সফররত ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, বাংলাদেশের পাশে থাকবো, এক সাথে পথ চলবো। এদেশে আমাকে যে সম্মান দেওয়া হয়েছে; তা ভারতের সোয়াশ’ কোটি মানুষের সম্মান। বাংলাদেশ সফরের শেষ দিনে রোববার বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে উন্মুক্ত বক্তৃতা করেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আয়োজিত এ বক্তৃতায় মোদি বলেন, যে দেশের জন্য আমাদের সেনারা রক্ত দিয়েছে; সেদেশের উন্নতির সংবাদ অামাদের জন্য সব সময়ই আনন্দের।
বাংলাদেশের বিকাশ যাত্রা কখনো থমকে দাঁড়াবে না মন্তব্য করে তিনি বলেন, ভারতের যুবশক্তি যেমন শক্তি বাংলাদেশেরও ঠিক তেমনি। কেননা দুই দেশেরই মোট জনসংখ্যার ৬৫ শতাংশ মানুষের বয়স ৩৫’র কম। এই যুব শক্তিই আগামী দিনে দুই দেশের বিকাশের পথে নেতৃত্ব দেবে। বাংলাদেশের যে বিকাশের পথে রয়েছে তা থমকে রাখা যাবে না।
এসময় বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে শুভেচ্ছা জানিয়ে নরেন্দ্র মোদি বলেন, দেশের উন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও আমার চিন্তাধারা একই।
জঙ্গিবাদ মোকাবেলায় শেখ হাসিনার প্রসংশা করে বলেন, আমরা ৬০ বছর ধরে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিয়ে সমস্যায় আছি। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স’। আমি তার সাহসিকতার প্রসংশা করি।
স্থল সীমান্ত চুক্তি শুধুই জমি সংক্রান্ত কোনো বিষয় নয় জানিয়ে তিনি বলেন, যারা ভাববেন এটা শুধু কিলোমিটার জমির বিরোধপূর্ণ ভূমির মীমাংসা। তারা ভুল করবেন। কেননা এটা আমাদের দুই দেশকে যুক্ত করেছে। অনেক দেশ সীমানা নিয়ে যুদ্ধ করেছে। কিন্তু আমরা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানে পৌছাতে পেরেছি। সময় অনেক এগিয়েছে। সমগ্র বিশ্ব একে অপরকে ছাড়া চলতে পারে না। তাই আগামীর জন্য আমরা কীভাবে একজোট হয়ে কাজ করতে পারি; আসুন সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যাই।
এই সফরে বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক অন্যরকম উচ্চতায় পৌঁছেছে উল্লেখ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব এখন বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্কের পাশাপাশি এই সফর নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে। এটা আবার অনেকের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাাঁড়িয়েছে।
তিস্তার পানি নিয়ে দুই দেশের সমস্যা দীর্ঘ দিনের হলেও খুব তাড়াতাড়ি এই সমস্যার সমাধান করা হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রে আমরা এক হতে পেরেছি। আমি বলছি, পাখি-বাতাস-জল এই তিনটা জিনিসের জন্য দুই দেশের কারও কোন ভিসা লাগবে না। মানবতার ভিত্তিতে খুব তাড়াতাড়ি একটা সমাধানে পৌঁছানো হবে। বিশ্বাস হারাবেন না। বিশ্বাস টলে গেলে চলবে না।
বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বিষয়ে মোদি বলেন, এই দেশ ধারাবাহিকভাবে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। যা স্বাভাবিক বিষয় নয়। নারী ও শিশু মৃত্যুর হার কমাতে ভারতকে বাংলাদেশের কাছ থেকে শিখতে হবে।
এছাড়াও বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দলের অধিনায়ক সালমা খাতুনের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি আসতে আসতে দেখলাম সাইন বোর্ডে লেখা আছে ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’। সেখানে একটা মেয়ের ছবি রয়েছে। এটাই এখন বাংলাদেশের নারী ক্ষমতায়নের চিত্র।
বাংলাদেশ বস্ত্র খাতে এগিয়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে মোদি বলেন, আমি কিছুদিন আগে চীনে গিয়েছিলাম। সেখানের একটা গার্মেন্ট পরিদর্শনে গেলে ওখানকার একজন ব্যবসায়ী আমাকে বললো, আপনি এখানে এসেছেন, আপনার পাশেই রয়েছে বাংলাদেশ যারা বিশ্বে পোশাক উৎপাদনে দ্বিতীয়। ওইদিন গর্বে আমার বুক ফুলে উঠে ছিলো।
বঙ্গবন্ধু নামে যে স্যাটেলাইট মহাকাশে প্রতিস্থাপন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ভারত তাতে সহযোগিতা করবে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমি যখন প্রথম শুনেছিলাম বাংলাদেশ স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করবে; তখন হেসেছিলাম। এখন বিশ্বাস করি বাংলাদেশ তা পারবে এবং বাংলাদেশ চাইলে ভারত তাতে সহযোগিতা করবে। কেননা ভারত ইতিমধ্যে মহাকাশ গবেষণায় তার জায়গা তৈরী করে নিয়েছে।
দুই দেশের মৈত্রীতার কথা উল্লেখ করে ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবীর কোনো দেশে এমন কি আছে দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত একজন কবি লিখেছেন। বাংলাদেশ-ভারতের ক্ষেত্রে এটা হয়েছে। এটা আমাদের মৈত্রীর সবচেয়ে বড় স্মারক।
আবারও বাংলাদেশ সফরে এসে বাংলার গ্রামাঞ্চল ঘুরে দেখার আগ্রহের কথাও জানান তিনি। সবশেষে বাংলাদেশের আতিথেয়তার কথা স্মরণ করেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় গণতন্ত্রের দেশের প্রধানমন্ত্রী।
এর আগে অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তৃতা করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।






