বড় মেয়েকে জাপানে রেখে এসে আবার বাংলাদেশে আইনি লড়াইয়ে ফিরছেন জাপানি নাগরিক এরিকো নাকানো।
বুধবার (১০ জুলাই) দুপুরে তিনি বাংলাদেশে ফিরেছেন এবং আগামীকাল সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে তিনি উপস্থিত হবেন বলে জানান তার আইনজীবী।
এর আগে বড় মেয়েকে নিয়ে এরিকো নাকানোর বাংলাদেশ ছেড়ে জাপানে চলে যাওয়ার ঘটনায় আদালত অবমাননার অভিযোগে আবেদন করা হয়। শিশুর বাবা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিক ইমরান শরীফ আদালতে এই আবেদন করেন। সে আবেদনটি আপিল বিভাগের বৃহস্পতিবারের কার্যতালিকার ৩২ নম্বর আইটেমে শুনানির জন্য এসেছে।
এই দম্পতির দুই শিশুর হেফাজত নিয়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শিশুদের বাবার করা এক আবেদনের চূড়ান্ত শুনানি শেষে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্ট রায় দেন। রায়ে বলা হয়, ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত মেজ মেয়েটি তাঁর বাবা ইমরান শরীফের হেফাজতে থাকবে। আর বড় মেয়ে তার মা এরিকো নাকানোর হেফাজতে থাকবে। তবে মেজ সন্তান বাবার কাছে থাকবে, এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন এরিকো, যা চেম্বার আদালত হয়ে গত ১১ মার্চ আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য ওঠে। সেদিন আদালত আবেদনটির শুনানি ২১ এপ্রিল পর্যন্ত মুলতবি করেন। এই সময়ের মধ্যে তাকে নিয়মিত লিভ টু আপিল (আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন) করতে বলা হয়। এরিকো ইতিমধ্যে নিয়মিত লিভ টু আপিল করেছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী।
এদিকে হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে শিশুদের বাবা ইমরান শরীফ একটি আবেদন (লিভ টু আপিল) করেন, যা ৯ এপ্রিল আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে শুনানির জন্য ওঠে। সেদিন চেম্বার আদালত ১৫ এপ্রিল শুনানির জন্য দিন ধার্য করেন। এই সময় পর্যন্ত মামলার বিষয়ে স্থিতাবস্থা বজায় রাখতে পক্ষগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে সেদিন দুপুরে বড় মেয়েকে নিয়ে জাপানের উদ্দেশে বাংলাদেশ ছাড়েন এরিকো। এরপর এরিকোর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগে ইমরান আবেদন করেন।
এর আগে দুই শিশুর হেফাজত নিয়ে বিচারিক আদালতের দেওয়া সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে শিশুদের বাবার করা পারিবারিক আপিল নামঞ্জুর করে গত বছরের ১২ জুলাই রায় দেন ঢাকার জেলা জজ আদালত। এই রায়ের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট আবেদন (সিভিল রিভিশন) করেন তাদের বাবা। প্রাথমিক শুনানি নিয়ে গত বছরের ২৩ জুলাই হাইকোর্ট রুলসহ আদেশ দেন। রুল আংশিক চূড়ান্ত ঘোষণা করে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রায় দেন হাইকোর্ট। ওই রায়ে বলা হয়, উভয় পক্ষেরই (শিশুদের বাবা ও মা) সন্তানদের দেখার অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। দুই সন্তানের সঙ্গে মা-বাবা দেখা করতে পারবেন। আর এটি করতে ইমরান শরীফ এবং এরিকো নাকানোর একে অপরকে অনুমতি দেওয়া দায়িত্ব।
জাপানের নাগরিক এরিকো ও বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত ইমরানের ২০০৮ সালের ১১ জুলাই বিয়ে হয়। তাদের তিনটি মেয়েসন্তান আছে। ২০২১ সালের ১৮ জানুয়ারি এরিকোর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের আবেদন করেন ইমরান। একই বছরের ২১ ফেব্রুয়ারি দুই মেয়েকে (বড় ও মেজ) নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসেন ইমরান। তবে ইমরানের কাছ থেকে দুই মেয়েকে ফিরে পেতে ঢাকায় এসে ২০২১ সালের আগস্টে হাইকোর্টে রিট করেন এরিকো।








