বাংলাদেশের বনভূমিগুলোর মধ্যে অন্যতম চিরসবুজ বনভূমি। আমাদের দেশের পাখিদের একটি বড় অংশের দেখা পাওয়া যায় এই বনভূমিগুলোতে। এসব পাখি সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি চিরসবুজ বনের প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় পালন করছে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।
বাংলাদেশের চিরসবুজ ও মিশ্র-চিরসবুজ বনভূমিগুলোতে বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদের সমারোহ থাকার কারণে বেশ কিছু প্রজাতির পাখি এসব বনে পাওয়া যায় যাদের অন্য বনে দেখা যায় না। চিরসবুজ বনের পাখিদের মধ্যে রয়েছে ময়না, টিয়া, ধনেশ, হরিয়াল, নীলকণ্ঠ, ভীমরাজ, মৌটুসিসহ অন্যান্য পাখি।
এসব পাখি আকার-আকৃতি, বর্ণ এবং স্বভাবে বেশ বৈচিত্র্যময়।
নানা প্রজাতির স্থানীয় পাখির সঙ্গে শীতকালে যোগ দেয় পরিযায়ী পাখির দল। এদের বিচরণে চিরসবুজ বন হয়ে ওঠে হাজারো পাখির স্বর্গরাজ্য।
বনের খাদ্যশৃঙ্খলে স্বাভাবিক ধারা বজায় রাখা, ক্ষতিকর কীটপতঙ্গ নিয়ন্ত্রণ, উদ্ভিদের পরাগায়ণ ও বীজের বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে এই পাখিদের।
তবে পরিবেশ বিপর্যয়ের ফলে অস্তিত্বের হুমকিতে পড়েছে বনের এই পাখিরা। ক্রমাগত বনভূমি উজাড় করার ফলে বনের পাখিরা তাদের আবাসস্থল হারাচ্ছে। একই সঙ্গে বনাঞ্চলে ফলজ উদ্ভিদ কমে যাওয়ায় খাদ্যসঙ্কটে ভুগছে তারা। ফলে বেশ কিছু পাখি এখন বিপন্ন, এতে ভারসাম্য বিঘ্নিত হচ্ছে গোটা বনের প্রতিবেশ ব্যবস্থায়। 
তাই চিরসবুজ বনের পাখি সংরক্ষণে প্রাকৃতিক বনভূমি রক্ষার কোনো বিকল্প নেই।








