১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যার প্রতিবাদকারী ‘প্রতিরোধ যোদ্ধাদের’ চিহ্নিত করতে উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করে দিয়েছেন হাইকোর্ট।
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব, সমাজকল্যাণ সচিব ও অর্থসচিবকে নিয়ে করা এই কমিটিকে আগামী ৪ আগস্টের মধ্যে ‘প্রতিরোধ যোদ্ধাদের’ চিহ্নিত করার বিষয়ে আদালতে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
ছয় জন ব্যক্তির (প্রতিরোধ যোদ্ধা দাবী কারি) করা এসংক্রান্ত এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে রিটটি চলমান রেখে বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সোমবার এই রায় দেন। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী বাকির উদ্দিন ভূঁইয়া। আর রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশগুপ্ত।
আজ রায়ের পর রিট আবেদনকারী পক্ষের আইনজীবী বাকির উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের সদস্যদের ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের পর তৎকালীন সামরিক সরকার মিছিল-মিটিং বন্ধ করে দেয়। তা সত্ত্বেও নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জ, নরসিংদী, খুলনা, চাদপুরের ফরিদগঞ্জ ও ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রতিবাদ হয়। ১৯৭৫ সালে জাতীয় মুক্তি বাহিনী ও জাতীয় মুজিব বাহিনী নামে দুটি সশস্ত্র প্রতিরোধ বাহিনী গঠিত হয়। বঙ্গবন্ধু ভক্ত ছাত্র, তরুণ ও মুক্তিযোদ্ধারা তখন ওই বাহিনীতে যোগ দিয়ে ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। সপরিবার বঙ্গবন্ধুকে হত্যার ৪৭ বছর পার হলেও সেই প্রতিরোধ যোদ্ধাদের রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। তাই পাচজন প্রতিরোধ যোদ্ধা ২০২২ সালে হাইকোর্টে রিট করেন। সে রিটের শুনানি শেষে রায় দিলেন হাইকোর্ট।’








