বাংলাদেশ পুরো ৬০ ওভার শেষ করতে পারেনি। তাতে রান উঠেছে ২৩৪। আর নিউজিল্যান্ড খেলল তার অর্ধেক ওভার, ওভার প্রতি ৩ করে রান তুলে জমাল ৮৬। আদতে টেস্ট যে এক ধৈর্যের পরীক্ষা হ্যামিল্টন প্রথম দিনে বাংলাদেশকে যেন সেটাই শেখাচ্ছেন জিত রাভাল, টম ল্যাথামরা। প্রতিপক্ষের কোনো উইকেট না তুলতে পেরে বেকায়দা অবস্থানে মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল!
বাংলাদেশ-২৩৪/১০ (৫৯.২), নিউজিল্যান্ড-৮৬/০(২৮) (প্রথম দিন শেষে)
সবাই স্থির হয়ে খেলেন না বা পছন্দ করেন না। যেমন তামিম ইকবাল। কন্ডিশন যে অনুকূলে নয় সেটা অভিজ্ঞতা থেকে জানতেন বলে শুরু থেকেই ব্যাট চালিয়েছেন, অনভিজ্ঞ ওপেনিং সঙ্গী সাদমান ইসলামকে নিয়ে এনে দিয়েছেন দারুণ এক সূচনা । এক পর্যায়ে ১০ ওভারে ৫৩ রান যোগ হয় বাংলাদেশের স্কোরবোর্ডে।
একাদশ ওভারে ট্রেন্ট বোল্টের বলে সাদমান ২৪ করে বোল্ড হয়ে ফেরার পর ভাঙে উদ্বোধনী জুটি। কিন্তু তামিম থাকায় সাদমানের অভাবটা বোধ হল না। ওয়ানডাউনে নামা মুমিনুল হককে একপাশে রেখে ভড়কে দিলেন কিউই বোলারদের। মারমুখী খেলে তামিম ফিফটি পেলেন ৩৭ বলে। বিদেশের মাটিতে যা কোনো বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের দ্রুততম ফিফটি।
ফিফটির পর কিছুটা রয়েসয়ে খেলেন তামিম। কিন্তু সুযোগ বুঝে বাজে বলকে শায়েস্তা করতেও ভুল করেননি। এভাবেই চলতে চলতে ১০০ বলে তুলে নেন নিজের নবম টেস্ট সেঞ্চুরি। রীতিমত শাসন করেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট সেঞ্চুরি। তামিম সেঞ্চুরি তুলতে তোলার একফাঁকে মুমিনুল হক নিল ওয়াগনারের বলে উইকেটের পেছনে বিজে ওয়াটলিংয়ের ক্যাচ হয়ে সাজঘরের পথ ধরেন, ফেরার আগে করেছেন ১২ রান।
দারুণ খেলতে খেলতে ইনিংস থামে তামিমের, কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের বলে টাইগার তারকা ধরা পড়েন কিউই অধিনায়ক কেন উইলিয়ামসনের হাতে। যখন ফিরছেন নামের পাশে ১২৮ বলে ১২৬ রান, যাতে ২১ চারের সঙ্গে একটি ছক্কার মার!
তামিম ফিরতেই পথ হারায় বাংলাদেশের ইনিংস। এক সময় ২ উইকেটে ১৪২ রান তোলা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের দল প্রথম ইনিংসে অলআউট হয়ে যায় কেবল ২৩৪ রানে! তামিম ফেরার পর বাকী ব্যাটসম্যানরা উইকেট দিয়ে আসার মিছিলে শামিল হন। যে শর্ট বলে দুর্বলতা কিউই পেসারদের দেয়া টোপ গিলে সেই শর্ট বলেই সাজঘরে ফিরেছেন একেকজন ব্যাটসম্যান।
তামিম ছাড়া বাকী ব্যাটসম্যানের একজনও ৩০ রানের কোটা পার করতে পারেননি। বাকিদের মধ্যে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ২২ ও লিটন দাসের ২৯ রানই যা একটু বড়!
নিউজিল্যান্ডের হয়ে সফল বোলার নিল ওয়াগনার। ৪৭ রানে ৫ উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের মিডল ও লোয়ার অর্ডার ধসিয়ে দিয়েছেন এ কিউই পেসার!
স্বল্প পুঁজি সত্ত্বেও বাংলাদেশের বোলিংয়ের সূচনাটা খারাপ হতো না, যদি না ইবাদত হোসেনের বলে দেয়া টম ল্যাথামের লোপ্পা ক্যাচটা পিচ্ছিল হাত দিয়ে ছেড়ে দিতেন সৌম্য সরকার। সৌম্য যখন ক্যাচ ফেললেন, তখন ল্যাথাম তো দূরের কথা রানের খাতা খোলেনি নিউজিল্যান্ডই।
সেই ল্যাথামই দিন শেষে ৭৯ বল খেলে অপরাজিত ৩৫ রানে। তার ওপেনিং সঙ্গী জিত রাভাল তুলে ফেলেছেন ক্যারিয়ারের অষ্টম ফিফটি। ৮৯ বল খেলে অপরাজিত ৫১ রানে।
জীবন পাওয়ার পর একবারও বাজে শট খেলেননি ল্যাথাম। আর জিত রাভাল তো কোনো সুযোগই দেননি বাংলাদেশের বোলারদের। বল যত পুরনো হচ্ছে ততই খুঁলছেন হাত। বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা যেমন মারমুখি হয়ে খেলেছেন জিত-ল্যাথাম জুটি যেন ঠিক তার উল্টো। সাদা পোশাকের ক্রিকেট কীভাবে খেলতে হয় সেটাই যেন শেখাচ্ছেন স্বাগতিক ব্যাটসম্যানরা!







