মনিক রায়, ঝালকাঠি: বরগুনার উদ্দেশে ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা যাত্রীবাহী লঞ্চ অভিযান-১০’এ অগ্নিকাণ্ডে ৩৯ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক।
জানা গেছে: অভিযান-১০ লঞ্চটি ঝালকাঠি এসে সুগন্ধা নদীতে এলে ইঞ্জিন বিস্ফোরণে আগুন ধরে যায়। প্রায় অর্ধশত ব্যক্তির দগ্ধ লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত শতাধিক ব্যক্তি দগ্ধ অবস্থায় চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা লঞ্চ কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে জানা গেছে, এমভি অভিযান-১০ নামে যাত্রীবাহী লঞ্চটি ঢাকা থেকে তিন শতাধিক যাত্রী নিয়ে বরগুনা যাচ্ছিল। রাতে ইঞ্জিন কক্ষ থেকে আগুন লাগে। এ সময় কেবিনের যাত্রীরা ঘুমিয়ে ছিলেন। লঞ্চটি সদর উপজেলার দিয়াকুল এলাকায় গিয়ে নদীর তীরে নোঙর করে। খবর পেয়ে ঝালকাঠির ফায়ার সার্ভিসেরকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।
দগ্ধ যাত্রীদের উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতাল ও বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত হয়ে উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করছেন।
এদিকে লঞ্চে আগুনের খবর শুনে বরগুনা ও এর আশেপাশে এলাকা থেকে স্বজনরা ঝালকাঠি লঞ্চঘাট এলাকায় এসেছেন। তাদের আহাজারিতে এখানকার পরিবেশ ভারি হয়ে গেছে।
ভোর ৫টার দিকে আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসে। নিহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশংকা করছেন উদ্ধারকাজে নিয়োজিতরা।
জেলা প্রশাসক মো. জোহর আলী ও ফায়ার সার্ভিসের উপরিচালক মো. কামাল উদ্দিন ভুইয়া ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। নিহতদের পরিবারকে ২৫ হাজার টাকা অর্থ সহায়তার ঘোষণা দিয়েছে বরগুনা জেলা প্রশাসন।
লঞ্চে আগুন এবং হতাহতের ঘটনা পরবর্তী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে ঝালকাঠির উদ্দেশে ঢাকা ত্যাগ করেছেন নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী। মন্ত্রণালেয়র যুগ্মসচিব তোফায়েল আহমেদকে আহবায়ক করে সাত সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।







