প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ঘরে ঘরে আলো জ্বালার লক্ষ্য বাস্তবায়নের জন্যই তাঁর সরকার কাজ করে যাচ্ছে।তিনি বলেন, ‘ঘরে ঘরে আলো জ্বালবো- সেটাই আমাদের লক্ষ্য। বাংলাদেশের একটি ঘরও আর অন্ধকারে থাকবে না।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিএনপি নেত্রী বিদ্যুৎ দিতে না পারলেও দিয়েছিল খাম্বা। কারণ তার ছেলে খাম্বা ইন্ডাষ্ট্রি করেছিল। তারা বিদ্যুৎ উৎপাদনতো বাড়ায়নি বরং কমিয়ে দিয়েছে। সততা ও দক্ষতার সাহায্যে উৎপাদন বৃদ্ধি করে বর্তমানে আমরা ১৫,৩৫১মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব করেছি। শতকরা ৮০ ভাগ মানুষের ঘরে আমরা বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছি। আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করলে দেশের মান যে উন্নত করা যায় তা আমরা প্রমাণ করেছি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ দুপুরে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিংয়ের মাধ্যমে নতুন ট্রান্সমিশন ও বিতরণ লাইনের পাশাপাশি আটটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধনকালে এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে আমরা গড়ে তুলবো।’ প্রধানমন্ত্রী এ সময় বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী হবার জন্য সবাইকে পরামর্শ দেন।
উদ্বোধন করা বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে মোট ১,৩৭৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হবে। প্রকল্পগুলোর মধ্যে সদ্য নির্মিত আটটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, একটি সাবস্টেশন এবং একটি সঞ্চালন লাইনও রয়েছে। প্রকল্পগুলো চালু হলে বিভিন্ন জেলার দশটি উপজেলা এবং বান্দরবানের একটি উপজেলায় বিদ্যুৎ শতভাগ সরবরাহ নিশ্চিত হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২১ বছর পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পরই সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নের জন্য আমরা চেষ্টা করেছি, যার সুফলটা এখন দেশের মানুষ পাচ্ছেন। অতীতে বিদ্যুৎ নিয়ে হাহাকার অবস্থা ছিল। আমরা বিদ্যুৎ প্রকল্পের বহুমুখিকরণের এবং বেসরকারি খাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ নেই।
সদ্য নির্মিত আটটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র গুলো হলো- শাহজিবাজার ৩৩০ মেগওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র, খুলনার ২২৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র, আশুগঞ্জ ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র, মানিকগঞ্জের ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র, নবাবগঞ্জের ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র, জামালপুরের ৯৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র, বরিশালের ১১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র এবং মদনগঞ্জে ৫৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি মতবিনিময় করেন- গোপালগঞ্জের কোটালিপাড়া, মেহেরপুরের মুজিবনগর, টাঙ্গাইলের ভুয়াপুর, নীলফামারীর সৈয়দপুর, জামালপুরের সরকারি আশেক মাহমুদ কলেজ প্রান্ত, বান্দরবানের থানচি উপজেলাবাসী, গাজীপুরের কালিয়াকৈবাসীর সঙ্গে।
অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব ড. আহমেদ কায়া কাউস পাওয়ার পয়েন্ট পেজেন্টেশনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর বিস্তারিত তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে একটি ভিডিও ক্লিপিংসও প্রদর্শন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব ড. কামাল আব্দুল নাসের চৌধুরী অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন।
অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা ড. তৌফিক-ই-এলাহী চৌধুরী, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদসহ মন্ত্রী পরিষদ সদস্যবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, সংসদ সদস্যবৃন্দ এবং উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সিং এর মাধ্যমে রুপালি ব্যাংকের ‘শিওর ক্যাশের’ মাধ্যমে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তির টাকা বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।








