চট্টগ্রাম থেকে: শরীর থেকে ১৫ কেজি ওজন কমিয়েছেন মাত্র দুই মাসে। খেয়েছেন পাস্তা আর জুস। ভাত ছাড়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা। যার ফল পাচ্ছেন শাহাদাত হোসেন রাজিব। ওজন কমে যাওয়ায় গতি যেমন বেড়েছে, বলও পাচ্ছে সঠিক নিশানা। একের পর এক সুখবরও পাচ্ছেন তিন বছর ধরে বাংলাদেশ দলের বাইরে থাকা এ পেসার।
জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সোমবার শুরু হওয়া তিন দিনের প্রস্তুতি ম্যাচ খেলার সুযোগ পেয়েছেন শাহাদাত। বিসিবি একাদশের হয়ে খেলতে ম্যাচের ভেন্যু চট্টগ্রামে পা রেখেই জানলেন, বিপিএলের ষষ্ঠ আসরের প্লেয়ার্স ড্রাফটে তাকে নিয়েছে ঢাকা ডায়নামাইটস।
দলটির অধিনায়ক ও আইকন ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান শাহাদাতের বিকেএসপির বন্ধু। যে কারণে বিপিএলে দল পাওয়ার অনুভূতি প্রকাশের শুরুটা হল সাকিবকে ধন্যবাদ দিয়েই।
‘বন্ধু সাকিবকে ধন্যবাদ, আমাকে নেয়ার জন্য। বিপিএল অনেক বড় টুর্নামেন্ট। জাতীয় দলে ফিরতে দারুণ মঞ্চ। এ বছর সবাই দেখেছে কতটা পরিশ্রম করেছি। জাতীয় লিগে কেমন বোলিং করেছি। এটা আমার জন্য অনেক বড় একটা সুযোগ। ঢাকা অনেক বড় দল। চেষ্টা করবো ভালো বোলিং করে সুযোগ কাজে লাগাতে।’
গত আসরে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে শাহাদাত খেলতে পারেন মাত্র দুটি ম্যাচে। প্লেয়ার্স ড্রাফটে দল পাননি। স্কোয়াডে যোগ হন টুর্নামেন্টের মাঝপথে। চোটের কারণে জাতীয় দল থেকে বাদ পড়ার পর গত তিন বছর বিসিবির কোনো দলেই খেলতে পারেননি। আরেকটু হলে হারিয়েই যেতে বসেছিলেন। হারাননি পরিশ্রম, খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও মানসিকতা বদলে। নিজেকে প্রস্তুত করে হাঁটছেন জাতীয় দলের দুয়ারে।
জাতীয় দলের অনুশীলনের নেটে ব্যাটিং করে এই পেসারের বোলিংয়ের ঝাঁজ টের পেয়েছেন তামিম ইকবাল ও মুশফিকুর রহিম। সে খবর ছড়িয়ে যেতে সময় লাগেনি অন্য সিনিয়র ক্রিকেটারদের মাঝে। জাতীয় লিগের প্রথম ম্যাচেই দুই ইনিংসে নেন ৪ উইকেট। তখন নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের বাহবা পেয়েছেন মাঠে বসেই। ফেরার রাস্তা প্রশস্ত করতে এবার প্রমাণ করার পালা আরও বড় মঞ্চে। জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন দিনের ম্যাচে।
টেস্ট ক্রিকেটে পেসারদের মধ্যে এখনও বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি শাহাদাত চান জহুর আহমেদে চৌধুরী স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের সবচেয়ে বেশি উইকেট শিকার করে আলো কাড়তে।
‘যখন জাতীয় লিগে খেলছিলাম, প্রথম ম্যাচেই আমার মনে হয়েছে টেস্ট ম্যাচ খেলতেছি। নিজের মাঝে এমন পরিবেশ তৈরি করছি যেন টেস্টই খেলছি। যদি টেস্টে সুযোগ আসে তাহলে যেন আন্তর্জাতিক ম্যাচের যে চাপ সেটা মনে না হয়। তিন বছর পরও যেন আগের জায়গাতেই থাকতে পারি। চাই না কোনো চাপ নিতে। তবে হ্যাঁ, কালকের ম্যাচ আমার জন্য একটা টেস্ট ম্যাচ।’
‘মন থেকে চাইছি সবচেয়ে বেশি উইকেট পেতে। বোলিংয়ের স্পেল দেখে যেন বলতে পারে শাহাদাত হোসেন আসছে। অনেকে আসে-যায়, খেলে, আমি ওরকমভাবে খেলতে চাই না। যতদিন খেলবো বাঘের মতো খেলবো। আমি যে কষ্ট করে যাচ্ছি সেটা সবাই দেখছে। কোনো ফাস্ট বোলার এমন পরিশ্রম করেছে কিনা আমি জানি না!’








