাঠি। এই এশিয়া কাপে সেটা আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছেন ভারতের দুই ওপেনার রোহিত শর্মা ও শেখর ধাওয়ান। সেক্ষেত্রে জুটি হয়ে উঠতে পাকিস্তানের দুই ওপেনার এখনো পর্যন্ত ফ্লপ। আক্ষরিক, রূপক এবং পরিসংখ্যানগভাবে ব্যাকফুটে ইমাম-উল হক এবং ফখর জামান। ইমাম যদিও রান পেয়েছেন।
চার ম্যাচে ইমাম-ফখরের জুটি রান তুলেছে যথাক্রমে ৪১, ২, ০ ও ২৪। বিশেষ করে ফখর জামানের স্বাভাবিক চরিত্রবিরোধী ব্যাটিং পাকিস্তানকে ভালো শুরু এনে দিতে পারেনি।
ইনিংসের শুরুতে উইকেটের পতন মিডলঅর্ডারের উপর বাড়তি চাপ বাড়াচ্ছে। ফলে বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমে বা টার্গেটে যে পরিস্থিতিতেই ব্যাট করকে হোক না কেনো, পাকিস্তনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে ওপেনিং জুটিই।
পেস আক্রমণে তালগোল
পাকিস্তানের পেস আক্রমণের ব্যাপারে বিশ্বের সব দলগুলোর একটা আলাদা ভীতি থাকে। ম্যাচ বিশ্বের যেখানেই হোক না কেনো। কিন্তু এশিয়া কাপে লাইন-লেন্থ খুঁজে পেতে রীতিমত লড়াই করতে হচ্ছে তাদের পেসারদের।
সবচেয়ে বেশি আলোচনায় মোহাম্মদ আমির। তিন ম্যাচে একটি উইকেটও নিতে পারেননি তিনি। প্রথম দুই ম্যাচের পর সুপার ফোরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে স্কোয়াডেও রাখা হয়নি তাকে। এশিয়া কাপের আগে ও পরে মিলিয়ে মোট ৩৫ ওভার ধরে উইকেটশূন্য আমির। বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচেও আমিরকে নিয়ে চিন্তায় আছে পাকিস্তান।
পাকিস্তানি পেসারদের মধ্যে একমাত্র হাসান আলীই এশিয়া কাপে দলের হয়ে সবগুলো ম্যাচ খেলেছেন। তিনিও তেমনভাবে আলো ছড়াতে পারেননি। ৫১.৬৬ গড়ে উইকেট নিয়েছেন ৩টি। বাংলাদেশের বিপক্ষে আশাব্যঞ্জক ফল করতে হলে আমির-হাসানদের দারুণকিছুই করতে হবে, সেটা ভালোভাবেই ভাবাচ্ছে পাকিস্তান দলকে।








