কিশোর মুক্তিযোদ্ধা জসিম হত্যার দায়ে জামায়াত নেতা মীর কাসেম আলীকে দেওয়া মৃত্যুদ-াদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে আবেদন খারিজ করে ওই রায় দেন আদালত। এটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন রায়ের কপি কারা কর্তৃপক্ষের কাছে পৌঁছানোর পর সরকারের নির্দেশে আসামীর দ- কার্যকর করা যাবে। তবে এর আগে রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করতে পারবে আসামী। প্রাণভিক্ষার আবেদন করা হবে কিনা তা আসামীর বিষয় বলে জানিয়েছেন তার আইনজীবী।
মঙ্গলবার সকাল নয়টার দিকে প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ এ রায় দেন। বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা হলেন, বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন, বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী, বিচারপতি মির্জা হোসেইন হায়দার ও বিচারপতি মোহাম্মদ বজলুর রহমান।
রায়ে রিভিউ আবেদন খারিজ হওয়ায় মাধ্যমে মীর কাসেম আলীর সব আইনি প্রক্রিয়া শেষ হলো। বাকি থাকল প্রাণভিক্ষার বিষয়টি।
রায়ের পর প্রতিক্রিয়ায় এটর্নি জেনারেল বলেন, “আমাদের সমস্ত উদ্বেগের অবসান হয়েছে।যুদ্ধাপরাধী মীর কাসেম আলী যে রিভিউ পিটিশন দায়ের করেছিলেন সেই রিভিউ পিটিশন আজ খারিজ করে দেওয়া হয়েছে।সর্বোচ্চ আদালত তাদের রায় একটু সংশোধন করেছেন। সেটা হলো ১৪ নম্বর অভিযোগে নাসির উদ্দীন চৌধুরীকে ডালিম হোটেলে নিয়ে অমানুসিক নির্যাতন করা হয়েছিলো সেই অভিযোগে তাকে ১০ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিলো। সেই দণ্ড আপিল বিভাগ বহাল রেখেছেন কিন্তু রায়ের অপারেশন অধ্যায়ে সেটার উল্লেখ ছিলো না সেটা তারা সংশোধন করেছেন।”
পুনর্বিবেচনায় রায় এবং পরবর্তী আইনী প্রক্রিয়া সম্পর্কে ব্যাখ্যা করে এটর্নি জেনারেল বলেন, জসিম হত্যায় যে মীর কাসেম জড়িত সেটা সাক্ষ্য প্রমাণে স্পষ্টভাবে প্রতিভাত হয়েছে। এখন মীর কাসেমকে এটা জানানোর পর তিনি যদি মনে করেন রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষা করবেন সেক্ষেত্রে তিনি আবেদন করতে পারেন। আবেদন করলে রাষ্ট্রপতির সিদ্ধান্তের পরই দণ্ড কার্যকর করার প্রক্রিয়াটা শুরু হবে। রাষ্ট্রপতি যদি প্রাণভিক্ষা দেন সেটা আলাদা কথা।রাষ্ট্রপতি যদি তা নাকচ করে দেন সেক্ষেত্রে রাষ্ট্র যখন চাইবে তখনই তার দণ্ড কার্যকর করা যাবে।
রায় ঘোষণার সময় আসামীপক্ষের প্রধান আইনজীবী খন্দকার মাহবুব হোসেন উপস্থিত না থাকলেও পরে প্রাণভিক্ষার বিষয়ে নিজেদের মতামত জানান তিনি। খন্দকার মাহবুব হোসেন
বলেন, আপিল বিভাগ দেশের সর্বোচ্চ আদালত। তারা সাজা বহাল রেখেছেন এখানে আমার কিছু বলার নাই। কিন্তু মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে, মিথ্যা সাক্ষ্য প্রমাণ উপস্থাপন করে এ সাজা দেওয়া হয়েছে। সেক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ বিবেচনা করবে, ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বিবেচনা করবে যে এই বিচার সঠিক হয়েছে কি না।”
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দেওয়া মীর কাসেম আলীর মৃত্যুদণ্ডাদেশ বহাল রেখে আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় গত ৬ জুন প্রকাশ করা হয়।







