জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা ষড়যন্ত্রে দেশী-বিদেশী শক্তিগুলোর সম্পৃক্ততা খুঁজে বের করতে উদ্যোগ নেয়ার আহবান জানিয়ে কানাডাপ্রবাসী বাংলাদেশিরা বলেছেন,বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডে বিদেশি রাষ্ট্রের ভূমিকা বিশেষ করে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ’র ভূমিকার অবশ্যই তদন্ত হওয়া উচিৎ।
টরন্টোর বাম প্রগতিশীল বাংলাদেশীদের বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠন প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক উদ্যোগ (পিডিআই)’র উদ্যোগে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে মুক্ত আলোচনায় বক্তারা দেশে দেশে সিআইএ’র নানা কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন।
ডাকসুর সাবেক এজিএস নাসির উদ-দোজা বক্তৃতায় বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পেছনে বিদেশী শক্তি বিশেষ করে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা সিআই’র ভূমিকা তদন্তের আওতায় আনা দরকার। বাংলাদেশ সরকারের উচিৎ এই ব্যাপারে মার্কিন সরকারের কাছে দাবি তোলা।
দৈনিক ইত্তেফাকের সাংবাদিক ফরিদা ইয়াসমিন কানাডায় বসবাসরত বঙ্গবন্ধুর খুনী নুর চৌধুরীকে কানাডা থেকে বহিষ্কারের জন্য সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করতে প্রবাসীদের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, কানাডার নাগরিক হিসেবে আপনারা আপনাদের সরকারের উপর চাপ প্রয়োগ করুন- আপনারা একজন খুনীর সঙ্গে সহাবস্থান করতে চান না- এই বার্তাটি আপনাদের সরকারের কাছে তুলে ধরুন।
প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আজিজুল মালিক বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন। সেই স্বপ্ন থেকেই তিনি সংবিধানে চারটি মূল নীতির সন্নিবেশ ঘটিয়েছিলেন। রাষ্ট্রীয় জীবনে সেই চার মূল নীতি না থাকলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শের বিচ্যূতি ঘটবে।
মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া বলেন, মুক্তিযুদ্ধের চার মূল নীতি তথা ৭২ এর সংবিধান পুনঃপ্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়েই জাতির জনক বঙ্গবন্ধু হত্যার যথাযথ প্রতিশোধ নেওয়া সম্ভব। কেননা, বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মধ্য দিয়ে দেশকে পেছনমুখী করা হয়েছিলো, ৭২ এর সংবিধানে ফিরে যাওয়ার মধ্য দিয়েই দেশকে আবারো সম্মুখমুখী করা সম্ভব।
টিটু খন্দকার মূল প্রবন্ধে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বর্ণাঢ্য জীবনের বিভিন্ন পর্যায়গুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ১৯৭৫ সালে আওয়ামী লীগের ব্যর্থতা এবং কমিউনিষ্ট পার্টি ও ন্যাপ এর ভুল ১৫ আগষ্টের পরিস্থিতি তৈরিতে সহায়তা করেছে। তিনি বলেন, বাকশালে যোগ না দিয়ে ন্যাপ-কমিউনিষ্টি পার্টি কার্যকর বিরোধী দলের ভূমিকায় নামলে জাসদের ছত্রচ্ছায়ায় স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটতো না।
অনুষ্ঠানটির সঞ্চালক, সাবেক ছাত্রনেতা মাহবুব আলম বলেন, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব একজন সার্বজনীন নেতা। সেই বিশ্বাস থেকেই আওয়ামী লীগের দলীয় ফোরামের বাইরে মহান এই নেতার কর্মময় জীবন নিয়ে আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুর জীবন আদর্শের মূল্যায়নের মধ্য দিয়েই তিনি যে একজন সার্বজনীন নেতা তা প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।
পিডিআই আহ্বায়ক, প্রবীণ সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আজিজুল মালিকের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আরো বক্তৃতা করেন বিদ্যুৎ রঞ্জন দে, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার আসামী মাহাফুজুল বারী, ‘নতুনদেশ’ এর প্রধান সম্পাদক শওগাত আলী সাগর, ফারহানা আজিম শিউলী, ড. মনজুরে খোদা টরিক, মো: মাশুক, সৌমেন সাহা এবং মিনারা বেগম।






