যে বাংলাদেশ ৪৮তম স্বাধীনতা দিবস পালন করেছে, তার সঙ্গে জড়িয়ে আছে উজ্জ্বলতম নাম– বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পাকিস্তান সৃষ্টির পর থেকেই আমাদের প্রতি পশ্চিমাদের বৈষম্য অবহেলা বঙ্গবন্ধুকে স্পর্শ করেছিল। তিনি ছাত্রজীবন থেকেই পাকিস্তানি সরকারের সকল অন্যায় অবিচার আর শোষণের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিলেন। জেল খেটেছেন, মামলায় জর্জরিত হয়েছেন। কিন্তু অভীষ্ঠ লক্ষ্য থেকে কখনো সরে যাননি। তিনি তাঁর আত্মজীবনীতে লিখেছেন, তিনি রাজনীতি করেন ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য। কারণ ক্ষমতায় যেতে না পারলে তার দেশের মানুষের জন্য তিনি কিছু করতে পারবেন না। আর এই ক্ষমতা পশ্চিমারা যে আমাদের দেবে না, এটাও জানতেন। ফলতঃ তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিষয়টি চূড়ান্ত করেছিলেন। আর এই চূড়ান্ত লক্ষ্যে তিনি তাড়াহুড়ো না করে ধীরে চলার পথ অনুসরণ করেছেন। ক্রমে দেশের মানুষকে বোঝাতে সক্ষম হয়েছিলেন যে স্বাধীনতার বিকল্প নেই। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গোপন নথিতেও সেটা পরিস্কার। চার দশকেরও বেশি সময় পর সিআইএ তার অতি গোপনীয় একাত্তরের নথিগুলো প্রকাশ করেছে। গত দুই বছরে তারা ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ স্বাধীনতাযুদ্ধ বিষয়ক বেশ কিছু ‘টপ সিক্রেট’ ব্রিফও অবমুক্ত করেছে। সিআইএর ওই নথিতে লেখা হয়েছিল যে ‘মার্কিন কনসাল ব্লাড বিশ্বাস করেন, যদি নাটকীয় কোনো অগ্রগতির ঘটনা না ঘটে, তাহলে আগামী ৭ই মার্চ রোববার (১৯৭১) মুজিবের তরফে স্বাধীনতা ঘোষণা করার সম্ভাবনা ক্রমশ বাড়ছে। ২০১৬ সালের ১৯ জুলাই অবমুক্ত করা একাত্তরের ৪ মার্চের ওই নথিটি নিক্সনকে জানানো হয়েছিল: গণপরিষদের অধিবেশন স্থগিত করায় পূর্ব পাকিস্তানিদের ক্ষোভ প্রশমনে ইয়াহিয়ার নেওয়া পদক্ষেপ মুজিব নাকচ করেছেন। ইয়াহিয়া মুজিবকে এটা অবহিত করতে বলেছিলেন যে গণপরিষদ শিগগিরই বসতে সক্ষম হবে। মুজিব দ্রুততার সঙ্গে ঘোষণা করেছেন যে তিনি তাতে যোগ দেবেন না। কারণ হিসেবে বলেছেন, এটা স্থির করা হচ্ছে ‘বন্দুকের নলের মুখে’। বাঙ্গালির স্বাধীনতার বিষয়ে বঙ্গবন্ধুর দৃঢ়চেতা মনোভাবই এদেশের স্বাধীনতা ত্বরান্বিত করেছে। তার অবিচল আস্থা ও সাহস আর জনগণের উপর প্রবল বিশ্বাস এনে দিয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা। বাংলাদেশের স্বাধীনতা একদিনের কোনো ঘটনা নয়। ১৯৫৪ সাল থেকে মূলতঃ বাঙ্গালির স্বাধীকার আন্দোলন ক্রমে একটি স্থির বিন্দুতে এসে আমাদের মহান স্বাধীনতায় রূপ নিয়েছে। এই দেশের স্বাধীনতার রূপকার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এই দেশের ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তাকে ছাড়া বাংলাদেশকে কল্পনা করা অসম্ভব। যারা এই বিষয়টিকে এড়িয়ে গিয়ে তাকে শুধুমাত্র বাংলাদেশের স্বাধীনতার অানুষ্ঠানিক নেতা হিসেবে মনে করেন, তারা আসলে বাংলাদেশের অস্তিত্বে বিশ্বাস করেন না। এই সব ইতিহাস বিকৃতকারী রাজনৈতিক দল, সুশীল নেতা বাংলাদেশের অস্তিত্ব স্বীকার করলেও প্রকৃত অর্থে এদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে আস্থা রাখেন না। ইতিহাস বঙ্গবন্ধুকে স্বীকৃতি দিয়েছেন এই দেশের ধারাবাহিক সংগ্রাম ইতিহাসের প্রতিটি অধ্যায়ে। তাকে ছাড়া বাংলাদেশ শব্দটি উচ্চারণ হয়না এবং হবেও না।







