নারীরা পারেন না এমন কোন কাজ নেই। গত বেশকিছুদিন ধরে বাংলাদেশের নারীরা তাদের ব্যক্তিগত অর্জন দিয়ে তাই প্রমাণ করেছেন বারবার। যে দেশে প্রধানমন্ত্রী নারী, বিরোধীদলীয় নেতা নারী, জাতীয় সংসদ এর স্পীকার নারী, আবার বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের প্রধান খাতের মুখ্য ভূমিকা পালনকারীরাও নারী সেই দেশের নারীরা একের পর এক কৃতিত্বই গড়বেন।
প্রায় একশ’ বছর আগে নারী জাগরণের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া তার অনন্য সৃষ্টি ‘সুলতানার স্বপ্ন’ গ্রন্থে যে সুদূরপ্রসারী চিন্তার প্রকাশ ঘটিয়েছিলেন নারীদের জন্য, তা এখন যেনো বাস্তব।
মাত্র কিছুদিন আগেই এদেশেরই দুই নারী সেনা অফিসার সফল প্যারাসুট জাম্প করে ইতিহাস গড়েছিলেন। তাদের কৃতিত্বে গর্বিত হয়েছিলো জাতি। এইতো সেইদিন, আনসারের মাবিয়া অক্তার সীমান্ত তার কৃতিত্বের আলো ছড়িয়েছেন দেশের সীমানা ছাড়িয়ে বিদেশেও, হাকিয়েছেন এস এ গেমস ভারোত্তলনে সেরা পুরস্কার সোনার মেডেল।
বেশিদিন যায়নি, দেশের ইতিহাস গড়েছেন আরেক নারী। জাতীয় পুলিশ সপ্তাহের বার্ষিক প্যারেডের কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করে গর্বিত করেছেন জাতিকে। তিনি পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার বিউটি। টেলিভিশনের কল্যাণে পুরো দেশবাসী দেখেছে তার কৃতিত্ব।
বিউটির শৈশব আর কৈশোর কেটেছে ফরিদপুরের চর মাধবদিয়ার কসিম উদ্দিন ব্যাপারীর ডাংগী গ্রামে। স্কুল কলেজ পেরিয়ে পাঠ নিয়েছেন সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। যোগ দেন বিসিএস পুলিশ ক্যাডারে। এরপর উচ্চ শিক্ষার জন্য গেছেন যুক্তরাজ্যের বার্মিংহাম বিশ্ববিদ্যালয়ে। ছাত্রজীবনে বিএনসিসির ক্যাডেট থাকাকালেই বিমান চালনা শিখে কো-পাইলট হিসেবে বিমানও চালিয়েছেন। পুলিশে চাকরির শুরু থেকেই স্বপ্ন ছিলো বাহিনীর যেকোনো পর্যায়ে নেতৃত্বে দেয়ার।
শামসুন্নাহার বলেন, আমার কমান্ডে ১৩ টি কন্টিনেন্ট যখন প্রধানমন্ত্রীকে প্রথম স্বশস্ত্র সালামটা দেই তখন আমার মনে হচ্ছিলো এখন যদি আমাকে কেউ সামনে থেকেও গুলি করে আমি একটুও পিছপা হবো না। দেশের জন্য এই অনুভূতি, এই গর্ববোধ তখন আমার হচ্ছিলো।
লিয়েনে চাকরি করেছেন জাতিসংঘ কর্মকর্তা হিসেবে। সবসময় মনে করেন যে বাধাই আসুক তা ডিঙিয়ে দ্বিধাহীনভাবে এগিয়ে যেতে হবে।
বলেন, খোলা জিপেই আমার সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর একটুখানি কথা হয়েছে। তারপর যখন আমাদের পরিচিতি হচ্ছে তখনও তিনি অনেক খুশি হয়েছেন বলে অনুভূতি ব্যক্ত করেন। সেটাই আমার জীবনের পরম পাওয়া।
তার মতে নারীরা পারে না এমন কোনো কাজ নেই। অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য নারীদের মানসিক শক্তি অর্জন করতেই হবে।
বলেন, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হতে হবে। যার যার মেধা ও যোগ্যতা অনুযায়ী। তাহলেই আমার মনে হয় মেয়েদের আর কোনোদিন পিছপা হতে হবে না।
মা ও স্বামীর উৎসাহেই জীবনের এ অবস্থানে আসা। পরিবারকে পাশে পেয়েছেন সব সময়। দুই সন্তান আর স্বামীকে নিয়ে সুখের সংসার এই পুলিশ সুপারের।






