বাংলাদেশে মধ্যবিত্তের হার ধীরে ধীরে বাড়ছে। একে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির উন্নতি এবং অগ্রগতির পরিচায়ক হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন, দারিদ্রের হার কমে আসা মানেই হচ্ছে যারা আগে দরিদ্র ছিলো তাদের মধ্য থেকে কিছু মানুষ এখন দারিদ্রের চক্র থেকে বের হয়ে নতুন মধ্যবিত্ত শ্রেণীতে যোগ দিচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের হিসাবমতে, ১৯৯০ সালে দেশে দারিদ্রের হার ছিলো ৫৭ শতাংশ। আর ২০১০ সালে তা ৩১ শতাংশে নেমে আসে। সিপিডির সর্বশেষ তথ্যমতে, বাংলাদেশে এখন দারিদ্রের হার ২৬ শতাংশ। তার মধ্যে ১২ শতাংশ মানুষ চরম দারিদ্রসীমার নীচে বসবাস করছে। এর মানে, অর্থনীতিবিদদের মতে, দরিদ্র লোকের সংখ্যা কমে তারা মধ্যম আয়ে প্রবেশ করছে।
বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডির) নির্বাহি পরিচালক ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, দেশের মধ্যবিত্ত শ্রেণীর ক্রমবর্ধমান সংখ্যা দেশের জন্য মঙ্গলের বার্তা দিচ্ছে। এর মাধ্যমে বোঝা যাচ্ছে দেশের মানুষ দারিদ্রের অভিশাপ কাটিয়ে বেশি আয় করছে, তাদের ক্রয়ক্ষমতা এবং চাহিদা বাড়ছে। ফলে তা দেশের জন্য ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।
তিনি মনে করেন, এই সংখ্যাটা বাড়তে থাকলে দেশের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরো বাড়বে, সেবার চাহিদা বাড়বে। সেসঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশে শিল্পায়ন হবে, সেবা খাতের সম্প্রসারণ ঘটবে এবং পণ্যের উৎপাদন বাড়বে।
ড. মুস্তাফিজের মতে, প্রতিটি দেশের জন্যই এই শ্রেণীর বৃদ্ধি একটি মঙ্গলজনক দিক।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এম এম আকাশও মনে করছেন, বাংলাদেশে মধ্যবিত্ত শ্রেণীটির বিস্তৃতি ঘটছে।
তার মতে দুটি কারণে এটি ঘটছে। প্রথমত: বাংলাদেশে কৃষির বাইরে কিছু কিছু মানুষ চলে আসছে যারা হয় পড়ালেখা করে চাকরি করছে, না হয় কেউ ব্যবসা করছে, আবার কেউ কেউ স্বাধীন পেশা গ্রহণ করছে। আর দ্বিতীয় কারণ: এখন শুধুমাত্র পরিবারের পুরুষ সদস্যই উপার্জনে যোগ দিচ্ছে না। তাদের সাথে নারীরাও প্রায় সমহারে উপার্জনে অংশ নিচ্ছে।
তবে মধ্যবিত্ত চক্রে প্রবেশের প্রথমেই এই শ্রেণীটি শিক্ষা-দীক্ষায় এগিয়ে যাচ্ছে না বলে মনে করছেন এম এম আকাশ। তিনি বলেন, এই মধ্যবিত্ত শ্রেণীর পরবর্তী প্রজন্ম এক্ষেত্রে এগিয়ে যাবে এবং এক সময়ে দেশের যে উচ্চবিত্ত শ্রেণী আছে সেখানেও জায়গা দখল করে নেবে নতুন মধ্যবিত্ত।







