পরিকল্পনা মন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বাংলাদেশে বিশ্বাস নেই, এমন মানুষকে গণতন্ত্রের নামেও রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বানানোর সুযোগ নেই।
রোববার ‘চ্যালেঞ্জিং ইন্টারফেইস অব সিকিউরিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এ কথা জানান।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ সম্মেলন কক্ষে এ সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) সেমিনাটির আয়োজন করে।
গণতান্ত্রিক সরকার আছে বলেই অর্থনীতি দিন দিন শক্তিশালী হচ্ছে বলে দাবি করেন পরিকল্পনা মন্ত্রী।
মন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক উন্নয়নে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশ্বব্যাপী নিরাপত্তা জোরদার করতে বহুগুণ অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। আমরা কদিন আগেও এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তা করতে পারিনি। ৬ষ্ঠ ও ৭ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় এ বিষয়ে একটি লাইনও নেই। এটা আমাদের একার সমস্যা নয়।এ সমস্যা বিশ্বব্যাপী।
চ্যানেল আইয়ের টকশো তৃতীয় মাত্রার সঞ্চালক জিল্লুর রহমানের সঞ্চালনায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অর্থনীতিবিদ মামুন রশিদ।
অর্থনীতির অগ্রযাত্রায় নিরাপত্তা ইস্যুটিকে নতুন করে ভাবার পরামর্শ দেন তিনি। তবে নিরাপত্তার নামে পুলিশি রাষ্ট্র তৈরি হোক তাও কাম্য নয় বলে মন্তব্য করেন আলোচকরা।
শিক্ষাবিদ ডক্টর সায়রা খান বলেন, আমেরিকার গণতন্ত্র আর আমাদের গণতন্ত্র এক নয়। কাজেই তাদের গণতন্ত্র আমাদের অনুকরণ করার দরকার নেই। তাদের মূল্যবোধ ও আমাদের মূল্যবোধও এক নয়। আমাদের সমাজ মানব কাঠামো সবই আলাদা। তারা যে সমস্ত অধিকারে বিশ্বাস করে আমরা তা করি না।
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সভাপতি বদিউল আলম মজুমদার বলেন, নিরাপত্তা আর উন্নয়ন নিয়েই কথা বললেই হবে না, সুশাসন আর গণতন্ত্রহীনতা এসব বিষয়েও আমাদের নজর দিতে হবে।আমাদের দেশে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটেছে। আমরা দুই দুইবার বাংলাদেশে স্বাধীন হয়েছি কিন্তু নাগরিক হতে পরি নাই। আমরা নিজেরা প্রজা, প্রজার মতো আচরণ করি আর আমাদের সঙ্গে প্রজার মতো আচরণ করা হয়।
ধর্মের নামে সন্ত্রাস কেন?- প্রশ্ন ছিলো আলোচকদের। ইসলাম এবং মুসলমানদের বিরুদ্ধে জনমত গড়তেই আইএস এর সৃষ্টি বলে মন্তব্য তাদের।
সাবেক সেনাপ্রধান অবসরপ্রাপ্ত লে. জে. নুরউদ্দিন খান বলেন, এই যে আইএসের কথা বলা হচ্ছে, এর পেছনে আছে আমেরিকা। আমরা সিনেমায় দেখেছি ইরাকের সু্ন্নী মুসলমানদের জেলে কিভাবে কুকুর লেলিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। এই বন্দীরাই পরে মুক্ত হয়ে আইএসের গোড়াপত্তন করে। সারা পৃখিবীতে বিস্তার ঘটায়, সিরিয়াকে লক্ষ্যবস্তু করে।এটা দু:খজনক, কিন্তু সত্য হলো এ পুরো ঘটনার পেছনে আমেরিকার হাত রয়েছে।
রাষ্ট্রবিজ্ঞানী অধ্যাপক আতাউর রহমানের সভাপতিত্বে আলোচনায় ঘুরে ফিরেই আসে পয়লা জুলাই গুলশানে হলি আর্টিজানে সন্ত্রাসী হামলার কথা।








