ভারতের মধ্যম পর্যায়ের ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা বেড়ে যাওয়ায় সেখানে আন্তর্জাতিক খুচরা বিক্রেতাদের স্টল সংখ্যা বাড়ছে। এ কারণে ভারতের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়ানোরও বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এ সুযোগ কাজে লাগাতে বিদ্যমান কয়েকটি বাধা দূর করতে হবে।
শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএ ভবনে আয়োজিত এক সভায় এসব কথা বলেন সংগঠনটির সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান।
বাংলাদেশে সফররত ভারতের শীর্ষ ২৫ রপ্তানিকারকের সাথে বিজিএমইএর এই বৈঠক হয়।
সিদ্দিকুর রহমান বলেন, গত ৫ বছরে ভারতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি ছিল প্রায় ৯ কোটি ৬০ লাখ ডলার। কিন্তু গত অর্থবছরে রপ্তানি হয়েছে প্রায় ২৭ কোটি ৯০ লাখ ডলার। অর্থাৎ রপ্তানি প্রবৃদ্ধি হয়েছে প্রায় ১১৪ দশমিক ৬৯ শতাংশ। তবে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ঘাটতি এখনও অনেক বেশি, প্রায় সাড়ে ৫শ কোটি ডলার।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে তৈরি পোশাক উৎপাদনের জন্য প্রায় ৪৫ ভাগ সুতা ও তুলা আমদানি হয় ভারত থেকে। এছাড়া অন্যান্য আনুসঙ্গিক পণ্যের সিংহভাগই আসে ভারত থেকে। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে ভারতে পণ্য রপ্তানি করতে স্থলবন্দরে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা, পণ্য রাখার স্থান সংকুলান ও নন-ট্যারিফ বাধাসহ নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। বিশেষ করে বেনাপোল ও পেট্রোপোল দিয়ে বাংলাদেশের ৮০ শতাংশ পণ্য রপ্তানি হয়। কিন্তু এসব বন্দরে অনেক ভোগান্তির শিকার হতে হয়। তাই এসব বাধা দূর করতে দুই দেশকে এগিয়ে আসতে হবে।
ভারতে রপ্তানি বাড়ানের সুযোগ রয়েছে জানিয়ে বিজিএমইএর সভাপতি বলেন, ভারতের মধ্যম পর্যায়ের ক্রেতাদের ক্রয়ক্ষমতা বেড়ে যাওয়ায় সেখানে আন্তর্জাতিক খুচরা বিক্রেতাদের স্টল সংখ্যা বাড়ছে। এ কারণে ভারতের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়ানোরও বড় সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে এ সুযোগ কাজে লাগাতে বিদ্যমান বাধাগুলো দূর করতে হবে। এ জন্য ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
এসময় ভারতের ব্যবসায়ীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ করারও আহ্বান জানানো হয়।
ভারতের কটন ট্যাক্সটাইল এক্সপোর্ট প্রোমশন কাউন্সিলের চেয়ারম্যান উজ্জল লাহোতি বলেন, ভারত বাংলাদেশ থেকে অনেক বেশি পোশাক আমদানি করে। তবে ভারত পোশাক তৈরির অনেক কাঁচামাল উৎপাদন করে। তাই বাংলাদেশকে আরো বেশি কাঁচামাল আমদানির আহ্বান জানান তিনি।
উজ্জল লাহোতির নেতৃত্বে ২৫ সদস্যের প্রতিনিধি দল তিন দিনের সফরে আজ ঢাকায় আসেন। সফরে দু’দশের মধ্যে বাণিজ্যে’র নতুন সম্ভাবনা বিষয়ে আলোচনা করবেন তারা।
অনুষ্ঠানে আরো উপস্থিত ছিলেন বিজিএমইএর প্রথম সহসভাপতি মঈন উদ্দিন আহমেদ মিন্টু, সহসভাপতি মোহাম্মদ নাছির প্রমুখ।







