ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি এবং আইসিসির সাবেক সভাপতি জগমোহন ডালমিয়ার প্রয়াণকে এক নিঃস্বার্থ বন্ধুর চিরবিদায় বলে উল্লেখ করেছেন বাংলাদেশে আধুনিক ক্রীড়া সাংবাদিকতার পথিকৃৎ এবং বর্তমানে কানাডা প্রবাসী ফরহাদ টিটো।
নিজের ফেসবুক পেজে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের টেস্ট স্ট্যাটাস প্রাপ্তির ক্ষেত্রে ‘বাংলাবন্ধু’ ডালমিয়ার অসামান্য অবদানের কথা কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করেন তিনি।
ফেসবুক পোস্টে ফরহাদ টিটো লিখেছেন, জাগমোহন ডালমিয়ার মৃত্যু সংবাদটা শুনে মনটা খুব খারাপ হয়ে গেল ।
ডালমিয়ার সাথে ব্যক্তিগত ভাবে পরিচয় ছিলো না উল্লেখ করে তিনি লিখেন, না, তাঁর সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত জানাশোনা ছিলো না তবে ‘৯৮ সালে কাছ থেকে দুয়েকবার দেখেছি তাঁকে। পত্রিকায় লিখেছিও তাঁকে নিয়ে।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের টেস্ট স্ট্যাটাস প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বিসিবির তৎকালীন সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরীর প্রচেষ্টা এবং ডালমিয়ার সমর্থনের কথা স্মরণ করে টিটো লিখেন, সাবের ভাই (সাবের হোসেন চৌধুরী) তখন আমাদের ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান। ডালমিয়ার সংগে তাঁর খুব ঘনিষ্ঠতা। বাংলাদেশকে টেস্ট স্ট্যাটাস এনে দিতে সাবের ভাইদের কত চেষ্টা তখন। ডালমিয়া তাদের সবচে’ বড় সমর্থক। তাঁর ‘শক্তিশালী’ সমর্থনকে ঘিরেই সাবের চৌধুরী’দের স্বপ্ন তখন ডালপালা মেলছে ।
টিটো লিখেন, আমি তখন সাবের ভাই’র পত্রিকাতেই খেলার পাতার দায়িত্বে। বাংলাদেশের অবশ্যম্ভাবী টেস্ট স্ট্যাটাস পাওয়া আর তার প্রক্রিয়া নিয়ে একটা এক্সক্লুসিভ লেখাও লিখেছিলাম ঐ সময় । বিজ্ঞ কেউ কেউ তখন আমার দেয়া তথ্যের ওপর আস্থা রাখতে পারেননি। তারা ভেবেছিলেন বাজার গরম করার জন্য এমন নিউজ করেছি আমি!
“বিভিন্ন source থেকে অনেক তথ্যই ছিলো আমার কাছে এ বিষয়ে। সাবের ভাই নিরপেক্ষতা ধরে রাখতে মুখ খুলতে চাইতেন না কিন্তু আমার কাজ আমি সেরে নিতাম কায়দা করে।”
বাংলাদেশের ভৌগলিক সীমানার বাইরে আমাদের সবচে’ বড় ক্রিকেটসংগঠক বন্ধুটির নাম জাগমোহন ডালমিয়া উল্লেখ করে ফরহাদ টিটো লিখেন, বাংলাদেশের পক্ষে ডালমিয়ার স্পষ্ট অবস্থান সম্পর্কে আমার বিশদ জানা শুধু বিসিবি প্রধানের মাধ্যমেই না, তার বাইরেও কিছু সূত্রে ।
ডালমিয়াকে বাংলাবন্ধু অভিহিত করে গত আইসিসি বিশ্বকাপে মুস্তফা কামালকে নিয়ে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা সামলানোর ক্ষেত্রে ডালমিয়ার অবদানের কথা স্মরণ করেন টিটো। তিনি লিখেছেন, শ্রীনিবাসনের কাছে অপমানিত কামালের মান ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নিয়েছিলেন তিনি। একদিকে শ্রীনিকে বিভিন্নভাবে কোণঠাসা করা আরেকদিকে মুস্তফা কামালকে তাঁর শহর কলকাতায় বিশিষ্ট ক্রিকেট অতিথি হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো – দুই কাজই স্মার্টলি করেছিলেন এই ক্যারিশম্যাটিক সংগঠক ।
বাংলাদেশ ক্রিকেটের এই অকৃত্রিম বন্ধুর মৃত্যুতে শোক জানিয়ে তিনি লিখেন, আমাদের এই মহান ক্রিকেট বন্ধুটিকে বড্ড তাড়াতাড়িই হারিয়ে ফেললাম আমরা! বাংলাদেশের ক্রিকেটের জন্য তাঁর যে আরও কিছু করার ছিলো!






