নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং দ্রুত নিয়োগের দাবিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে চাকরি প্রত্যাশী চিকিৎসকরা। এখন পর্যন্ত তারা উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. সাহানা আখতার রহমানকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রেখেছে। চাকরি প্রত্যাশী চিকিৎসকদের দাবি, উপাচার্য এলে তার সঙ্গে কথা বলে নিয়োগের আশ্বাস পেলে তারা বিক্ষোভ ও অবরোধ কার্যক্রম বন্ধ করবে।
বুধবার দুপুর থেকে তারা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ শুরু করে। বিক্ষোভের এক পর্যায়ে চাকরি প্রার্থীরা মিছিলসহ উপাচার্যের কার্যলয়ে যান এবং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা.সাহানা আখতার রহমানকে তার কার্যালয়ে অবরুদ্ধ করে রাখে।
জানা যায়, মঙ্গলবার বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেটে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। তার প্রেক্ষিতে বুধবার বেলা ১২টার দিক থেকে প্রায় চার শতাধিক চাকরি প্রত্যাশীরা ক্যাম্পাসে জড়ো হতে থাকে। পরে মিছিলসহ ক্যাম্পাসের বিভিন্ন এলাকা প্রদক্ষিণ করে বিক্ষুব্ধরা।
এক পর্যায়ে বেলা ২টার দিকে তারা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ব্লকে যায় এবং উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে দ্রুত নিয়োগের দাবিতে স্লোগান দিতে থাকে। এসময় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া তার কার্যলয়ে না থাকায় উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ডা. সাহানা আখতার রহমানের কার্যালয় অবরুদ্ধ করে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র চ্যানেল আই অনলাইনকে নিশ্চিত করেছে দুপুর দুইটা থেকে এখন পর্যন্ত তাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছে বিক্ষুদ্ধ চিকিৎসকরা।
জানতে চাইলে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ডা. সাহানা আখতার রহমান মন্তব্য প্রকাশে অনীহা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এ বিষয়ে আমি কোন কথা বলব না। যা বলার উপাচার্য স্যার বলবেন।
এ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ডা. কনক কান্তি বড়ুয়া বলেন, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত রাউন্ড শেষ করে বুধবার দুপুরে বিসিপিএস’র উদ্দেশ্যে রওনা করি। গাড়ি মগবাজার ফ্লাইওভারের ওপর ওঠার পর খবর পাই চাকরি প্রার্থীরা প্রশাসন ভবনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে এবং উপ-উপাচার্য (শিক্ষা)’র কক্ষ অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
অধ্যাপক ডা. কনক বলেন, উপ-উপাচার্যের কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ অন্যান্য কর্মকর্তারা আছেন। তাদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। আশা করছি অল্প সময়ে তারা বেরিয়ে আসবেন।
বিক্ষোভকারী চিকিৎসকদের কয়েকজন চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, চলতি মাসের ২৭ সেপ্টেম্বর নিয়োগ পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অদৃশ্য কারণে ২৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করে কর্তৃপক্ষ। তাই আমরা বিক্ষোভ করছি। এখন উপ-উপাচার্যকে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। নিয়োগের আশ্বাস না পাওয়া পর্যন্ত বিক্ষোভ চলবে।
পরিস্থিতি সম্পার্কে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়েল প্রক্টর অধ্যাপক ডা. সৈয়দ মোজাফফর আহমেদ চ্যানেল আই অনলাইনকে বলেন, ম্যাডাম অবরুদ্ধ রয়েছেন। আমরা ম্যাডামের সঙ্গে আছি। যারা অবরুদ্ধ করেছে তারাও চিকিৎসক, আমাদের ছাত্র। আমার তাদের বোঝানোর চেষ্টা করছি। আশা করছি তাদের বুঝিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারব।







